"ইন্দিরা একাদশী‌: সারাদিনের বিভিন্ন মুহূর্তের গল্প"

in Incredible India • 2 days ago
IMG_20261007_000951.jpg
"আমাদের বাড়ির গাছে ফুটে থাকা সন্ধ্যা মালতি ফুল"

Hello,

Everyone,

আজ ছিলো ইন্দিরা একাদশী। আশ্বিন মাসের কৃষ্ণপক্ষের একাদশী তিথি হলো এই পবিত্র ইন্দিরা একাদশী।

যারা নিষ্ঠা সহকারে এই একাদশী ব্রত পালন করেন এবং এই একাদশী ব্রত পালনের ফল তাদের পূর্বপুরুষগনের উদ্দেশ্যে অর্পণ করেন, তারা নিজেদের সমস্ত পাপ কর্ম থেকে মুক্তি লাভ করে, বৈকুন্ঠগামী হন বলেই কথিত আছে।

জীবিত থাকাকালীন সময়ে আমরা সকলেই কোনো না কোনো পাপকর্মে লিপ্ত হয়ে থাকি। কখনো আমাদের অজান্তেই এমন কাজ করে ফেলি, যার কর্মফলে আমরা মৃত্যুর পরে স্বর্গবাসী হতে পারি না।

তাই আমাদের পূর্বপুরুষ যারা ইতিমধ্যেই পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করেছেন, আমরা নিষ্ঠা সহকারে সকল নিয়ম মেনে সঠিক ভাবে এই একাদশী ব্রত পালন করে, যদি তার ফল তাদের উদ্দেশ্য প্রদান করি, তাহলে তারাও নিজেদের সমস্ত পাপ থেকে মুক্ত হয়ে স্বর্গ লাভ করার সুযোগ পান। আর এই কারণেই এই ইন্দিরা একাদশীকে পবিত্র একাদশী রূপে পালন করা হয়ে থাকে।

আমার গতকালকের পোস্টেই আপনাদেরকে জানিয়েছিলাম আজ একাদশী ব্রত পালন করবো বলে, গতকাল সংকল্প করে নিরামিষ আহার করেছিলাম। আজ আমি নিষ্ঠা সহকারে এই একাদশীর ব্রত পালন করার চেষ্টা করেছি।

IMG_20261006_091324.jpg
"একাদশীর দিনে শুভ লাঞ্চ এইভাবেই গুছিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করি।"

সারাদিন কি করলাম সে কথাই শেয়ার করবো এই পোস্টের মাধ্যমে। যেহেতু এখন শুভ আমার সাথে একাদশীর ব্রত পালন করছে, তাই সকালে উঠে এই দিনে আর রান্নার কোনো তাড়াহুড়ো থাকে না।

ঘুম থেকে উঠে দেখলাম শাশুড়ি মা ইতিমধ্যেই উঠে পড়েছেন এবং ঠাকুরের শয়ন তোলা, পূজোর ফুল তোলা, সমস্ত কাজ তিনি করে ফেলেছেন। তাই আমি ফ্রেশ হয়ে সবার প্রথমে গরম জল বসালাম। তারপর শুভকে ঘুম থেকে ডেকে দিলাম।

IMG_20261006_091235.jpg
"অন্যান্য দিন এই ব্যাগেই শুভ টিফিন নিয়ে যায়। তবে একাদশীর দিনে এটায় সবকিছু গুছিয়ে দেওয়া সম্ভব হয় না।"
IMG_20261006_091428.jpg
"একাদশীর দিনে টিফিন গুলো এই ভাবেই গুছিয়ে দিতে হয়।"

শুভ ফ্রেশ হওয়ার জন্য উপরে চলে গেলে, আমি ওর অফিসের জন্য টিফিনে যা যা দিতে হবে সেগুলো গুছিয়ে নিলাম। আগে আমি ফল কেটে বক্সে দিতাম। তবে দীর্ঘক্ষণ কেটে রাখা ফল খাওয়া স্বাস্থ্যকর নয় বলে, গত কয়েক সপ্তাহ যাবৎ গোটা ফল ভালোভাবে ধুয়ে দিয়ে দিই।

এছাড়া আমন্ড, খেজুর, সেদ্ধ আলু টুকরো করে কেটে, শসা লঙ্কা কুঁচি করে কেটে, চিনা বাদাম আর আলাদা কৌটোতে করে সৈন্ধব লবনও দিয়ে দিই। এই দিনে অন্য লবণ খেতে নেই, যে কারণেই এই সকল ব্যবস্থা করা।

অন্যান্য দিন যদিও শুভর নির্দিষ্ট টিফিন বক্সে ওকে টিফিন দেওয়া হয়। তবে একাদশীর দিন আর সেই টিফিন বক্স গুলোতে সমস্ত কিছু দেওয়া সম্ভব হয় না। তার থেকে বড় কথা, সেদ্ধ আলুর সাথে শসা, লঙ্কা, এই সমস্ত কিছু লেবু এবং লবণ দিয়ে মেখে খাওয়ার জন্য একটা বড় পাত্রের দরকার।

IMG_20261006_091155.jpg
"একাদশীর দিনের জন্য শুভর ব্রেকফাস্ট"

ওর বক্সগুলো ছোটো, তাই চামচ দিয়ে মেখে খাওয়া সম্ভব নয় বলে, এই দিন একটু আলাদা ভাবে টিফিন গুলো দিতে হয়। সঙ্গে একটা চামচ থাকে, ফলতো ওকে আর আলাদা ভাবে হাত দিতে হয় না। এই সমস্ত কিছু গুছিয়ে রেখে ব্রেকফাস্টে শুভ যে ছাতু খেয়ে যাবে, সেটা গুলে রাখলাম।

আর তার সাথে একটা কলাও দিলাম। শাশুড়ি মা গতকালই বাজার থেকে বেশ অনেকগুলো কলা এনে রেখেছেন। আসলে শুভ অন্যান্য কোনো ফল তেমন খেতে চায় না। তবে একাদশীর দিনে কলা খেলে পেট বেশিক্ষণ ভরা থাকে এবং শুভ কলা খেতে পছন্দ করে, সেই কারণেই বেশি করে কলা আনা।

IMG_20261006_130100.jpg
"ইন্দিরা একাদশীর দিনে বাড়ির নিত্য পুজোর মুহূর্ত"

যাইহোক শুভ বেরিয়ে যাওয়ার পর আমি ঘরের কাজ গুছিয়ে নিলাম। দু একটা জামা কাপড় ধোয়ার কাজ বাকি ছিলো, সেগুলো সেরে তারপর স্নান করলাম। এরপর ঠাকুর ঘরে গিয়ে সমস্ত কিছু গুছিয়ে ঠাকুর পূজো শেষ করলাম। আর সবশেষে ইন্দিরা একাদশীর ব্রতকথা এবং একাদশীর মাহাত্ম্য পড়ার মাধ্যমে পুজো সম্পূর্ণ করলাম।

IMG_20261006_130551.jpg
"ইন্দিরা একাদশী ব্রত কথা পাঠ করার সময় তোলা ছবি।"

পূজোর প্রসাদে যে ফল দিয়েছিলাম, পুজোর শেষে সেগুলোই আমি খেয়েছি। দুপুরের দিকে আমি আলাদা করে আর কিছু খাই না। তাই এরপর বেশ কিছুক্ষণ সময় টিভি দেখলাম। দুপুরে শাশুড়ি মায়ের জন্য শুধু অল্প একটু ভাত করেছিলাম। গতকালকের তরকারি ফ্রিজে রাখা ছিলো, সেটা দিয়েই ওনার আজ দুপুরের খাওয়া সম্পূর্ণ হয়ে যাবে বলে, আলাদা করে আজ আর কোনো কিছু রান্না করতে হয়নি।

এরপর বেশ কিছুক্ষণ সময় টিভি দেখলাম আর তারপর কিছুক্ষণ ঘুমিয়ে নিলাম। সন্ধ্যা বেলায় উঠে যথারীতি সন্ধ্যা পুজো দিয়ে শুভ আসলে ওকে কলা, আর তার সাথে কয়েকটা কাজুবাদাম দিয়ে দিলাম‌। সাথে আমিও একটা কলা খেয়ে নিলাম।

IMG_20261006_091438.jpg
"গতকাল শাশুড়ি মা এক ডজন কলা কিনে এনেছিলেন আজ একাদশীর জন্য।"

অন্যান্য একাদশীর দিনের মতোই রাতে খাওয়ার জন্য আলু সেদ্ধ করে, সেটাকে শসা কাঁচা লঙ্কা, লেবু ও বাদাম সবকিছু দিয়ে মেখে সেটাই আমি আর শুভ খেয়ে নিয়েছিলাম। শাশুড়ি মায়ের জন্য রুটি করলাম, তিনি দুধ দিয়ে রুটি খেয়ে নিয়েছেন।

এরপর বেশ কিছুক্ষণ ফোনে কথা বলে তারপর বসলাম পোস্ট লিখতে। এভাবে আজকের দিনটা পার হয়েছে। আগামীকাল সকালে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পারণ সম্পন্ন করতে হবে। তাছাড়া আগামীকাল শুভর অফিসও রয়েছে, তাই রান্নার কাজও সামলাতে হবে। সত্যি কথা বলতে আমি আমার মতো করে চেষ্টা করি সবটা পালন করার, তবে আদেও কতটা সঠিকভাবে করতে পারি সেটা জানি না।

যাইহোক সারাদিনের কার্যক্রম সম্পর্কে আজকের এই লেখা পড়ে আপনাদের কেমন লাগলো, তা মন্তব্যের মাধ্যমে সকলে জানাবেন। আপনাদের সকলের দিনটি আশা করি ভালো কেটেছে। আর সামনের দিনগুলো আরো সুন্দর ও ভালোভাবে কাটুক, সেই প্রার্থনা করে আজকের লেখা শেষ করছি।

ভালো থাকবেন। শুভরাত্রি।

Sort:  

Curated by @ adeljose

Loading...