"আরো একটি নতুন জায়গায় ভ্রমণের পরিকল্পনা"
![]()
|
|---|
Hello,
Everyone,
যখন জীবনে প্রথমবার বান্ধবীদের সাথে ঘুরতে যাওয়ার প্ল্যান করেছিলাম, তখন আশা করিনি যে আমার শ্বশুর বাড়ি থেকে আমাকে যাওয়ার পারমিশন দেবে। শুভর দিক থেকে খুব একটা সমস্যা হবে না এই বিশ্বাসটা ছিলো।
তবে শ্বশুরমশাই বা শাশুড়ি মা শুভকে ছাড়া, শুধুমাত্র বান্ধবীদের সাথে ঘুরতে যাওয়ার অনুমতি দেবেন, এই বিষয়টা আমি সত্যিই ভাবিনি। যাইহোক প্রথমবার আমরা ঘুরতে গিয়েছিলাম দীঘা সমুদ্র সৈকতে।
যদিও সেটাই আমার প্রথমবার দীঘায় ভ্রমণ নয়। কিন্তু বান্ধবীদের সাথে প্রথমবার বাড়ির বাইরে গিয়ে দুদিন কাটানো, সেই প্রথমবার ছিলো। তাই প্রথমবারের আনন্দের অনুভূতি সব সময় স্পেশাল হয়।
পরে অনেকটা দূরে দূরে ঘুরতে গিয়েছি, অনেকদিন বাড়ির বাইরে থেকেছি, কিন্তু সেই প্রথমবারের অনুভূতিটা একেবারেই অন্যরকম ছিলো।
যাইহোক আমরা যখন দীঘায় গিয়েছিলাম তখন দীঘার জগন্নাথ মন্দির তৈরির কাজ চলছিলো। ওল্ড দিঘা থেকে নিউ দীঘায় যাওয়ার সময়, আমরা সেই মন্দির তৈরীর কাজ দেখেছিলাম। যদিও আমি বেশ কয়েক বছর আগের কথা বলছি।
তবে বর্তমানে মন্দিরটি তৈরি হয়ে গেছে এবং মানুষের ভিড়ও হচ্ছে ভালোই। এমনকি আমার দিদিরাও দীঘায় ঘুরতে গিয়ে এই মন্দির দর্শন করে এসেছে। দিদিরা যখন গিয়েছিলো, তখন আমি বান্ধবীদের সঙ্গে দার্জিলিংয়ে গিয়েছিলাম। তাই আর দিদিদের সাথে তখন দীঘার জগন্নাথ মন্দির দর্শন করার সুযোগ হয়নি।
তবে আজ দিদির সাথে কথা বলার পর মনে হলো জগন্নাথ দেব হয়তো চাইছেন আমি প্রথমেই ওনার পুরীর মন্দির পরিদর্শন করি। তারপর হয়তো দীঘার মন্দিরটি দেখার সুযোগ হবে।
নিশ্চয়ই ভাবছেন হঠাৎ করে একথা কেন বললাম! আসলে অনেকদিন ধরেই দিদি পুরী যাওয়ার প্ল্যান করছিলো। ওরা পুরীতে গেলে আমাকে সাথে নিয়ে যাবে একথা আগে থেকেই ঠিক ছিলো। দিদি দু মাস আগেও একবার টিকিট কাটতে চেয়েছিলো, কিন্তু ওর অফিস থেকে ছুটি ম্যানেজ করতে না পারায় আর কাটেনি। আর তারপরে শুরু হয়েছিলো তিতলি ও তাতানের পরীক্ষা, সেই কারণে আর তাড়াহুড়ো করেনি।
আজ সন্ধ্যা বেলায় দিদি ফোন করে জানালো, পুরী যাওয়ার টিকিট কাটা হয়ে গেছে। নভেম্বরের ৩ তারিখে পুরী যাওয়ার টিকিট কেটেছে। আমি আগেই যেহেতু যাবো বলেছিলাম, তাই টিকিট কাটার আগে আর আমাকে আলাদা করে ফোন করেনি।
![]()
|
|---|
টিকিট কনফর্ম হয়ে যাওয়ার পর আমাকে ফোন করে তারিখটা জানিয়েছে। সত্যি কথা বলতে অনেক দিন বাদে আবার ঘুরতে যাবো, এই বিষয়টা শুনে বেশ ভালোই লাগছে। আসলে ওর হাজব্যান্ডের ব্রেন সার্জারি হওয়ার পর থেকেই দিদির ওনাকে এবং দুটো বাচ্চাকে নিয়ে একা একা বাইরে বেরোতে একটু ভয় পায়। যেটা খুব স্বাভাবিক।
কারণ জামাইবাবু আর আগের মতো করে সবদিকটা ম্যানেজ করতে পারেন না। তবে দিদির বেশ কিছু জায়গায় পূজো দেওয়া বাকি আছে, যেগুলো এক এক করে ও সেরে নিতে চাইছে। কারণ মানসিক পুজোগুলো খুব একটা বেশি দেরি করে দেওয়া উচিত নয়।
আমাকে আগে থেকেই বলে রেখেছে দূরের জায়গা গুলোতে যেন আমি ওদের সাথে যাই। না হলে বাচ্চাদের নিয়ে ওরা দুজন সেই জায়গা গুলোতে যেতে পারবে না। কাউকে না কাউকে সাথে নিতেই হবে। যদিও আমি যাবো বলেছি, তবে জানিনা তখন পরিস্থিতি কি হবে, আদেও যেতে পারবো কিনা।
তবে কথায় আছে যদি ঈশ্বর চান তার দর্শন আমি পাই, কেবলমাত্র তাহলেই তিনি সময় ও সুযোগ করে, আমাকে তার কাছে ডেকে নেবেন। এরপরে আরও কয়েকটি মন্দির দিদিরা যাবে, যেখানে যাওয়ার ইচ্ছা আমারও আছে।
যাইহোক আপাতত পুরীর জগন্নাথ মন্দির দর্শন করার সুযোগ হবে, এই প্রত্যাশা করছি। কারণ টিকিট ইতিমধ্যে হয়ে গেছে, এখন সমস্ত কিছু ঠিকঠাক থাকলে নভেম্বর মাসের ৩ তারিখে রওনা করবো পুরীর উদ্দেশ্যে। এর আগে দিদিরা অবশ্য পুরীতে গেছে, তবে আমার এবার প্রথমবার যাওয়া হবে।
দিদির কাছে শুনেছি পুরীর সমুদ্র দেখলে নাকি দীঘার সমুদ্র আর ততটাও ভালো লাগবে না। কারণ পুরীর সমুদ্রের সৌন্দর্য্য নাকি আরও বেশি সুন্দর। তবে সত্যি কথা বলতে দিঘা আমাদের বাড়ির এতটা কাছে যে, সব সময় পুরীতে যাওয়া সম্ভব না হলেও মাঝে মধ্যে হঠাৎ করে প্ল্যান হলে দীঘায় অবশ্যই যাওয়া সম্ভব।
ট্রেনের টিকিটের অপেক্ষাও করতে হয় না। আমাদের বাড়ির এখান থেকে প্রচুর বাস যায়। সুতরাং ইচ্ছে হলেই বাসে করেও পৌঁছে যাওয়া যায় দীঘায়। যাইহোক পুরীতে যাওয়ার টিকিট কনফর্ম হয়ে গেছে এই বিষয়টা জানাতেই দিদি ফোন করেছিলো এবং সত্যি কথা বলতে খবরটা পাওয়ার পর থেকে খুবই আনন্দ হচ্ছে।
যদিও এইবার গিয়ে আমি পুজো দিতে পারবো না। কারণ আমাদের এখনও অশৌচ চলছে। কিন্তু যদি জগন্নাথ দেব যদি চান অন্তত তার দর্শন স্বচক্ষে করতে পারবো, এটা ভেবেই ভালো লাগছে। আজকে পুরী যাওয়ার বিষয়টা ফাইনাল হলো তাই, সেটাই আপনাদের সাথে শেয়ার করলাম।
![]()
|
|---|
কারণ যেখানে নিজের মনের নিঃসঙ্গতা, ফাঁকা বাড়িতে মাঝেমধ্যেই মন খারাপের কথা আপনাদের সাথে শেয়ার করি। সেখানে এইরকম একটা খুশির সংবাদ শেয়ার না করাটা উচিত হবে না ভেবেই, আজ খবরটা জানার সাথে সাথে আপনাদের সাথেও খবরটা শেয়ার করলাম।
পরবর্তীতে যখন পুরীতে যাবো তখন যাত্রাপথের গল্প হোক, বা সেখানকার প্রতিদিনের কিছু মুহূর্ত, অবশ্যই আপনাদের সাথে উপস্থাপন করবো। আশাকরি তখনকার পোস্টগুলো পড়তে আপনাদের খুবই ভালো লাগবে।
যাইহোক আপনাদের সকলের আজকের দিনটি কেমন কাটলো, তা মন্তব্যের মাধ্যমে জানাবেন। আমার সারাটা দিন মোটামুটি কাটলেও, সন্ধ্যার পর থেকে কিন্তু বেশ আনন্দে কেটেছে। শুভ বাড়িতে আসার পর ওকেও খবরটা জানালাম। বরাবরের মতন ও কিন্তু একটুও আপত্তি করেনি।
যাইহোক ভালো থাকবেন আপনারা সকলে। শুভরাত্রি।



