"পুজোর শপিং এর দ্বিতীয় পর্ব: ছোট্ট বেলার স্মৃতি রোমন্থন"
![]()
|
|---|
Hello,
Everyone,
গতকাল দিদি ও দিদির মেয়ের (তিতলির) সাথে পুজোর কেনাকাটা করতে গিয়ে, নিজেদের ছোটোবেলার পুজোর দিনগুলো নিয়ে অনেকক্ষণ কথা বললাম দিদির সাথে।
এখনকার দিনে গ্ৰাম শহর নির্বিশেষে সকলেই চেষ্টা করেন, নিজের বাচ্চাদের জন্য পুজোর আগেই জামা কাপড় কেনাকাটা করার। সকলেই সকলের সাধ্যমতো নিজের বাচ্চাদের সেরা জিনিসটা দিতে চান।আমাদের বাবা-মায়েরাও হয়তো সেটাই চাইতেন, তবে অনেক সময় ইচ্ছা থাকলেও আর্থিক কারণে সেটা সব সময় পূরণ করা সম্ভব হতো না।
তাই পুজোতে নতুন জামা পাওয়ার অপেক্ষা আমাদের সপ্তমী/অষ্টমী পর্যন্ত চলতো। সাধারনত সপ্তমীর দিন বিকেলে বা রাতেই পুজোর নতুন জামা পেতাম আমরা। যাতে অষ্টমীর দিন আমরা সেটা পরতে পারি।
![]()
|
|---|
তবে গতকাল মলে মানুষের এতো ভিড় দেখে মনে হলো যে, আজকালকার বাচ্চাদের কাছে আমাদের ছেলেবেলা সেই দিনগুলোর কথা শুধুই গল্প মনে হবে। কারণ এখনকার দিনে কোনো বাচ্চাকে বোধহয় সপ্তমীর দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করানো সম্ভব হবে না।
তবুও যেন আমাদের ছেলেবেলার সেই দিনগুলোই অনেক বেশি সুন্দর ছিলো। আজকালকার দিনে বাচ্চাদের পুজোর পাঁচ দিন পাঁচটি ভিন্ন জামা কিনে দিলেও, বোধহয় আমাদের সেই ছোট্টবেলার আনন্দ তারা উপলব্ধি করতে পারবে না।
সত্যি বলতে পুজোর পাঁচ দিন পাঁচটা জামা পরার কথা আমাদের ছোটবেলায় স্বপ্ন ছিলো। একটা সুন্দর জামা অষ্টমীর দিন পরতে পারবো, এর জন্যই আমরা সারা বছর এই দূর্গা পুজোর অপেক্ষা করতাম।
![]()
|
|---|
পরবর্তীতে অবশ্য জীবনে অনেক পরিবর্তন এসেছে। আর এখনতো সবটাই বদলে গেছে। যেখানে নিজেদের জন্য কোনো কিছু কেনার আগে, বাচ্চাদের জন্য কেনাকাটা করতেই ব্যস্ত হয়ে পরি আমরা। মানুষের সাথে সাথে এইরকম ভাবেই বোধহয় মানুষের জীবনের চাহিদাও পরিবর্তন হয়।
আগের একটা পোস্টে আপনাদের সাথে ননদের সাথে শপিং করার অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছিলাম। আর গতকাল বেরিয়েছিলাম দিদি, তিতলি এবং আমি। তাতান অবশ্য বাড়িতেই ছিলো। দিদিদের ওইখানেই বাজার কলকাতায় গিয়েছিলাম আমরা।
![]()
|
|---|
তিতলি ও তাতানের জন্যেই মূলত গতকাল কেনাকাটা করতে গিয়েছিলাম। তার সাথে সাথে বাবা, দিদি ও দিদির হাজব্যান্ডের জন্যেও কেনাকাটা করলো দিদি। তার সাথে আমাকেও একটা কুর্তি কিনে দিয়েছে। আসলে আমি আর দিদি একই রকম কুর্তি কিনেছি, পুরীতে গিয়ে একদিন দুজনে পরবো ঠিক করেছি।
যাইহোক কেনাকাটা করে বাড়িতে ফিরতে আমাদের রাত প্রায় ১০.৩০ বেজে গিয়েছিলো। বাড়িতে ফিরে বাবা, দাদা, সবাইকে সবকিছু দেখালাম।
![]()
|
|---|
আচ্ছা সবশেষে জানাই আমি শুধুমাত্র তিতলি ও তাতানের জন্য শপিং করতে গিয়েছিলাম এমনটা নয়, ওরা অনেকদিন ধরে আমাদের বাড়িতে আসার বায়না করছিলো। গতমাসের ৩০ তারিখে তিতলির পরীক্ষা শেষ হয়েছে।
![]()
|
|---|
তাই গতকাল সন্ধ্যায় গিয়ে শপিং করার কাজটাও সেরে নিয়েছিলাম। আর আজ সকালে তিতলি ও তাতানকে আমাদের বাড়িতে নিয়ে এসেছি। ভীষণ খুশি হয়েছে দুজন। দারুন আনন্দ করেছে সারাদিন। এইভাবেই গতকালের সন্ধ্যাটা দিদির সাথে পুজোর শপিং করে কাটালাম।
আশাকরি আপনাদের সকলের দিনটাও ভালো কেটেছে। আমার দিনটা খুবই ব্যস্ততার মধ্যে কেটেছে, কারন দুজনকে নিয়ে আমার আজ নাজেহাল অবস্থা হয়েছে। যাইহোক ভালো থাকবেন সকলে। শুভরাত্রি।






