চিংড়ি মাছ দিয়ে কাঁচা কলার খোসা ভর্তা
নমস্কার বন্ধুরা,
সকলে কেমন আছেন? আজকে চলে এসেছি আপনাদের সাথে একটি মজার রেসিপি শেয়ার করার জন্য। আশা করছি আপনাদের সকলের ভালো লাগবে।
ভারত এবং বাংলাদেশে বিভিন্ন রকমের ভর্তা খুব জনপ্রিয়। আমরা বিভিন্ন জিনিসের ভর্তা রান্না করে খেয়ে থাকি, যেমন - আলু ভর্তা, ডাল ভর্তা, বেগুন ভর্তা ইত্যাদি। ঝাল ঝাল করে তৈরি করা এই ভর্তা দিয়ে গরম ভাত খেতে খুব ভালো লাগে। তবে আজকে আমি আপনাদের সাথে অন্য একটি ভর্তার রেসিপি শেয়ার করব। সেটি হল চিংড়ি মাছ দিয়ে কাঁচা কলার খোসা ভর্তা। আমরা সাধারণত কাঁচা কলার খোসাগুলো ফেলে দিই। তবে এই খোসাগুলো দিয়ে দারুণ একটা রেসিপি আপনারা আপনাদের বাড়িতে তৈরি করে নিতে পারেন। খেতে খুব মজার হলেও অনেকেই খাটনির জন্য বাড়িতে এগুলো রান্না করতে পছন্দ করেন না। তবে যারা ভর্তা প্রেমিক তারা এই মজার স্বাদের জন্য এইটুকু খাটুনি করতে রাজি থাকে। আমি সহ আমাদের বাড়ির প্রত্যেকেই এই ভর্তাটা খুব পছন্দ করে।
বেশ কয়েকদিন ধরে দেখছি ফ্রিজের মধ্যে অনেকগুলো কাঁচা কলার খোসা রাখা আছে। তবে সময়ের অভাবে শাশুড়ি মা ভর্তা রান্না করার সময় পাচ্ছিলো না। তাই আজকে একটু সময় পেতেই রান্নাঘরের দায়িত্ব নিয়ে নিয়েছিলাম নিজেই। আর তারপর আমার পছন্দের ভর্তাটা রান্না করে ফেলেছিলাম। আর ভাবলাম আপনাদের সাথে ও রেসিপি টা শেয়ার করি। চলুন তাহলে আপনাদের সাথেও শেয়ার করে নিই কিভাবে আমি এই দারুন মজার ভর্তাটা রান্না করেছিলাম।
|
|---|
| নং | সামগ্রী | পরিমাণ |
|---|---|---|
| ১ | কলার খোসা | পরিমাণ মতো |
| ২ | নুন | পরিমাণ মতো |
| ৩ | হলুদ | পরিমাণ মত |
| ৪ | সরষের তেল | কলার খোসার পরিমাণ অনুযায়ী |
| ৫ | শুকনো লঙ্কা | ৪ টে |
| ৬ | কাঁচা লঙ্কা | চারটে |
| ৭ | রসুন | পরিমাণ মত |
| ৮ | কালো জিরে | ২ চামচ |
| ৯ | চিনি | খুব সামান্য |
| ১০ | চিংড়ি মাছ | চার-পাঁচটা মাঝারি সাইজের |
|
|---|
ধাপ ১:
প্রথমেই কলার খোসা গুলো ভালোভাবে ধুয়ে নিয়েছিলাম যাতে তার মধ্যে কোন নোংরা না থাকে। আমি যেহেতু দুই তিন দিন আগের কাটা কলার খোসা নিয়ে রান্না করেছি তাই একটু কালো কালো হয়ে গিয়েছিল। তবে সেগুলো পচে যায়নি। ফ্রিজে রেখে দেওয়ার কারণে একটু কালো হয়ে গিয়েছিল।
ধাপ ২ :
এরপর একটা পাত্রে পরিমাণ মতো জল নিয়ে গরম করে নেব। জল ফুটে এলে তার মধ্যে ধুয়ে রাখা কলার খোসা গুলো সিদ্ধ করার জন্য দিয়ে দেব।
ধাপ ৩ :
অন্যদিকে চিংড়ি মাছগুলো ভালোভাবে ধুয়ে লবণ, হলুদ মাখিয়ে নেব।
ধাপ ৪ :
এরপর ওভেনে কড়াই চাপিয়ে কড়াই গরম হয়ে এলে তার মধ্যে সর্ষের তেল দিয়ে দেব। তেল গরম হয়ে গেলে চিংড়ি মাছগুলো দিয়ে দেব এবং ভালোভাবে ভেজে নেব। ভাজা হয়ে গেলে একটি পাত্রে তুলে রাখবো।।
ধাপ ৫ :
কলার খোসা গুলো সিদ্ধ হয়ে গেলে নামিয়ে নেব এবং জল ঝরিয়ে ঠান্ডা জল দিয়ে ধুয়ে নেব।
ধাপ ৬ :
এরপর একটা বড় মিক্সার এর মধ্যে সিদ্ধ করে রাখা কলার খোসা, ভেজে রাখা চিংড়ি মাছ, পরিমাণ মতো লবণ, দুই চামচ কালো জিরে, চারটে কাঁচা লঙ্কা, চারটে শুকনো লঙ্কা, খুব সামান্য চিনি, অর্ধেক রসুন দিয়ে দিয়েছিলাম।
ধাপ ৭ :
এরপর এই সমস্ত কিছুর একটা পেস্ট তৈরি করে নেব।
ধাপ ৮ :
এরপর যে কড়াইতে চিংড়ি মাছ ভেজেছিলাম সেই কড়াইতেই আরো একটু তেল দিয়ে দেব। তেল গরম হয়ে গেলে পেস্ট টা দিয়ে দেব। কড়াইটা একটু কালো দেখে কিছু মনে করবেন না, এইরকম একটা কড়াই প্রায় প্রত্যেকের বাড়িতেই থাকে। বিভিন্ন ভাজা বা ভর্তা রান্না করার সময় আমরা এই করাটা ব্যবহার করি।।
ধাপ ৯ :
এরপর পরিমাণমতো হলুদ দিয়ে দেব। তারপর ভালোভাবে নাড়াচাড়া করে পেস্টের মধ্যে থাকা অতিরিক্ত জলটা শুকিয়ে নেব।
ধাপ ১০ :
প্রায় ১০ থেকে ১৫ মিনিট ক্রমাগত নাড়াচাড়া করে অতিরিক্ত জলটা শুকিয়ে নিয়েছিলাম। একটু টাইট হয়ে এলেই বুঝতে হবে আমাদের রান্না হয়ে গেছে।।
ব্যস্! তাহলেই হয়ে গেল আমাদের মজার ভর্তা রেডি। এরপর আর কি! গরম ভাত নিন আর মজার ভর্তা দিয়ে পেট ভরে খেয়ে নিন। আমি সহ আমাদের বাড়ির প্রত্যেকের এই ভর্তাটা দারুণ লেগেছিল। তাহলে আর অপেক্ষা কিসের? আপনারাও চটজলদি আপনাদের বাড়িতে এই দারুন রেসিপিটি তৈরি করে নিতে পারেন।
আজ তাহলে এখানেই শেষ করছি। আগামীকাল আবার অন্য কোনো লেখা নিয়ে আপনাদের সামনে হাজির হব। সকলে ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন।













curated by wirngo
0.00 SBD,
0.07 STEEM,
0.07 SP
Thank you so much.