বহুদিন পর কলেজের বান্ধবীদের সাথে একটু সময় কাটানো
নমস্কার বন্ধুরা,
সকলে কেমন আছেন? আজকে আবারো চলে এসেছি আপনাদের সাথে একটি নতুন দিনের গল্প শেয়ার করার জন্য। আমি আমার অনেক ব্লগেই বলেছিলাম যে আমার স্কুল জীবনের তেমন কোনো আনন্দের স্মৃতি নেই। তবে কলেজ জীবনটা আমার কাছে অনেক বেশি আনন্দের ছিল। কলেজে উঠে এমন কিছু বন্ধুবান্ধবদের পেয়েছিলাম যারা সত্যিই অনেক ভালো ছিল। গ্রাজুয়েশন শেষ করার পর যখন বি.এড কলেজে ভর্তি হই সেখানেও বেশ কিছু বন্ধুবান্ধব হয়েছিল। তবে সময়ের সাথে সাথে কারো সাথেই তেমন কোনো যোগাযোগ না থাকলেও তিনটে বান্ধবীর সাথে এখনো আগের মতোই যোগাযোগ আছে।এই যোগাযোগ থাকার একমাত্র এবং অন্যতম কারণ হলো আমাদের প্রত্যেকের বাড়িই কৃষ্ণনগরে। আর একজনের বাড়ি তো আমার শ্বশুর বাড়ির একদম কাছেই। যার ফলে সকলের সাথেই রাস্তাঘাটে কমবেশি দেখা-সাক্ষাৎ হয়।
আমরা বেশ কিছুদিন ধরে প্ল্যান করছিলাম যাতে একদিন কোথাও গিয়ে কিছুক্ষণ সময় কাটাতে পারি। তবে ব্যস্ত জীবনে সকলেরই আলাদা আলাদা সিডিউল থাকার ফলে একটা দিন যেটা সকলের সুবিধা হবে বের করা খুবই সমস্যা জনক হয়ে পড়েছিল। তবে শেষমেশ একটা দিন ঠিক করেই ফেললাম। তারপর নির্ধারিত সময়ে পৌঁছে গেলাম আমাদের পছন্দের 'হ্যাংলা' নামক রেস্টুরেন্টে। সবার প্রথমে পৌছলো অঙ্কিতা, তার কিছুক্ষণ পরেই গিয়ে পৌঁছলাম আমি। আমি পৌঁছানোর দু-তিন মিনিটের মধ্যেই কোয়েল আর স্বর্ণালী পৌঁছে গেল। তারপর আমরা সিঁড়ি বেয়ে দোতলায় চলে গেলাম এবং পছন্দমত জায়গাও পেয়ে গেলাম। এরপর ওয়েটার এসে আমাদেরকে মেনু কার্ড দিয়ে গিয়েছিল। সেখান থেকে আমরা আমাদের পছন্দমত খাবার অর্ডার দিয়েছিলাম।
প্রথমেই আমরা একটা স্টার্টার নিয়েছিলাম। স্টার্টার হিসেবে নিয়েছিলাম ড্রামস অফ হেভেন। যার দাম ছিল ভারতীয় মূল্যে ২৬০ টাকা। সেখানে ছয় পিস ছিল। এরপর মেইন কোর্সে আমরা নিয়েছিলাম এক ধরনের নান। যেটার এক পিস এর দাম ছিল ৭০ টাকা। ঐ এক পিস নানটিকে আবার চার ভাগে ভাগ করে দিয়েছিল। আমরা মোট ৪ টে নান নিয়েছিলাম। মানে ৪×৪= ১৬ পিস্ নান ছিল। আর এর সাথে নিয়েছিলাম চিকেনের একটা আইটেম। যেটার দাম ছিল ২৫০-৬০ টাকা মতো। এবং এর সাথে নিয়ে নিয়েছিলাম দুটো কোক। ওই দুটো কে আমরা চারটে গ্লাসে ভাগ করে নিয়েছিলাম।
খাবার অর্ডার করে দেওয়ার পর যেহেতু বেশ কিছুটা সময় নিয়েছিল ওরা খাবারটা দিয়ে যেতে তাই আমরা সেই সময়টাই গল্প করছিলাম। অনেকদিন পরে বন্ধু-বান্ধবের সাথে দেখা সাক্ষাৎ হলে কত প্রকারের কথাবার্তা হতে পারে সেটা তো আপনারা জানেনই। তাছাড়া আমাদের মধ্যে একজনের আগামী নভেম্বর মাসে বিয়ে তাই সেই সমস্ত কিছু বিষয় নিয়েও আমাদের মধ্যে অনেক কথা হচ্ছিল। একটা বিয়েকে কেন্দ্র করে কত যে কেনাকাটি করতে হয় সেটা আমি সদ্য খুব কাছ থেকে উপলব্ধি করেছি। তাই বিয়ের কেনাকাটি কত দূর হলো এবং বিয়েতে কি কি পরিকল্পনা আছে সেই সমস্ত বিষয় নিয়ে আমাদের অনেক কথা হচ্ছিল। তাছাড়া আমার যেহেতু সদ্য বিয়ে হয়েছে তাই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আমার কাছ থেকেও পরামর্শ চাইছিল। আর এতদিন পরে দেখা-সাক্ষাৎ হলো তাই আমরা কিন্তু অনেক ফটোও তুলেছিলাম। আমরা সবাই ফটো তুলতে বেশ ভালবাসি তাই যতক্ষণ না খাবার আসছিল আমরা গল্প করে, ফটো তুলে সময় কাটাচ্ছিলাম।।
আজ তাহলে এখানেই শেষ করছি। আগামীকাল আবার পরবর্তী পর্ব নিয়ে আপনাদের সামনে হাজির হব। সকলে ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন।


