কৃষ্ণনগর রাজবাড়ী অর্থাৎ রায় বাড়ির দূর্গা পূজা দেখতে যাওয়া
নমস্কার বন্ধুরা, সকলে কেমন আছেন? আশা করছি সকলেই ভালো আছেন। আজকে আবারো নতুন একটা পোস্ট নিয়ে হাজির হয়েছি আপনাদের মাঝে আশা করছি সকলেরই ভালো লাগবে।
গতকালকের পোস্টে আপনাদের মাঝে ঠাকুর দেখতে যাওয়ার প্ল্যান কীভাবে সেই প্ল্যান ভেস্তে গিয়েছিল সেটাই আপনাদের মাঝে শেয়ার করে নিয়েছিলাম। আজকে শেয়ার করব সপ্তমীর সন্ধ্যাতে ঠাকুর দেখতে গিয়ে সুন্দর মুহূর্ত কাটানো। প্রত্যেক বছরের মত এ বছরেও আমি ঈশা আর ওর বন্ধু তিনজন মিলে বেরিয়ে পড়েছিলাম ঠাকুর দেখতে যাব বলে। কৃষ্ণনগরে অধিকাংশই ঠাকুর সকালবেলায় হাঁটতে বেরিয়ে আমি দেখে ফেলেছিলাম ।সেই মুহূর্ত আপনাদের মাঝে শেয়ার করে নিয়েছিলাম। তবু ও কয়েকটা ঠাকুর দেখতে যাওয়া হয়েছিল। সেগুলো অনেকটা দূরে দূরে তাই হেঁটে যাওয়া সম্ভব নয়। সেদিন সকাল বেলায় রাজবাড়ীতে ঠাকুর দেখতে গিয়ে ঠাকুর না দেখে ফিরে আসতে হয়েছিল। তাই সপ্তমীর সন্ধাতে প্রথমেই চলে গিয়েছিলাম কৃষ্ণনগর রাজবাড়িতে। রাজবাড়ীকে অনেকে রায় বাড়ি বলেও চেনেন।
প্রত্যেক বছরই দুর্গাপুজো কিংবা জগদ্ধাত্রী পূজা দুটোতেই রাজবাড়িতে ঠাকুর দেখতে যাওয়া হয়। কৃষ্ণনগরের রাজবাড়ী আমাদের কাছে ঐতিহ্যপূর্ণ ।তাই ওখানকার ঠাকুর দেখতে না পারলে ঠাকুর দেখা অসম্পূর্ণ থেকে যায়। এর আগের দিন বলেছিলাম কৃষ্ণনগরের রাজবাড়ির ঠাকুরটা একটু অন্যরকম হয়। কৃষ্ণনগরের রাজবাড়ী ঠাকুরের মায়ের পায়ের নিচে হাতি না থেকে সাদা ঘোড়া থাকে। এরকম মূর্তি স্বপ্ন দেশ পেয়েছিলেন রাজা কৃষ্ণচন্দ্র। সেই অনুযায়ী প্রত্যেক বছর একই মূর্তিতে পূজা করা হয়। যুগ যুগ ধরে এইরকম মুক্তি পূজা হয়ে আসছে। জগদ্ধাত্রী ঠাকুরের মূর্তিটা অনেকটা একই রকমের হয়।
তবে এ বছরে গিয়েও দেখি রাজবাড়ীতে প্রচুর ভিড় ।সকলেই হাজির হয়েছে রাজবাড়ীর ঠাকুর দেখার জন্য। তবে এ বছরে দেখছিলাম দর্শনার্থীদের বসার জন্য জায়গার ব্যবস্থা করা হয়েছে, আগেকার দিনে রাজার বসার সমস্ত জায়গা দর্শনার্থীদের জন্য বের করে দেওয়া হয়েছে।দেখে বেশ ভালো লাগলো। এছাড়া ও রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সমস্ত দৈনন্দিন ব্যবহারিক জিনিসগুলো সুন্দর করে কাচের ভিতরে সাজিয়ে রাখা আছে। মানুষ যতই ওইসব জিনিসগুলো দেখে না কেন পুরনো হয় না। রাজার ওইসব জিনিসগুলোই সব দর্শনার্থীকে নজর কাড়ে । যতই সব জিনিস গুলো দেখা যায় ততই মনে হয় আগেকার যুগ যদি সত্যিই ফিরে আসত সত্যিই ভীষণ ভালো হতো। আগেকার যুগের মানুষের জীবন সত্যি সুন্দর ছিল। কিছু মানুষ ওই সমস্ত জিনিস দেখতেও ব্যস্ত। অনেকটা এরিয়া জুড়েই রাজবাড়ী ছিল। কিন্তু এখন চারিদিকে মানুষের দখলে বসতি স্থাপন শুরু হয়ে গেছে।
আমরাও ভীড়ের মধ্যে থেকে মায়ের দর্শন করে বেশ কয়েকটা ছবি তুলে আবারো রওনা দিয়েছিলাম অন্য জায়গায় ঠাকুর দেখতে যাব বলে। আসলে রাজবাড়ীতে এত মানুষের ভি ড় যেন দম বন্ধ হয়ে আসছিল। ভীড়ের মধ্যে বেশি না থাকাই ভালো ।তাই রাজবাড়ীতে আর বেশিক্ষণ অপেক্ষা করিনি। এরপরে অন্য জায়গায় ঠাকুর দেখার মুহূর্ত আপনাদের মাঝে শেয়ার করে নেব পরের পোস্টে।
আজ এখানে শেষ করছি। আবার নতুন কোন পোস্ট নিয়ে হাজির হব আগামীকাল। সকলে ভালো থাকুন ,সুস্থ থাকুন।




Thank you 🙏