"দূর্গাপুজোর সপ্তমীর দিন ভোরবেলায় সুন্দরবন যাত্রা শুরু হলো"
![]()
|
|---|
Hello,
Everyone,
শুভ সকাল সবাইকে।
দিনটা আজ অনেক ভোর থেকে শুরু হয়েছে। অনেকটা সকালে উঠতে হবে এই কারণে গতকাল রাতে ভালো ঘুমও হয়নি। ভোর ৫.৪২ মিনিটের ট্রেন ধরতে হবে এবং তার আগে রেডি হয়ে স্টেশনে পৌঁছানোর জন্য আমি প্রায় সাড়ে চারটা নাগাদ ঘুম থেকে উঠেছি।
কতদিন বাদে এমন ভোরবেলায় ঘুম থেকে উঠলাম ঠিক মনে করতে পারছি না। লাস্ট যেদিন সিকিম গিয়েছিলাম সেদিন অনেকটা রাতে আমরা নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশনে পৌঁছেছিলাম, সেদিনও ঘুম হয়নি সারারাত।
![]()
|
|---|
যাইহোক অবশেষে সুন্দরবন যাত্রা শুরু হলো। এই মুহূর্তে বসে আছি শিয়ালদহ যাওয়ার ট্রেনে। তাই ভাবলাম বসে বসে অন্তত পোস্ট লেখা শুরু করি। ওখানে পৌঁছে নেটওয়ার্ক এর আদেও কি অবস্থা থাকবে সেটা জানিনা। আচ্ছা প্রথমেই বলি আমরা কে কে এই সুন্দরবন ট্যুরে যাচ্ছি। আমি, আমার ননদ, ননদের হাজব্যান্ড, তার দুই ছেলে এবং শুভর ছোটো মাসি।
ননদরা সকালবেলায় বাড়ি থেকে সোজা স্টেশনে এসেছে এবং আমাদের বাড়ি থেকে আমি ও মাসির শাশুড়ি দুজনে মিলে হেঁটে প্ল্যাটফর্মে এসে পৌঁছেছি। টিকিটটা ননদের হাজব্যান্ড ফোনেই কেটে নিয়েছিলো। সকলে মিলে একসাথে ট্রেনে উঠে পড়লাম।
আমাদের প্ল্যাটফর্মের একেবারে পাশেই একটা পুজো হয়। যদিও এ বছর এখনও পর্যন্ত মায়ের দর্শন হয়নি। তাই প্লাটফর্মে ঢোকার আগে মাসি শাশুড়িকে নিয়ে মায়ের দর্শন করে এলাম। তাড়াহুড়োতে আর মায়ের ছবি তোলা হয়নি।
এবছর এই প্রথম সামনাসামনি মা দুর্গাকে দেখলাম আজ ভোরে। মায়ের রূপ সম্পর্কে আর কি বর্ণনা করবো, সে তো অবর্ণনীয়। যাইহোক যাত্রা শুরুতে মায়ের দর্শন হলো, আশাকরি এই যাত্রার অভিজ্ঞতা ভালোই হবে।
![]()
|
|---|
নতুন জায়গার জন্য মনের ভিতরে অন্য ধরনের অনুভূতি আছে এটা ঠিকই, কিন্তু কেন জানি না প্রত্যেকবার যখন কোনো ট্যুরে যাওয়ার সময় আমি বাড়ি থেকে বেরোই, এক অন্য ধরনের মন খারাপ কাজ করে ভিতরে ভিতরে।
পুজোর দিনগুলোতে বাড়ি ছেড়ে কোথাও থাকতে ইচ্ছা করে না। যদিও পুজো দেখার জন্য বাড়ি থেকে বেরোনোর কোনো প্ল্যান থাকে না। কিন্তু তবুও বাড়ি থাকাতেই যেন এক অন্য ধরনের শান্তি আছে। তবে এটাও ঠিক এতো বছর বাড়িতে থেকেই পুজো কেটে গেছে। তাই এ বছর বাড়ি থেকে বাইরে বেরিয়ে হয়তো অন্য অভিজ্ঞতাই হবে, আর সেটা ভালো হবে এই প্রত্যাশা নিয়েই যাচ্ছি।
এই পর্যন্ত লিখেই শেষ করেছিলাম। এখন শিয়ালদহ থেকে ট্রেন বদলে আবার ক্যানিংয়ে যাওয়ার ট্রেন ধরলাম। সাউথের দিকে ট্রেনে উঠতে আমার কখনোই ভালো লাগেনা। যদিও আমি খুব একটা উঠিও না। ভীষণ প্রয়োজন ছাড়া সাউথের দিকে যাওয়াই হয় না।
![]()
|
|---|
আসলে সব সময় শিয়ালদা বনগাঁ লোকালে চড়তেই অভ্যস্ত। তাই যতই ভিড় হোক না কেন ওই ট্রেনে উঠতেই যেন ভালো লাগে। সাউথ এর দিকে ট্রেন তুলনামূলক ফাঁকা থাকলেও, এই ট্রেনে উঠতে আমার খুব একটা ভালো লাগেনা। কিন্তু গন্তব্য যখন সুন্দরবন, তখন এই দিকের ট্রেনে তো উঠতেই হবে। যাত্রাপথে আমরা ট্রেন থেকে টুকটাক কিছু খেয়েছি, সকলে মিলে অনেক গল্পও করছি।
আর মাঝেমধ্যে যখনই সময় পাচ্ছি তখনই নিজের লেখা খানিকটা এগিয়ে রাখছি। প্রায় ১ ঘন্টা ১৫ মিনিটের পথ অতিক্রম করে কিছুক্ষণের মধ্যেই ট্রেন পৌঁছাবে ক্যানিং এ।সেখানেই আমাদের জন্য ট্রাভেল এজেন্সির লোক অপেক্ষা করবে। যারা আমাদেরকে নিয়ে যাবে আমাদের গন্তব্যে।
![]()
|
|---|
সেখানেই লঞ্চে করে ঘুরে দেখবো আমরা বিভিন্ন জায়গা। লঞ্চেই চলবে আমাদের খাওয়া দাওয়া সবটাই। আশাকরছি এই রকম ভাবে লঞ্চের চড়ে ঘোরার অভিজ্ঞতা একেবারেই অন্যরকম হবে। অবশ্যই সবকটি মুহূর্ত আপনাদের সাথে পরবর্তী পোস্টগুলোতে শেয়ার করবো।
আপাতত যাত্রাপথের গল্প এই পর্যন্তই শেষ করি। এর পরের থেকে সমস্ত কিছু আপনাদের সাথে একে একে পরের পোস্টগুলোতে শেয়ার করবো। ইতিমধ্যে বেলা অনেকটাই বেড়ে গেছে।
আপনাদের সকলের দিনও শুরু হয়ে গেছে অনেকক্ষণ। তাই সকলের জন্য শুভ সপ্তমীর অনেক শুভেচ্ছা রইলো। এই বছর দুদিন সপ্তমী। তাই আরও একবার সকলকে মহা সপ্তমীর শুভেচ্ছা জানাই।
আপনাদের দিনটি অনেক ভালো কাটুক, এই শুভকামনা জানিয়ে আজকের লেখা শেষ করি। ভালো থাকবেন।





