 "জন্মদিনে সবথেকে বড় প্রাপ্তি: মায়ের আদর" |
Hello,
Everyone,
দিদির ফ্ল্যাটে বসে আজকের পোস্ট লেখা শুরু করছি। গতকালকের পোস্ট পড়ে আপনারা হয়তো অনেকেই জেনেছেন, আমি গতকাল দিদিদের বাড়িতে এসেছি, কারণ গতকাল ছিলো তাতানের জন্মদিন।
জন্মদিনের প্রস্তুতি তেমন কিছুই ছিলো না। কারণ দিদি ছুটির অ্যাপ্লিকেশন করেছিলো ঠিকই, তবে ছুটি মঞ্জুর হয়নি। গতকাল এবং আজ এই দুইদিন দিদির ট্রেনিং থাকার কারণে ছুটির অ্যাপ্লিকেশন বাতিল হয়েছে।
সত্যি কথা বলতে কাজের জায়গায় প্রমোশন পাওয়ার সাথে সাথে কাজের দায়িত্ব বেড়ে যায় অনেকটা। তখন সমস্ত কিছু ম্যানেজ করার দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে, ব্যক্তিগত জীবনের অনেক কিছু স্যাক্রিফাইস করতে হয়। আর অদ্ভুতভাবে এই বছর দিদির মেয়ে অর্থাৎ তিতলির জন্মদিনের দিনেও দিদি ছুটি পায়নি।
 "তাতান বেশিরভাগ সময় এইভাবে সোফায় শুয়ে শুয়ে টিভি দেখে।" |
 "এমন ভাবে মুসাম্বি লেবু খায়। শুধু খোসা গুলো এমনভাবে ফেলে দেয়।" |
যাইহোক গতকাল দুপুরে এসে দেখলাম তাতন সোফার উপরে শুয়ে টিভি দেখছিলো। কিছুক্ষণ আগে ওকে লেবু কেটে দেওয়া হয়েছিলো। সেগুলো খাওয়া শেষ করে টিভি দেখাতেই ব্যস্ত ছিলো। লেবুর বাটিটা সরাতে গিয়ে ভাবলাম একটা ছবি তুলি, যাতে আপনারা বুঝতে পারেন তাতান মুসাম্বিলেবু কিভাবে খায়। আপনাদের মধ্যে কেউ কি এইভাবে মুসাম্বি লেবু খান? মন্তব্যের মাধ্যমে জানাবেন।
 "স্যালাড" |
 "আমার লাঞ্চ- ডাল ও ডিমের অমলেট।" |
দুপুরে তাতানদের জন্য রান্না হয়েছিলো পাবদা মাছ, যেটা আমি খাই না। তাই ডালের সাথে নিজের জন্য একটা ডিমের ওমলেট করে নিয়েছিলাম। আর তার সাথে একটু স্যালাড বানিয়ে নিয়েছিলাম শশা, টমেটো, কাঁচা লঙ্কা, ধনেপাতা, বিট লবণ ও চাট মসলা দিয়ে।
তারপর দুপুরের খাওয়া সম্পন্ন করে ঘুমিয়ে পড়লাম আমরা। তিতলি ও তাতানকে সাথে নিয়ে না শুলে ওরা কেউ ঘুমায় না। ওদেরকে নিয়ে শুতে গিয়ে কখন আমিও ঘুমিয়ে পড়লাম বুঝতেও পারিনি।
 "পাঁচ রকম সবজি কেটে নিয়ে তাতে লবন মাখিয়ে রেখেছিলাম কিছুক্ষণ।" |
 "সবগুলো সবজি ভেজে নেওয়ার পর।" |
সন্ধ্যা বেলায় ঘুম থেকে উঠলাম। দিদি ফোন করে বললো ওর ফিরতে আরো অনেকটা দেরি হবে, তাই আমি যেন রান্নার কাজ শুরু করে দিই। নাহলে রাত হয়ে যাবে। এই কারণে রান্নাঘরে গিয়ে, প্রথমে পাঁচ রকমের ভাজা করার জন্য আমি আলু, কুমড়ো, কাঁকরোল, গাজর এবং বেগুন কেটে নিলাম। তারপরে একা করে সেগুলো ভাজা বসিয়ে দিলাম। আর অন্য পাশে পায়েস রান্না করার জন্য দুধ বসিয়ে দিয়েছিলাম।
 "মুগ ডাল" |
 "ছোটো আলুর দম" |
 "চিংড়ি মালাইকারি" |
 "তাতানের প্রিয় মাছের মধ্যে একটা মাছ হলো চিংড়ি।" |
এরপর দিদিদের বাড়িতে যে দিদিটা রান্না করে তিনি এসেছিলেন। তিনি ভাত, মুগ ডাল, আর আলুর দম রান্না করেছিলেন। এই ছোট্ট ছোট্ট আলুগুলো দিয়ে আলুর দম খাওয়ার বায়না করেছিলো তাতান। তার সাথে ছিলো চিংড়ি মাছের মালাইকারি। মালাইকারিটা অবশ্যই আমি রান্না করেছিলাম।
 "তাতানের পছন্দের চকো চিপস কেক।" |
দিদি বাড়ি ঢোকার সময় তাতানের পছন্দের কেক নিয়ে এসেছিলো। ও আসলে ম্যাংগো ফ্লেভারের কেক পছন্দ করে। তবে মিও আমোরে যে কেকটা ছিলো সেটা খুব একটা ভালো লাগেনি বলে, তাতানের পছন্দের চকো চিপস দেওয়া এই কেকটা দিদি নিয়ে এসেছিলো।
 "আমার রান্না করা পায়েস।" |
 "তাতানের জন্য আলাদা একটা বাটিতে রেখেছিলাম।" |
ওর বাড়িতে আসতে আসতে আমার পায়েস রান্না এবং মালাইকারি রান্না করা হয়ে গিয়েছিলো। বাড়িতে এসে ফ্রেশ হওয়ার পর ওকে এক কাপ চা করে দিয়েছিলাম। আসার পথে ও চপ নিয়ে এসেছিলো একটা নিরামিষ দোকান থেকে।
 "চপ দিয়ে মুড়ি খেয়েছিলাম। চপের স্বাদটা অসাধারণ ছিলো।"" |
অল্প একটু মুড়ি দিয়ে চপ খেলাম আমিও। কি যে অসাধারণ সুস্বাদু ছিলো চপ দুটো আপনাদের বলে বোঝাতে পারবো না। অনেকদিন বাদে এতো সুন্দর চপ খেয়ে মনটা ভালো হয়ে গিয়েছিলো।
 "এই কয়েকটা বেলুন দিয়ে বাবা একটু সাজিয়েছিলো।" |
ব্যস্ততার কারণে এবার আর আলাদা করে বেলুন কেনা বা অন্য কিছু কিনে আনার সময় হয়নি। এই কারণে ঘরে থাকা বেলুনগুলো ফুলিয়ে বাবা সেগুলোকে টানিয়ে দিয়েছিলো। তাই অল্প করে এইটুকুই ডেকোরেশন করা হয়েছিলো তাতানের জন্মদিন উপলক্ষ্যে।
 "দিদি ও বন্ধুর সাথে কেক কাটার মুহূর্ত।" |
 "এমনভাবেই প্রদীপ জ্বালিয়েছিলো দিদি" |
যাইহোক এরপর আমরা সকলে মিলে তাতানের কেক কাটার জন্য তৈরি হলাম। কারণ ততক্ষণে রাত প্রায় দশটার কাছাকাছি বেজে গিয়েছে। তাতানের জন্য দিদি এইভাবে আজ ঠাকুরের সামনে প্রদীপ জ্বালিয়েছিলো, সেটাই কেক কাটার সময় ওর সামনে রেখেছিলো। যেটা থেকে তাপ মাথায় দিয়ে ওকে সকলে আশীর্বাদ করা হলো। তারপর কেক কাটার পর্ব শেষ হলো।
 "ভাত ও বাকি খাবার গুলো সুন্দর করে গুছিয়ে নিয়েছিলাম।" |
 "তাতান এর মধ্যে থেকে বেশিরভাগ ভাজাই খায়নি।" |
খাবারগুলোকে আমি খুব সুন্দরভাবে থালার মধ্যে সাজিয়ে দিয়েছিলাম। তবে কেক খাওয়ার পর তাতান আর সবটা খেতে পারেনি। যাইহোক এরপর আমরা সকলে রাতের খাওয়া শেষ করলাম। তারপর সমস্ত কিছু গুছিয়ে রেখে, শুতে যেতে যেতে সাড়ে বারোটার কাছাকাছি বেজে গিয়েছিলো।
 "দাদুর সাথে কেক কাটার প্রস্তুতির মুহূর্ত।" |
জন্মদিনের খুব একটা আয়োজন না থাকলেও মোটামুটি এইরকম ভাবে তাতানের জন্মদিনের সন্ধ্যাটা পরিবারের সকলে মিলে আনন্দে সহকারেই কাটালাম। তার মধ্যে থেকে কিছু মুহূর্ত আপনাদের সাথে শেয়ার করলাম। আপনারা সকলে তাতানকে আর্শীবাদ করবেন। ও যেন ভালো মানুষ হতে পারে।
আজকের লেখা এখানেই শেষ করছি। ভালো থাকবেন সকলে।
Saludos amiga!
Un feliz cumpleaños para Tatan, los mejores recuerdos son aquellos que no nos preparamos que todo fluye con total espontaneidad! Así que esta celebración fue perfecta y quedarán gratos recuerdos que atesorarán en el corazón! El cumpleaños es una fecha muy especial que siempre se recordará y los 10 años de Tatan fueron súper especial con una celebración muy íntima pero llena de felicidad.
Te deseo muchos éxitos y bendiciones 🤗🤗
#s34engagement