মন্দারমণি ঘুরতে গিয়ে বিপাকে পড়লাম (শেষ পর্ব)
নমস্কার বন্ধুরা,
সকলে কেমন আছেন? গতকাল ওয়েবসাইট এর কোন প্রবলেমের জন্য আমি অনেকবার চেষ্টা করেও Steemit ওপেন করতে পারিনি, তাই আপনাদের সাথে যে গল্প শেয়ার করছিলাম তার বাকি পর্ব টুকু এখনো পর্যন্ত শেয়ার করতে পারিনি। আপনাদের তো আমি আগের পর্বে জানিয়েছিলাম যে হঠাৎ পরিকল্পনা করে আমি আর আমার বর বাসে করে রওনা হয়েছিলাম মন্দারমনির উদ্দেশ্যে। তারপর যখন সকাল ৬:৩০ নাগাদ বাস চাউলখোলা নামক জায়গায় এসে পৌঁছল তখন কি আমরা আদেও বাস থেকে নামতে পেরেছিলাম নাকি না নেমেই ভুলবশত পৌঁছে গিয়েছিলাম বাসের পরবর্তী গন্তব্য স্থলে সে বিষয়ে আমি একটু suspense রেখেছিলাম। তবে আজ আর কোন suspense নয়। বাকি গল্পটুকু এই পর্বেই আমি শেষ করব।
বাস যখন সকাল ৬.৩০ নাগাদ চাউলখোলা পৌঁছালো তখন বাসের অন্যান্য সদস্যদের মতো আমরাও আমাদের স্লিপারসিটে ঘুমাচ্ছিলাম। প্রসঙ্গত সেই দিন ওই বাসের অত সদস্যদের মধ্যে শুধুমাত্র আমি আর আমার বরই চাউলখোলায় নামতাম। তবে অত সকালে বাসের মধ্যে থাকার ফলে আমরা বুঝতে পারিনি যে চাউলখোলা চলে এসেছে। যাইহোক, বাসের কেউ একজন যখন বলল, "চাউলখোলায় কারা নামবেন?" শোনো মাত্রই আমার বর উঠে পড়েছিল এবং আমাদের যেহেতু upper sleeper seat ছিল তাই আমার বর তাড়াতাড়ি নেমে পড়ে। আমিও উঠে সব জিনিসপত্র গোছাতে থাকি। আমি সাথে করে একটা পাতলা ব্লাঙ্কেট নিয়ে গিয়েছিলাম। AC bus এ ব্ল্যাঙ্কেটের ব্যবস্থা থাকলেও আমি সবসময়ই একটা পাতলা ব্ল্যাঙ্কেট নিয়ে যাওয়া পছন্দ করি। সেই দিনও নিয়ে গিয়েছিলাম এবং রাতে গায়ে দিয়েছিলাম। তাই সেটা ভাঁজ করতেও আমার একটু সময় লাগছিল।
যখন মোটামুটি সব গুছিয়ে নিয়েছি তখন নিচে তাকিয়ে দেখি আমার বর অনেকক্ষণ আগেই আমাকে না জানিয়ে বাস থেকে নেমে পড়েছে। যার ফলে আমি খুব ঘাবড়ে যাই, আমার বরের অন্তত আমাকে একবার বলা উচিত ছিল, "তুমি সবকিছু গুছিয়ে নামো, আমি বাইরে বেরিয়ে luggage গুলো ওদের বাসের luggage রাখার জায়গা থেকে বের করে দিতে বলি।" তবে ও তাড়াহুড়ো করে আমাকে কিছু না জানিয়েই নেমে পড়ে। যার ফলে আমিও ওকে নিচে দেখতে না পেয়ে তাড়াহুড়ো করে নিচে নামি এবং সেই মুহূর্তে বাস চালক জোরে জোরে বলতে থাকে, "ওনার সাথে কে আছেন, নামুন, লেট হয়ে যাচ্ছে।" খুব তাড়াহুড়ো করে সঙ্গে রাখা একটা ব্যাগ এবং ভাঁজ করা ব্ল্যাঙ্কেট টা নিয়ে আমি বাস থেকে নেমে পড়ি। মানে আমরা দুজনেই চাউলখোলাতেই নামি, যেখানে আমাদের নামার কথা ছিল।
এতক্ষণ পর্যন্ত সব ঠিকঠাকই ছিল। তবে চাউলখোলায় আমাদের নামিয়ে বাসটা পরবর্তী গন্তব্য স্থল দীঘার উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে যায়। বাস থেকে নামার পরেই আমার মনে পড়ে আমি সবকিছু নামিয়ে এনেছি শুধুমাত্র নিজের মোবাইল ছাড়া। মোবাইলটা আমি বাসেই ফেলে এসেছি। ব্ল্যাঙ্কেট টা ভাঁজ করার সময়ও আমি বারবার নিজেকে বলছিলাম মোবাইলটা যেন ফেলে না চলে যাই। কিন্তু শেষমেশ সেটাই হল। আমি যেই মুহূর্তে বুঝতে পারলাম যে আমি মোবাইল নিয়ে নামেনি তখন থেকেই কেমন যেন পাগলের মত আচরণ করছিলাম কারণ মোবাইল প্রত্যেকের কাছেই একটা দরকারি জিনিস। সেটা যেমন দামি ঠিক তেমনি তার মধ্যে হাজার রকমের ডকুমেন্ট থাকে। আর যদি বাসের লোকেরা মোবাইলটা পেয়েও আমাকে না দেয় তাহলেও আমার কিচ্ছু করার থাকবে না। এই সমস্ত কিছু ভেবে ভয়ে আমার যেন হাত পা ঠান্ডা হয়ে আসছিল।
কিন্তু কি করবো ভেবেই পাচ্ছিলাম না। প্রথমে নিজের ব্যাগটা ভালো করে খুঁজে নিলাম হতেও পারে ব্যাগের মধ্যে আছে। কিন্তু ছিল না কারণ আমি জানতাম যে মোবাইলটা আমার upper sleeper seat এই রয়ে গেছে। সেখানকার লোকজনরা নানারকম suggestion দিতে লাগলো। এমন সময় একজন ড্রাইভার এসে বলল যে ওই বাসের conductor এর মোবাইল নাম্বার তার কাছে আছে। সেই মোবাইল নাম্বার নিয়ে আমরা তৎক্ষণাৎ তাকে ফোন করলাম। প্রথমবার কলটা রিসিভ করলো না। যার ফলে টেনশন আরোই বেড়ে চলেছিল। অন্যদিকে আমার বর বারবার বলছিল, "মোবাইল আর পাওয়া যাবে না, ওরা পেলেও হয়তো আর বলবে না। আর ওরা 'না' বললে আমাদের কিছু করারও নেই।" যাইহোক অনেক টেনশনের মধ্যে আমরা যত তাড়াতাড়ি সম্ভব একখানা ট্যাক্সিতে উঠে পড়লাম এবং যে বাসটিতে করে আমরা এসেছিলাম সেই বাসটি কে যাতে ধরতে পারি সেটাই বললাম। তারপর ক্রমাগত আমরা ওই নাম্বারে ফোন করতে লাগলাম।সৌভাগ্যবশত সেই কন্ডাক্টার ফোনটা ধরে এবং আমাদের সব কথা শুনে সঙ্গে সঙ্গে সেই সিটে গিয়ে দেখে যে ফোনটা সেখানেই আছে। তারপর উনি বলেন যে বাসটা আস্তে আস্তে চালানো হচ্ছে আমরা যত তাড়াতাড়ি পারেন আসুন।
মোবাইলটা অন্তত বাসেই আছে এবং উনি ওনার কাছেই রেখেছেন এটা শুনে অনেক স্বস্তি পেয়েছিলাম। তবে একটা সরু রাস্তার মধ্যে দিয়ে, যেখানে একটা ট্যাক্সি আরেকটা ট্যাক্সিকে ওভার টেক করে যাওয়ার মতোও জায়গা নেই, সেখানে বাসটিকে ধরা খুবই চাপের ছিল। যাইহোক, অতিরিক্ত ১০-১৫ কিলোমিটার যাওয়ার পরেও আমরা বাসটিকে ধরতে না পারাই বাধ্য হয়েই বাসটি আমাদের জন্য কিছুক্ষণ অপেক্ষা করছিল। তারপর অবশেষে আমরা আমাদের মোবাইল হাতে ফিরে পেয়েছিলাম।
এই ছিল আমাদের বিপাকে পড়ার গল্প। অতিরিক্ত ৩০০ টাকা ট্যাক্সি ভাড়া দিয়ে, এত টেনশন সহ্য করে আমাদের ঘুরতে যাওয়ার শুভারম্ভ হয়েছিল। আজ তাহলে এখানেই শেষ করছি। আগামীকাল আবার অন্য কোনো লেখা নিয়ে আপনাদের সামনে হাজির হব। সকলে ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন।
![]() |
|---|
Curated by : max-pro |



