বহুদিন পর বান্ধবীদের সাথে দেখা
নমস্কার বন্ধুরা,
সকলে কেমন আছেন? আজকে চলে এসেছি আপনাদের সাথে নতুন একটি দিনের গল্প শেয়ার করার জন্য। আশা করছি আপনাদের সকলের ভালো লাগবে। বন্ধু-বান্ধব সকলেরই কম বেশি থাকেই। আর যতই অনেক বন্ধু-বান্ধব থাকুক না কেন তাদের মধ্যেও সিলেক্টিভ কিছু মানুষ থাকে যাদের সাথে আমাদের bonding টা একটু বেশি ভালো হয়। ঠিক তেমনি আমারও অনেক বন্ধু-বান্ধব থাকলেও তিনজন বন্ধুর সাথে আমার বিয়ের আগে থেকেই অনেক ভালো বন্ধুত্ব ছিল। বিয়ের আগে ওদের সাথেই কলেজে যাওয়া থেকে শুরু করে পুজোতে কিংবা অন্য সময় ঘুরতে যাওয়া হয়। ওদের সাথে কথা বলে, সময় কাটিয়ে বেশ ভালো লাগে। বন্ধুবান্ধবদের মধ্যে bonding ভালো না হলে কথা বলে যেন শান্তি পাওয়া যায় না। তবে এদের তিন জনের সাথে কথা বলে যে কি শান্তি তা বোঝানো যাবে না। আমাদের এই চারজনের গ্রুপ সকলের কাছেই খুব পরিচিত। আর যেহেতু সকলের বাড়ি কাছাকাছি তাই কলেজ থেকে পাস আউট হওয়ার পরেও আমাদের মধ্যে যোগাযোগ আগের মতোই রয়েছে।
এই চারজনের মধ্যে ২০২৪ সালের জানুয়ারি মাসে সোনিয়ার বিয়ে হয়। সোনিয়ার বাড়ি আমার বাড়ি থেকে সবচেয়ে কাছে তাই ওর সাথেই সবচেয়ে বেশি দেখা-সাক্ষাৎ হত। সময় পেলেই সাইকেলে নিয়ে চলে যেতাম ওদের বাড়িতে। তবে ওর বিয়ের পর থেকে দেখা সাক্ষাৎ অনেক কমে গেছে। এরপর ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে বিয়ে হয় অঙ্কিতার। আর ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে বিয়ে হয় প্রতীক্ষার। তিনজনের বিয়ে হয়ে যাওয়ার পর আমাদের ঘুরতে বেরোনো, দেখা করা এগুলো আসতে আসতে কমতে কমতে এখন প্রায় হয় না বললেই চলে। এরপর ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে আমার বিয়ে হয়ে যায়। তবে মজার বিষয় কি জানেন? আমরা চারজনই কিন্তু কৃষ্ণনগরেই মানে নিজেদের শহরেই বিয়ে করেছি। একে অপরের শ্বশুরবাড়ি ২-৩ কিলোমিটারের মধ্যেই। এত কাছাকাছি থাকা সত্ত্বেও এখন সকলে মিলে একসঙ্গে সময় কাটানোর অবসর হয় না। অনেক প্ল্যানিং-প্লটিং করেও শেষমেশ ক্যান্সেল হয়ে যায়। চাইলেই সব সময় নিজেদের মতো করে এক জায়গায় হতে পারি না।
ছবির উপরে বাঁদিকে সোনিয়া, নীচে বাঁদিকে অঙ্কিতা, উপরে ডানদিকে প্রতীক্ষা ও নীচে ডান দিকে আমি |
|---|
আগে নিজে থেকেই অনেক প্ল্যানিং করতাম, সকলকে দেখা করার জন্য রাজি করতাম। এতকিছুর পরেও যখন শেষমেশ প্ল্যানটা ক্যান্সেল হয়ে যেত তখন মনটা খুব খারাপ হয়ে যেত। তাই আজকাল আর নিজে থেকেই আগে আগে প্ল্যানিং করি না। তবে মাঝে মাঝে যখন গ্যালারি ঘাঁটি তখন সকলের কথা খুব মনে পড়ে। খুব কষ্টও হয়। তবুও কাউকে বলি না, কারণ বিয়ের পরে সকলেরই দায়িত্ব কর্তব্য বহু গুণ বেড়ে যায়, তাই চাইলেই বিয়ের আগের মত জীবন যাপন করা সকলের পক্ষে সম্ভব হয় না। তাই দুর্গাপুজোর কয়েকদিন আগে আমি ফেসবুকে আমার এই বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে তোলা যে ফটো রয়েছে সেগুলো দিয়ে একটা ইমোশনাল ভিডিও পোস্ট করি। তবে সেখানে কোথাও আমি দেখা-সাক্ষাৎ করার কথা উল্লেখ করিনি। কিন্তু ভিডিওটা এতটাই ইমোশনাল ছিল যে সেটা দেখা মাত্রই আমার এই বন্ধুগুলোও খানিকটা ইমোশনাল হয়ে গিয়েছিল।
বিয়ের আগের ফটো |
|---|
তারপর দেখি বহুদিন ধরে যে গ্রুপ টাই কোনরকম ম্যাসেজের আদান-প্রদান হয়নি সেই গ্রুপেই ওরা তিনজন মিলে প্ল্যানিং করছে কবে আমরা দেখা করবো। সত্যি কথা বলতে গেলে এই বিষয়টা দেখে আমার একটা প্রচলিত কথার কথা মনে পড়ছিল ---- "সোজা আঙ্গুলে ঘি না উঠলে আঙ্গুল টা একটু বাঁকাতে হয়।" মানে যখন সরাসরি বলতাম দেখা-সাক্ষাৎ করার কথা তখন কারও সময় হতো না আর এখন ইমোশনাল ভিডিও দেখে সকলে এতটাই ইমোশনাল হয়ে পড়েছে যে নিজেরাই প্ল্যানিং করা শুরু করে দিয়েছে। সবার সাথে কথা বলে শেষমেশ ঠিক হয় আমরা প্রথম সপ্তমীর দিন সকলে মিলে একটা রেস্টুরেন্টে দেখা করব এবং সময় কাটাবো।
(ভিডিও লিংক)[https://www.facebook.com/share/r/19ubhFsvEP/]
ফেসবুকে পোস্ট করা ভিডিওর লিংক |
|---|
আজ তাহলে এখানেই শেষ করছি। পরের পোস্টে আপনাদের অবশ্যই জানাবো আমরা সপ্তমীর দিন একসঙ্গে দেখা করে কিভাবে সময় কাটালাম। সকলে ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন।
0.00 SBD,
0.07 STEEM,
0.07 SP
Thank you so much.