পূজো উপলক্ষে বাড়ির সকলের জন্য কেনাকাটা শুরু

in Incredible India • 3 days ago

নমস্কার বন্ধুরা, সকলে কেমন আছেন ?আশা করছি সকলেই ভালো আছেন। আজকে আবারো নতুন একটা পোস্ট নিয়ে হাজির হয়েছি আপনাদের মাঝে আশা করছি সকলেরই ভালো লাগবে।

IMG20260907190610.jpg

বাঙালিদের সবথেকে বড় উৎসব দুর্গাপুজো। আকাশে পেঁজা তুলোর মত মেঘ ভাসতে দেখেই মনে করিয়ে দিচ্ছে যেন পুজো হাতে গোনা আর কয়েকটা দিন রয়েছে। বারবার সারাদিনের আবহাওয়া দেখে আমাদের মনে করিয়ে দিচ্ছে মা আসছেন। পুজো আশা মানে প্রচুর কেনাকাটা। বাড়ির ছোট থেকে বড় আত্মীয়-স্বজন সকলকেই নতুন নতুন জিনিসপত্র দেওয়ার শুরু হয়। পুজোতে কে কি ড্রেস নেবে, সেই নিয়েও প্ল্যানিং চলে। প্রত্যেক বছরই আমি ছোট থেকে বড় সকলকেই নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী নতুন জামা কাপড় দেওয়ার চেষ্টা করি। নিজে না নিলেও অন্যদের দিতে বেশ ভালোই লাগে। এর মজা একেবারেই আলাদা। সকলে নতুন নতুন পোশাকে ভীষণ খুশি হয়। বেশ কিছুদিন ধরেই কেনাকাটা শুরু করে দিয়েছি। তবে সেভাবে আপনাদের মাঝে শেয়ার করা হয়ে ওঠেনি। আমার মত সকলেই হয়তো জোর কদমে কেনাকাটা শুরু করে দিয়েছে।

IMG20260907190600.jpg

সেদিন ছিল মঙ্গলবার ।আকাশটা পরিষ্কার দেখে আমি আর শাশুড়ি মা দুজনেই ঠিক করেছিলাম কেনাকাটা করতে যাব। আসলে বেশ কিছুদিন ধরেই নিম্নচাপের কারণে বৃষ্টি হচ্ছিল। তাই বাইরে বেরোনো হয়নি কেনাকাটা করবার জন্য। সেদিন দুপুরে খাওয়া দাওয়ার পর আমি আর শাশুড়ি মা দুপুর বারোটা নাগাদ বেরিয়ে পড়েছিলাম জামাকাপড় কিনব বলে। আসলে আমি যখনই শাড়ি কিনতে যাই তখনই শাশুড়ি মাকে সাথে করে নিয়ে যায় ।আমি নিজে শাড়ি কিনে নিয়ে আসলে শাশুড়ি মায়ের একেবারেই পছন্দ হয় না। তাই আমি উনাকে প্রত্যেক বছরই সাথে করে নিয়ে শাড়ি কিনতে যাই। সেদিন প্রথমেই চলে গিয়েছিলাম কৃষ্ণনগরে আগমনী বাসন্তীতে। সেখানে প্রচুর রকমের শাড়ির কালেকশন রয়েছে। এছাড়াও শাশুড়ি মা ওই দোকানে আগে কোনদিন যায়নি।

IMG20260929172535.jpg

ওখানে গিয়েই বেশ কিছু শাড়ি দেখতে শুরু করেছিলাম শাশুড়ি মা, ঠাকুমা শাশুড়ি ,আমার মা, মাসি শাশুড়ি ,আরো অনেকের জন্যই বেশ কয়েকটা শাড়ি কিনে নিয়েছিল। এদিকে আমাকেও শাড়ি কিনতে বলছিল। কিন্তু আমি শাড়ির নাম বলতে না পেরে শাশুড়ি মা শাড়ি কিনে দেয়নি। কি শাড়ি নেবে বারবার জিজ্ঞেস করছিল। কিন্তু আমি কোন শাড়ীরই নাম মনে রাখতে পারি না। শাশুড়ি মাকে বললাম তুমি তোমার পছন্দমত কিনে দাও ।তখন উনি বললেন আমরা আগেকার শাড়ির নাম বললে এখন দোকানে সেইসব শাড়ি বের করতে পারবে না। তাই নতুন ধরনের শাড়ি নাম বলে শাড়ি নিতে হবে। তবে এ বছরে সেভাবে শাড়ি কেনার ইচ্ছা ছিল না। তাই শাড়ি নেওয়ার আগ্রহ দেখায়নি। এরপর ওই দোকান থেকেই শাশুড়ি মা আমাকে একটা সুন্দর চুড়িদার কিনে দিয়েছিল।

এরপর ওই দোকান থেকে সমস্ত কিছু কেনাকাটা করে চলে গিয়েছিলাম একটা গয়নার দোকানে। সেখানে থেকে এ বছরে একটা কানের দুল নেব। তাই এ বছরে সেই রকম ভাবে নিজের জন্য কোন কেনাকাটা করা হয়নি। এরপর শাশুড়ি মায়ের কেনাকাটা হয়ে গেলে শাশুড়ি মা কে বাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছিলাম। কিন্তু আমি ওখানেই থেকে গিয়েছিলাম। সেদিনই মামির সাথে ও কেনাকাটা করার কথা ছিল। তাই বাড়ি না গিয়ে মামীকে ফোন করে ডেকে নিয়েছিলাম। মামি আর বোন দুজেনেই এসেছিল। তিনজন মিলে আবারো মামি বোনের জন্য বেশ কিছু পুজোর কেনাকাটা করে নিয়েছিলাম। এখন প্রত্যেকটা শপিং মলে প্রচুর ভিড়। ভালো ভালো কালেকশন বলতে গেলে পুরো শেষ হয়ে গেছে। যেটা পছন্দ হচ্ছে হয়তো সাইজ খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। নয়তো রং পছন্দ হচ্ছে না।

আমরা কেনাকাটা না করে বাড়িতে বসেছিলাম । তাই বুঝতে পারছিলাম না। কিন্তু যাদের পুজো নিয়ে বেশি মাতামাতি তাদের তো কেনাকাটার ও প্রচুর মাতামাতি। দোকানে গেলে বোঝা যাচ্ছে মানুষ দুর্গাপূজো নিয়ে কত মাতামাতি ।তাদের পোশাক কেনার কত উদ্যোগ। যাই হোক মামীর সাথে কেনাকাটা শেষ হওয়ার পর মামিকেও বাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছিলাম। এরপর চলে গিয়েছিল ঈশা । ঈশার সাথেও কিছু কেনাকাটা করবার কথা ছিল। তাই তার সাথেও বেশ খানিকক্ষণ কেনাকাটা করে কিছু খাওয়া দাওয়া করে নিয়েছিলাম । সারাদিন কেনাকাটা করতে করতে প্রায় ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলাম।বাড়ি ফিরতে ফিরতে প্রায় রাত নটা বেজে গিয়েছিল।এই প্রথমবার এত জনের সাথে শুধুমাত্র কেনাকাটা করতে গিয়ে সময় কাটিয়েছিলাম। একই দিনে তিনজনকে সময় দিতে হয়েছিল।যাইহোক পুজোর কেনাকাটা অনেকদিন আগেই শুরু হয়ে গেছে, শুধুমাত্র একদিনের কেনাকাটার মুহূর্ত আপনাদের মাঝে শেয়ার করে নিলাম।


আজ এখানেই শেষ করছি ।আবারো নতুন কোন পোস্ট নিয়ে হাজির হব আগামীকাল ।সকলে ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন।

Sort:  

1000074691.jpg
Curated by @ ripon0630

 3 days ago 

Thank you 🙏

Loading...