সকালবেলায় ঠাকুর দেখতে গিয়ে হতাশ হয়ে বাড়ি ফেরা

in Incredible India • 5 days ago

নমস্কার বন্ধুরা, সকলে কেমন আছেন? আশা করছি সকলেই ভালো আছেন। আজকে আবারো নতুন একটা পোস্ট নিয়ে হাজির হয়েছি আপনাদের মাঝে আশা করছি সকলেরই ভালো লাগবে।

2016.jpg
কৃষ্ণনগরের রাজবাড়ী

এবছরের গত দুদিন ধরেই সপ্তমী। যত দিন যাচ্ছে পুজো গুলো যেন কেমন হয়ে যাচ্ছে ।ছোটবেলায় পাঁচ দিন পুজো হতো। ষষ্ঠী ,সপ্তমী ,অষ্টমী ,নবমীর দশমী। আমরা এই দেখে বড় হয়েছি। কিন্তু যত দিন যাচ্ছে পুজোর সময় সকালবেলায় আবার অষ্টমী অঞ্জলি ভোর বেলায়। এই করে করেই মানুষের মন থেকে সমস্ত ভক্তি উঠে যাচ্ছে। কারণ এত হুটো পাটা করে এত কিছু করা সম্ভব নয়। একটা বছর মানুষ অপেক্ষা করে থাকে আনন্দ করবার জন্য। আমরা ছোটবেলায় যতবার অষ্টমীর অঞ্জলি দিয়েছি সকাল দশটা কিংবা বারোটার সময় হত। যাইহোক আগের দিন আপনাদের মাঝে শেয়ার করলাম ষষ্ঠীতে ঠাকুর দেখার সুন্দর মুহূর্ত।

2017.jpg

সেদিনই বাড়িতে আসবার পর প্ল্যান করেছিলাম পরের দিন যাব কৃষ্ণনগর রাজবাড়িতে ঠাকুর দেখবার জন্য। কৃষ্ণনগর শহরের রাজা ছিলেন রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের রাজবাড়িতে। প্রত্যেক বছরই যাওয়া হয় দুর্গা ঠাকুর জগদ্ধাত্রী ঠাকুর দেখবার জন্য। কিন্তু এ বছরে রাজার বংশধর একজন মারা গিয়েছেন তার জন্য উনারা পুজো করছেন না। কিন্তু ঠাকুর মশাই দায়িত্ব নিয়ে সমস্ত পুজো করছেন। যুগ যুগ ধরে চলে আসছে এই পুজো এই পুজো। বন্ধ করলে তো একেবারে বন্ধ হয়ে যাবে ।তাই ঠাকুর মশাইরা সমস্ত দায়িত্ব নিয়ে নিয়েছে। ভেবেছিলাম সকালবেলায় যাব তাহলে ফাঁকা থাকবে । ফাঁকায় ফাঁকায় মায়ের দর্শন করে নেব। কথায় আছে ভাগ্যে না থাকলে কোন কিছুই সম্ভব নয়।

2018.jpg

সপ্তমী সকালে সেই মতো আমি আর বোন বেরিয়ে পড়েছিলাম ঠাকুর দেখবার জন্য ।বাড়ি থেকে প্রায় দু থেকে তিন কিলোমিটারের রাস্তা হবে ।বোন তো হাঁটতে এখন ভীষণ পছন্দ করছে। তাই দুজনে মিলে হাঁটতে হাঁটতে চলে গিয়েছিলাম রাজবাড়িতে। আমাদের রাজবাড়ী যাবার কথা শুনে বাড়ির সকলে বলছে হেঁটে অতদূর রাস্তা যেতে পারবি তো ।আমরা দুজনে জেদ ধরেই চলে গিয়েছিলাম। গিয়ে দেখি রাজবাড়ী একেবারেই ফাঁকা ।সকালে কোন লোক নেই ।শুধু কয়েকজন হাতেগোনা তারা মর্নিংওয়াকে বেরিয়েছে। কেউ তাদের বাড়ির পোষা কুকুরদের নিয়ে বেরিয়েছে।

2020.jpg

আমরা ঢুকেই প্রথমে রাজবাড়ীর ভিতরে চলে গিয়েছিলাম। ভিতরে গিয়ে দেখি মেনগেট বন্ধ ।তখনও রাজবাড়ীর গেট খোলেনি। কৃষ্ণনগর রাজবাড়ির দুর্গা মায়ের মূর্তিটা একটু অন্যরকম ।সাদা ঘোড়ার উপর মা বিরাজ করে মহাদেবের স্বপ্নদেশ বরাবর এইরকম মূর্তি পূজা করা হয়। তখন আর কি করা যাবে দুই বোন হতাশ হয়ে আবারও বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলাম। অতদূর পরিশ্রম করে গিয়ে যদি ঠাকুর দেখতে না পায়। তাহলে একটু ও ভালো লাগেনা। যাই হোক হাঁটতে হাঁটতে অনেকটা চলে আসার পর আমাদের কৃষ্ণনগর কোতোয়ালি থানাতে দুর্গাপুজো হয় সেখানকার ঠাকুরটা বোনকে দেখালাম । আমাদের কৃষ্ণনগর থানা তে প্রায় তিনখানা পুজো হয় ।মানে তিন জায়গাতেই দুর্গাপূজা হয়।এছাড়াও উল্টোদিকে আরেকটি পূজা হয়েছে ।সেখানে সমস্ত মহিলারা মিলে বেশ সুন্দর করে পুজোটা আয়োজন করেছে ।

2023.jpg

ওখানকার ঠাকুরটা ও বোনকে দেখিয়ে আবারো টুকটুক করে হাঁটতে শুরু করে দিয়েছিলাম ।কারণ তখন ঘড়ির কাঁটায় বাজে সকাল সাতটা। হালকা রোদ উঠে গিয়েছিল ।রোদ উঠে গেলে হাঁটলে প্রচন্ড গরম লাগে ।ভোর বেলায় একটু ঠান্ডা ঠান্ডা আবহাওয়া তাই হেঁটে আরাম পাওয়া যায়। এরপর সোজা বাড়ি চলে এসেছিলাম। সকালবেলায় যদি প্ল্যান করে কোথাও যাওয়া হয় সেটা সম্পূর্ণ না হয়। তাহলে মনটা তো একটু খারাপ হবেই। কিন্তু মন খারাপ করলেও কিছু করবার নেই ।সময় সুযোগ পেলে আবারো একদিন গিয়ে মায়ের দর্শন নিয়ে আসব ।গতকালকে সপ্তমী সকালটা দুই বোন মিলে এভাবেই কাটিয়ে দিয়েছিলাম ।সুন্দর মুহূর্ত আপনাদের মাঝে শেয়ার করে নিলাম।


আজ এইখানে শেষ করলাম। আবারও নতুন কোন পোস্ট নিয়ে হাজির হবো আগামীকাল। সকলে ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন।

Sort:  
Loading...

 3 days ago 

Thank you 🙏