ঠাকুর দেখতে যাওয়ার প্ল্যান করে ও প্ল্যান ভেস্তে যাওয়া

in Incredible India • 2 days ago

নমস্কার বন্ধুরা, সকলে কেমন আছেন? আশা করছি সকলেই ভালো আছেন। আজকে আবারো নতুন একটা পোস্ট নিয়ে হাজির হয়েছি আপনাদের মাঝে আশা করছি সকলেরই ভালো লাগবে।

2617.jpg

এ বছরে পরপর দুদিন সপ্তমী ছিল। সপ্তমী দ্বিতীয় দিন ঠাকুর দেখতে যাওয়ার প্ল্যান করে যাওয়া হয়নি সেটাই আপনাদের মাঝে শেয়ার করে নেব। গতকাল ছিল রবিবার। এ বছরে ঠাকুর দেখার একদমই প্ল্যান ছিল না। আবার কোন কাজে কোন প্ল্যান করলে সেটা সাকসেস হয় না। আমি যে কাজ প্ল্যান করে করি সেটা আমার একেবারেই হয় না। সকাল বেলা থেকেই পড়াশোনার মধ্যেই ব্যস্ত ছিলাম। তবে আগের দিন রাত থেকে বোনেরা বায়না করেছিল তাহেরপুর ,বাদকুল্লায় ঠাকুর দেখতে যাবে বলে। ওখানে এ বছরে খুব ভালো প্যান্ডেল ও ঠাকুর হয়েছে।আমি তো প্রথম থেকেই না না করেছিলাম। কারণ খবরের কাগজে দেখেছিলাম কলকাতা চোরাবাগানে ঠাকুর দেখতে গিয়ে পদপিষ্ট হয়ে প্রায় ২১ জন মারা গিয়েছে। এছাড়াও বেশ কিছু লোক আহত হয়েছে।

2617.jpg

আবার তাহেরপুর বাদকুল্লা এইসব লাইনে ট্রেনে পা ফেলার জায়গা নেই। এত মানুষের ভিড়। ভিড় দেখেই আর ঠাকুর দেখতে যাওয়ার একেবারেই ইচ্ছে ছিল না। তবে গতকালকে হঠাৎ করেই মাথাটা গরম হয়ে যায় ।এর পরেই মনে হলো যাই একটু ফ্রেশ হওয়ার জন্য বোনেদের সাথে বাদকুল্লা থেকে ঠাকুর দেখেই আসি ।এই বলে বইটা বন্ধ করে একটা নতুন জামা পড়ে রেডি হয়ে চলে গিয়েছিলাম দিদার বাড়িতে। সেখানে দুপুরের খাবার খাব। এদিকে বোনেরা পলাশী থেকে ট্রেন ধরে কৃষ্ণনগর আসবে আমিও টুকটুক করে স্টেশনে গিয়ে দাঁড়াবো।

এরপরে হঠাৎ করেই খাওয়া দাওয়া করে বেশ খানিকক্ষণ বসে সময় কাটাতে কাটাতে তবুও ওপার থেকে ফোন আসে না। আবারো মাথা গরম হয়ে গেল। আমি বোনকে ফোন করে দেখি ওরা তখনও বাসে রয়েছে। বাস থেকে নেমে স্টেশনে পৌঁছাতে পারিনি। এদিকে ট্রেনের টাইম ওভার হয়ে গেছে। এদিকে কৃষ্ণনগর থেকে যতগুলো ট্রেন দেখছি সমস্ত ট্রেনই লেট করে ছাড়ছে। কোনোটা আধা ঘন্টা কোনটা 10 মিনিট এইভাবে লেট। আবারো রাগ করে জামা খুলে ফেলে ফোনের সুইচ অফ করে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। এদিকে প্রায় এক থেকে দেড় ঘন্টা পরে বোন দিদার ফোনে ফোন করছে। আমরা এখনো ট্রেন পাইনি, দিদিকে চারটের সময় স্টেশনে দাঁড়াতে বলো।

আমি তো আগেই বলে দিয়েছি যাব না কারণ চারটের সময় ঠাকুর দেখতে গিয়ে সেই ভিড়ের মধ্যে আবারো আমাকে পড়তে হবে। বাড়ি ফিরতে অনেকটা রাত হয়ে যাবে। ফেরার সময় ট্রেন পাব কি পাবো না তার ঠিক নেই। সেই জন্য আর সাহস করে যায়নি।। তবে ওরা বহুবার আমাকে ফোন করেছে, যাওয়ার জন্য। আমি তো একই কথা বলেছি যাব না। এই করে করে সারা দুপুর টাই কেটে গিয়েছিল ।এরপর দেখি হঠাৎ করেই ঈশা ফোন করছিল ঠাকুর দেখতে যাওয়ার জন্য ।রাগ করে প্রথমে ফোন তুলিনি, তারপরে অনেক বোঝালো ফোন করে চলো বৌদি তোমাকে ঠাকুর দেখিয়ে নিয়ে আসি। আমি প্রথমে বলেছিলাম ঈশানকে নিয়ে ঠাকুর দেখতে যেতে। কিন্তু ও তো আমাকে ছাড়া নড়বে না। তাই বাধ্য হয়ে ওর কথাতে রাজি হয়েছিলাম। যাই হোক সন্ধ্যা বেলায় ঠাকুর দেখার মুহূর্ত পরের পোস্টে শেয়ার করে নিচ্ছি। ঠাকুরের ছবি দুটো আমাদের পাড়ার ঠাকুরের তোলা ছবি।


আজ এইখানে শেষ করলাম। আবারও নতুন কোন পোস্ট নিয়ে হাজির হব আগামীকাল ।সকলে ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন।

Sort:  
Loading...

the booming three -10.26.jpg
curated by wirngo

 yesterday 

Thank you 🙏