এবারের শিক্ষক দিবস
নমস্কার বন্ধুরা ।আশা করছি সকলে সুস্থ আছেন।।গতকাল যেখানে শেষ করেছিলাম আজ তারপর থেকেই লিখছি।
তবে গত কিছু মাস হল ,আমি যার কাছে পড়ছি, তিনি আমার খুব কাছের একজন মাস্টারমশাই। অনেক ছোটবেলা থেকে তার কাছে আমার পড়াশোনা। এখন চাকরির সূত্রে পড়াশোনা চলছে তার কাছেই। তাই আমরা গ্রুপের চার-পাঁচজন মিলে ঠিক করেছিলাম শিক্ষক দিবসে কিছু উপহার দেব স্যারকে ।আমি এই স্যারকে কাকা বলে ডাকি, কারণ আমার বাড়ির সাথে ওনার অনেক ভালো সম্পর্ক।। তিনিও আমাকে নিজের ছোট ভাইজির মতন দেখেন।
সবার মতামত অনুযায়ী কাকার জন্য এবার বোট কোম্পানির একটা সাউন্ড সিস্টেম কিনেছিলাম। শিক্ষক দিবসের পরেই পড়তে গিয়ে যখন সেটা হাতে তুলে দিলাম, কাকাতো প্রথম বড় বড় চোখ করে তাকালো। এগুলো কেনার কেন দরকার ছিল। পাগলের মত কাজ করিস তোরা। একটু বকাঝকা, তবে মিষ্টি সুরে। উপহার পেতে কার নাহ ভালো লাগে।
পরে জানতে পারলাম ,কাকার কাছে অলরেডি বোট কোম্পানির একটা সাউন্ড সিস্টেম আছে। তাই আমি ঠিক করলাম ,ওটা চেঞ্জ করে অন্য কিছু কিনব। শিক্ষক দিবস টা এইভাবে কেটেছে এ বছর।ওইটুকুনি সময়ের জন্য ছবি তুলে আর উপহার দিয়ে। তারপর তো আবার পড়াশোনা।
কাকার কাছে পড়তে গেলে কাকা চার ঘন্টা পড়ায়। কোনরকম ব্যবসার খাতীরে ওনার পড়ানো না। খুব প্রিয় ছাত্র-ছাত্রী গুলো যাতে এটা ভালো চাকরি পেতে পারে, নিজের গন্তব্য খুঁজে পেতে পারে, এটাই ওনার ইচ্ছা।
সেদিন কাকা খাওয়ার জন্য বারবার বলছিল। আমাদের পড়ার গ্রুপের দুজন সেদিনকে আসতে পারেনি বলে সেদিন আমরা স্কিপ করলাম। তারপরে যেদিনকে খাওয়া দাওয়ার প্ল্যান করা হলো , সেদিনকেও পড়া ছিল। প্রায় তিন ঘণ্টা পড়ার পর, লাঞ্চটা কাকার বাড়িতে সারা হলো।
কাকা আমাদের জন্য অর্ডার করেছিল ফ্রাইড রাইস আর চিকেন কষা। ফ্রাইড রাইসের পরিমাণটা প্রায় দুজনার মতন। আমি হাফ খেতে পেরেছি, আর বাকি বাড়িতে আনতে হয়েছে। চিকেনও দিয়েছিল ছ 'পিস করে। আমি কখনোই এতগুলো চিকেন খাই না, খুব জোর দুই পিস। তাই বাড়িতে এসে ঈশানের বাকিটা হয়ে গেছে।।
ঈশানের শিক্ষক দিবসের খাওয়া দাওয়াতে আমারও ভাগ বসেছে। ও টিউশন ব্যাচগুলো থেকে যা যা খাওয়ার এনেছিল , সবই মিলেমিশে খাওয়া হয়েছে।
টিচার্স ডে আসলে স্যার কি খাওয়াবেন ,এই নিয়ে যে উত্তেজনা ছিল আমাদের মধ্যে, তা এখন আমি ঈশানের মধ্যেও দেখতে পাই। ওদের পড়ার ব্যাচে টিচার্স ডে পালন করা হয়। কেউ গান গায় ,কেউ নাচ করে, কেউ আবার আবৃতি।
এবারে ওর আর্টস গ্রুপের ব্যাচ থেকে পড়ে যখন ও বাড়ি ফিরল ,ওর মুখের হাসি দেখে বুঝতে পারলাম, টিচার্স ডে পালন ওর খুব ভালো লেগেছে। ও সেখানে গিটারও বাজিয়েছে।
পড়াশোনার পাশাপাশি এই ছোট্ট খাটো অনুষ্ঠানগুলো সত্যিই ছেলেমেয়েদের অনেক আনন্দ দেয় , পড়ার প্রতি একটা অন্যরকম তাল তুলে দেয়। একঘেয়েমি জীবন থেকে একটু আলাদাভাবে টিউশন ব্যাচে এইভাবে আনন্দ সত্যি আমরা উপভোগ করেছি খুব। ভাইকে এইভাবে আনন্দ করতে দেখে আমার নিজেরও খুব ভালো লাগে আর ছোটবেলাকার কথা মনে পড়ে।
যাইহোক আজকে এখানেই শেষ করছি।সকলে ভালো থাকুন।




