"জগন্নাথ দেবের কৃপায় প্রথমবার পুরী ধামে যাওয়ার প্রস্তুতি পর্ব"
|
|---|
Hello,
Everyone,
ব্যাগ গোছানোর পর্ব ইতিমধ্যেই শেষ হয়েছে। আর এই মুহূর্তে আমি বসে আছি লোকাল ট্রেনে। ঘড়িতে এখন রাত ৮.২১। আপনারা নিশ্চয়ই ভাবছেন লোকাল ট্রেনে বসে আমি পোস্ট লেখা শুরু করছি, তাহলে আমার গন্তব্য কোথায়?
আপনাদের সাথে যদিও বর্তমানে আমি সুন্দরবন ভ্রমণের গল্প বিভিন্ন পর্বের মাধ্যমে শেয়ার করছি। তবে এরই মধ্যে একটা নতুন জায়গা ঘুরে দেখার জন্য মনে মনে আমি খুবই আনন্দিত।
সত্য কথা বলতে এই ট্যুরটা যে আদেও হবে সেটা আমি সত্যিই ভাবিনি। কারণ কয়েকদিন আগে শাশুড়ি মায়ের শরীর খারাপের পর, শুভর শারীরিক অবস্থাও এতোটাই খারাপ হয়েছিল যে, ভেবেছিলাম হয়তো পুরীতে যাওয়ার টিকিট ক্যানসেল করতে হবে। তবে জগন্নাথ দেবের ইচ্ছায় শেষ পর্যন্ত তার করত হয়নি।
|
|---|
যাইহোক আপনাদেরকে অনেকদিন আগেই একটা পোস্টে জানিয়েছিলাম, আমার দিদিদের সাথে পুরী ঘুরতে যাওয়ার প্ল্যান এর কথা। এই প্রথমবার জগন্নাথ দেবের ইচ্ছাতে আমি পুরীর উদ্দেশ্যে রওনা করবো। যদিও ট্রেন আগামীকাল রাতে। তবে আমি আজই দিদি বাড়িতে যাচ্ছি।
কারণ সকালের দিকে আমাদের ওখান থেকে ট্রেনে প্রচন্ড ভিড় হয়। সেই সময় লাগেজ নিয়ে আসা আমার একার পক্ষে একটু কঠিন হয়ে পড়তো। তাছাড়া তিতলি এবং তাতানের জামা কাপড় আমার লাগেজের মধ্যেই নেওয়া হবে, যাতে করে ব্যাগের সংখ্যা কমানো যায়। সেই কারণেই আগের দিন রাতে চলে আসা।
|
|---|
|
|---|
বলাই বাহুল্য তিতলি এবং তাতান খুবই আনন্দিত, কারণ অনেকদিন বাদে সমুদ্র দেখবে ওরা। এর আগে যখন দিদিরা পুরীতে গিয়েছিলো, তখন তাতান অনেক ছোটো ছিলো। তাই তিতলি এনজয় করলেও তাতান বেশ ভয় পেয়েছিলো সমুদ্র দেখে।
তবে আমার বিশ্বাস এবার গিয়ে তাতানও অনেক বেশি আনন্দ করবে। প্রসঙ্গত বলে রাখি পুরীর সমুদ্র দর্শন আমারও এই প্রথমবার। তাই মনে মনে আমিও তাতানের মতোই বেশ অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি।
|
|---|
|
|---|
যদিও এবছর গিয়ে আমি পুজো দিতে পারবো না, কিন্তু জগন্নাথ দেবের দর্শন হবে এই প্রত্যাশা মনে রয়েছে। প্ল্যানটা অনেকদিন আগেই হয়েছিলো। টিকিটও কাটা হয়ে গিয়েছিলো অনেক আগেই।
তবে মাঝখানের পরিস্থিতি দেখে আমি ভেবেছিলাম হয়তো জগন্নাথ দেব চাইছেন না আমি ওনার দর্শন পাই। তবে শেষ পর্যন্ত সবটা মোটামুটি ঠিক আছে। তাই আমিও চললাম কয়েকটা দিন একটু আনন্দ করতে।
শুভ স্টেশন পর্যন্ত রাতে এসেছিল প্রতিবার ঘুরতে যাওয়ার আনন্দ মনে থাকবে ও যখন প্লাটফর্ম থেকে ট্রেনটা বেড়ে অজানা কারণেই মনটা খারাপ হয়। রাস্তাঘাটে বেঁধে যাওয়া রোগী দুর্ঘটনার কথা তখন মনে পড়ে কারণ মানুষের জীবন বলতে আমি তাই হয়তো প্রিয় মানুষদের যখন আমারটা দূরে যাওয়া হবে তখন মনটা একটু হলেও ভারাক্রান্ত লাগে।
লেখাটা এই পর্যন্ত লিখেই প্ল্যাটফর্মে নামার প্রস্তুতি নিয়েছিলাম।
|
|---|
বাড়ি থেকে আমার লাগেজ মোটামুটি প্যাক করে নিয়ে এসেছি। তবে এখানে এসে আরও একবার সমস্ত কিছু ঠিকঠাক করে প্যাক করবো। কিছুক্ষণ আগেই আমি আর দিদি বাজার থেকে এলাম। প্ল্যাটফর্মে নামার পর লাগেজটা বাবা যে দিদির ফ্ল্যাটে নিয়ে এসেছিলো। আর আমি দিদির সাথে বাজারে গিয়েছিলাম।
কারণ কিছু ছোট্ট ছোট্ট জিনিস কেনার বাকি ছিলো। সেটাই আমি আর দিদি গিয়ে কিনে নিয়ে এলাম। এখনও পর্যন্ত জামা কাপড় গোছগাছের প্রস্তুতি চলছে। কাল সারাদিন এমনটাই চলবে। কারণ যতক্ষণ বাড়ি থেকে বেরোনো না হবে, বারবারই মনে হবে কিছু রয়ে যাচ্ছে বা কিছু নিতে ভুলে যাচ্ছি।
|
|---|
|
|---|
যাইহোক এখন মোটামুটি গোছগাছ করে শুয়ে পড়বো। আগামীকাল দিদিরও ডিউটি আছে। সারাদিন কি করবো, রাতের জন্য কি টিফিন নেবো, এই সমস্ত নিয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে ইতিমধ্যেই। তবে ফাইনালি কি নেওয়া হবে, সেটা আপনাদের সাথে আগামী কোনো একটা পর্ব শেয়ার করবো।
|
|---|
সুন্দরবন ঘোরার পর্বগুলো আপনাদের সাথে এক এক করে শেয়ার করতে থাকবো। তার পাশাপাশি ক্যামেরাবন্দি করতে থাকবো পুরীতে ঘোরার মুহূর্তগুলোও, যাতে পরবর্তীতে সেগুলো আপনাদের সাথে শেয়ার করতে পারি।
আপাতত আজকে লেখা এখানেই শেষ করলাম। আগামীকাল থেকে শুরু হচ্ছে পুরীর জার্নি। অপেক্ষা করবেন পুরী ভ্রমণের অভিজ্ঞতা গুলো পড়ার। আশাকরি আপনাদের সেগুলোও ভালো লাগবে।
ভালো থাকবেন সকলে। শুভরাত্রি।