বোনকে নিয়ে ঝুলন যাত্রা দেখতে যাওয়া

in Incredible India24 days ago

নমস্কার বন্ধুরা ,সকলে কেমন আছেন? আশা করছি সকলেই ভালো আছেন। আজকে আবারো নতুন একটা পোস্ট নিয়ে হাজির হয়েছি আপনাদের মাঝে আশা করছি সকলেরই ভালো লাগবে।

IMG_20260828_214418.jpg

গত রবিবার দিন ছিল রাধা কৃষ্ণের ঝুলন যাত্রা। ঝুলন যেদিন বসে তারপরে পাঁচ দিন মতো ঝুলন যাত্রার অনুষ্ঠান চলে। মানে ঝুলন যাত্রা যেদিন বসে তারপরে পূর্ণিমাতে ঝুলন যাত্রা উঠে যায়। ঝুলন যাত্রা সম্পর্কে আমরা সকলেই হয়তো অনেক কিছুই জেনে থাকবেন ।রাধা কৃষ্ণের ঝুলন যাত্রা জগত জোড়া বিখ্যাত। আমরা বাঙালিরা রাধাকৃষ্ণ সম্পর্কে অনেক কিছুই মোটামুটি জানি। তার মধ্যে অন্যতম হলো ঝুলন যাত্রা। এরপরেই শুরু হবে জন্মাষ্টমী রাধাষ্টমী সমস্ত কিছু। ছোটবেলায় আমরা ঝুলনের নাম শুনলেই স্কুল থেকে বাড়ি এসে বিভিন্ন পাতাবাহারি গাছের ডাল এছাড়া সবুজ যে শ্যাওলা গুলো হয় সেগুলো বিভিন্ন জায়গা থেকে তুলে নিয়ে এসে সমবয়সী সকলে একত্রিত হয়ে বাড়ির এক কোণে ঝুলন তৈরি করতাম। কৃষ্ণনগরে মাটির পুতুল বিখ্যাত। বিভিন্ন রকমের মাটির পুতুল পাওয়া যায়। এমনকি ছোটবেলায় আমরাও নিজেরা টুকটাক মাটির পুতুল তৈরি করে ঝুলন তৈরি করতাম।

IMG_20260828_214510.jpg

সকলে মিলে একসাথে ঝুলন তৈরি করে ভীষণ মজা পেতাম। এমনকি সকলের বাড়ি থেকে বিভিন্ন খাবার প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র তুলে তালের বড়া এমনকি পায়েস এইসব বানাতাম। আমাদের ছোটবেলায় সব বিষয় নিয়েই একটা আগ্রহ ছিল। কিন্তু এখনকার বেশিরভাগ ছেলে মেয়েরা বোঝে না ঝুলন কি জিনিস। কৃষ্ণনগরে বেশ কিছু জায়গাতে বহু প্রাচীনকাল থেকে ঝুলন যাত্রার একটা অনুষ্ঠান চলে। কয়েকবার আমি নিজেও দেখতে গিয়েছিলাম তবে এ বছরে ভেবেছিলাম মামার মেয়েকে দেখাতে নিয়ে যাব। নতুন জিনিস হয়তো দেখে ভীষণ খুশি হবে। তবে আমি ওকে নিয়ে যাবার কথা বললে ও ভীষণ খুশি হয়েছিল দেখতে যাবে বলে। প্রথমে অবশ্য মনে মনে বুঝতে পারিনি, ঝুলন কি জিনিস। হয়তো ভেবেছিল কোন মেলা-টেলা হবে। সেই ভেবেই আমার সাথে প্রচন্ড আগ্রহ নিয়ে সেদিন বের হয়েছিল।

IMG_20260828_214526.jpg

কৃষ্ণনগরে চেতলাঙ্গিয়া একটি বহু পুরুনো বাড়ি রয়েছে। ওখানে বহু বছর ধরে বহু যুগের পুরনো পুতুল দিয়ে ঝুলন সাজানো হয়। তবে এর আগে কখনো চেতলাঙ্গিয়া বাড়িতে আমি ঝুলন দেখতে যাইনি। অন্যান্য জায়গাতে অবশ্য গিয়েছিলাম। দুই বোন মিলে প্রথমে ওখানেই গিয়েছিলাম ঝুলন দেখার জন্য। দেখি ওখানে প্রচন্ড ভিড়। সুন্দর করে সাজিয়ে ছিল ।সকল মা বাবা তার সন্তানদের ঝুলন যাত্রা দেখাতে নিয়ে গিয়েছেন। আমিও বোনের হাত ধরে ঝুলনের সামনে নিয়ে দাঁড় করালাম। ওতো বুঝতেই পারছে না এটা কি জিনিস। তবে আমি যখন অনেকদিন আগেকার পুতুলগুলো দিয়ে ঝুলন সাজানো দেখছিলাম সত্যি ভীষণ ভালো লাগছিল। পাশে অবশ্য অন্যান্য ছেলেমেয়েদের বাবা মা তারা নিজেদের মধ্যেই বলাবলি করছিল এইসব পুতুল কোথায় হারিয়ে গেছে। আমার ছেলে মেয়েরা এসব জিনিস কোনদিন চোখেই দেখেনি। ওদের মুখে একটাই কথা এখনকার ছেলেমেয়েরা ওই সবের কি বুঝবে।

IMG_20260828_214539.jpg

খানিকক্ষণ ওনার মুখের দিকে তাকিয়ে আমিও ভাবছিলাম সত্যি আমাদের ছোটবেলা আর এদের ছোটবেলায় একেবারে অন্যরকম। কোথায় যেন সব হারিয়ে গেছে।আমি বোনকে ঝুলন দেখাতে নিয়ে এসে ব্যর্থ হয়েছি। এটা আমি বুঝে গিয়েছিলাম। আমি চারিদিকে ঘুরে ঘুরে একটু ঝুলন দেখছিলাম। আমার তো বেশ ভালোই লেগে ছিলো। এরপর বেরিয়ে পড়েছিলাম আরেকটি জায়গায় যাব বলে। ওখানেও বেশ কিছু বছর ধরে ঝুলনের অনুষ্ঠান করছে। তবে ওই দিন থেকেই নাকি ওখানে অনুষ্ঠানটি শুরু হয়েছিল। তাই তেমন কোন ভিড় ছিল না। ওখানে যেহেতু বেশ কয়েকটি দোকান বসে ছিল। তাই ওখানে আবার বোনের একটু ভালো লেগেছিল। কিন্তু ওই যে প্রথমেই বললাম ঝুলন সম্পর্কে ওর কোন জ্ঞানই ছিল না। ওখানেও বেশ সুন্দর করে ঝুলন সাজানো হয়েছিল। তবে আমি সমস্তটাই খুব ভালোভাবে দেখছিলাম।

IMG20260825185228.jpg

কারণ ছোটবেলায় অর্থের অভাবে আমরা বেশিরভাগ ঘরে যেসব জিনিস থাকতো সেগুলো দিয়েই ঝুলন সাজাতাম। এখন সকলেই বিভিন্ন রকমের পুতুল গাড়ি এইসব কিনে ঝুলন সাজায়। রথের মেলা থেকেই আমরা ছোটখাটো কিছু পুতুল কিনে রাখতাম ঝুলন সাজাবার জন্য। সেদিন বহু বছর পর আবারও সেই পুরনো স্মৃতি চারণ করে বেশ ভালোই লেগে ছিলো ।যত দিন যাচ্ছে এইসব জিনিসগুলো আমাদের মধ্যে থেকে একেবারেই হারিয়ে যাচ্ছে। কারণ এখন তো ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের ঝুলন নিয়ে কোন মাতামাতি নেই। যেটা ছোটবেলায় আমাদের মধ্যে ছিল। ছবিতে পুতুল গুলো খুব ভালো ভাবে বোঝা যাচ্ছে না। তবে সামনাসামনি ঝুলনের চিত্র গুলো খুব সুন্দর ছিল।ঝুলনের বিভিন্ন চিত্র গুলিতে পুরোনো দিনের বিভিন্ন চিত্র ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছে। যেমন-খেলার মাঠ,ধান খেত, স্কুল, কলেজ এছাড়া শরতের ছোঁয়ায় মা দূর্গার আগমনের বার্তা আরো অনেক কিছু।


আজ এইখানেই শেষ করলাম। আবারও নতুন কোন পোস্ট নিয়ে হাজির হব আগামীকাল ।সকলে ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন।

Sort:  
Loading...
 24 days ago 

Thank you 🙏