উৎসবের দিন সকলের সমান যায় না।

in আমার বাংলা ব্লগ • 5 days ago


কেমন আছেন "আমার বাংলা ব্লগ"এর সকল সদস্যরা? আশা করি সৃষ্টিকর্তার আশীর্বাদে সবাই খুব ভালো আছেন। আমিও খুব ভালো আছি। আজ আমি একটি পোস্ট নিয়ে আপনাদের মাঝে উপস্থিত হয়েছি। আশাকরি আমার পোস্টটি পড়ে আপনাদের খুব ভালো লাগবে।


image.png


সোর্স



আমরা অনেকেই এই উৎসবের দিনগুলোকে অনেক সুন্দর ভাবে উদযাপন করে থাকি। বছরের বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ধরনের উৎসব আমাদের একটার পর একটা লেগেই থাকে। তবে এর মধ্যে সবথেকে বড় যে উৎসব সেটি হল দুর্গাপূজা। এই দুর্গাপূজা আমাদের সকলের জন্য ভীষণই স্পেশাল হওয়া সত্বেও আমাদের সকলের জীবনে দুর্গা পূজার মতো এই বড় উৎসবটি সমান যায় না। কারোর জীবনে এই উৎসব যায় খুবই হাসির মজার মধ্য দিয়ে আবার কারোর জীবনে এই উৎসবের দিনগুলো কাটে খুবই সাধারণ অন্যান্য দিনের মতো আবার কিছু কিছু মানুষের এই উৎসবের দিনগুলি যায় খুবই কষ্টের মধ্য দিয়ে। কিছু মানুষ এই উৎসবের দিনগুলোতেই তাদের আর্থিক বিভিন্ন ধরনের সমস্যা মেটানোর চেষ্টা করে থাকে। আর এই সমস্যা মেটানোর চেষ্টার জন্য তারা সঠিকভাবে এই পূজা অর্থাৎ আমাদের উৎসবটাকে উপভোগ করতে পারে না। অনেক মানুষ এমন আছে যারা এই উৎসবের দিন গুলি পুরো বছর ধরে আসার অপেক্ষা করে যেন তারা বিভিন্ন উপায়ে কিছু উপার্জন করতে পারে এবং এই সুযোগে অর্থ উপার্জন করে নিজের চাহিদা ও প্রয়োজন পূরণ করতে পারে।


অনেক মানুষ এমন আছে যারা ভীষণ সাহসী ধরনের হয় যারা বিভিন্ন পারিবারিক ও শারীরিক সমস্যা থাকা সত্ত্বেও পুজোর দিন আনন্দ করতে ও ঘোরাঘুরি করতে একটু পিছপা হয় না। আবার অপরদিকে দেখা যায় কিছু কিছু মানুষ এমন আছে যারা পরিবারের দায়িত্বের ভারে নিজের জন্য একটা জামা পর্যন্ত কিনতে পারেনা আর উৎসবে উপভোগ করা তো দূরের কথা। কিছু কিছু মানুষ এমন আছে যাদের কাছে উৎসব উপভোগ করা অর্থাৎ ঘুরে বেরিয়ে বিভিন্ন দোকানে পছন্দের খাবার খাওয়া একদমই বিলাসিতার ব্যাপার। কিছু কিছু মানুষ থাকে যারা এই উৎসবের সময়টাতেও অর্থাৎ বিভিন্ন পুজো কারণে বিশেষ করে দুর্গাপুজোর মধ্যেও নিজের দায়িত্ব কর্তব্য পালন করে যেতে হয় অর্থাৎ যারা ডাক্তার তাদের নিয়মিত কাজ করে যেতে হয় আর বিভিন্ন রোগীদের দেখাশোনা করতে থাকতে হয়। ডাক্তারি লাইনে যেসব মানুষ কর্মরত থাকে তাদের উৎসব বলে কোন আলাদা দিন থাকে না আবার ছুটি বলে কোন জিনিস থাকে না। সব জিনিস সমান এবং সবদিনে তাদের কাছে উৎসব বিহীন স্বাভাবিক দিন হয়ে থাকে। কারণ কর্ম তাদের প্রতিদিনের মতো নিয়ে সমানভাবে করে যেতে হয়, সেটা উৎসব হোক বা সাধারণ দিন।


ডাক্তারের মতনই কিছু কিছু প্রফেশন বা চাকরি এমন থাকে যাদের উৎসবের দিনে আরও বেশি কাজ থাকে ছুটি থাকার বদলে। তাই এই সব মানুষ কোনভাবেই উৎসবের দিনগুলো সুন্দরভাবে উদযাপন করতে পারেনা আনন্দ করে কাটাতে পারেনা। এর সাথে কিছু মানুষ এমন আছে যাদের বাড়িতে অসুস্থ বয়স্ক ব্যক্তি মা বাবা অথবা অন্য কোন আত্মীয় থাকে যাদের দায়িত্ব তাদের ওপরেই থাকে। এসব অসুস্থ ব্যক্তিকে ছেড়ে উৎসবে মেতে ওঠা কোনভাবেই সম্ভব নয় এমন কি অসুস্থ ব্যক্তিদের দেখাশোনা করা এবং তাদের চিন্তাতেই উৎসবের দিনে আনন্দ করার কথা মাথায় আসে না। অসুস্থ মানুষ ঘরে থাকলে যেমন উৎসব ভালো করে কাটানো যায় না তেমনি নিজে অসুস্থ থাকলেও উৎসব কোনোভাবেই উদযাপন করা হয়ে ওঠে না। আসলে আমাদের কাছে উৎসবে দিনগুলো বড়ই আবেগের, বাড়িতে শুয়ে বসে থাকলেও প্রত্যেক মানুষের উৎসবে অংশগ্রহণ করতে চায় এবং নিজের মত করে সুন্দরভাবে দিনগুলি এবং রাতগুলি কাটাতে চায়।


আমাদের সবার জীবন যেমন সমান নয় তেমনি সবার ভাগ্য সমান নয় যার কারণে আমাদের সবার কাছে উৎসবের দিনগুলো সবার হলেও দিনগুলো সমানভাবে উৎসব মুখরিত হয় না। আমাদের আশেপাশে এমন অনেক মানুষ রয়েছে যাদের এই উৎসবের দিনগুলো আরো বেদনাদায়ক হয়ে ওঠে কারণ এই উৎসবের দিনকে ঘিরে তাদের জীবনে কোন না কোন অঘটন বা খারাপ স্মৃতি মনের মধ্যে জেগে ওঠে এবং ভীষণ কষ্টদায়ক হয়ে ওঠে। আসলে কোন ভালো দিন বা উৎসবের দিন যদি কোন খারাপ ঘটনা আবার জীবনের কোন দুর্ঘটনার সাক্ষী হয় তবে সেই দিনগুলো উৎসবের না হয়ে বরং আরো কষ্টের হয়ে ওঠে। তাই আমরা যতই উৎসবের দিনগুলি উৎসবের মতো করে কাটানোর চেষ্টা করি না কেন এবং ভাবি সবার জন্যই এই উৎসবের দিনগুলি সুন্দর কিন্তু আসলে সবার জন্য উৎসবের দিনগুলি উৎসব মুখরিত হয় না। প্রত্যেক মানুষের কাছে উৎসবের দিনগুলি আলাদা আলাদা হয়ে থাকে।

ক্যামেরা পরিচিতি : Realme
ক্যামেরা মডেল : realme narzo 60 pro
ক্যামেরা লেংথ : 26 mm



আশা করি আজকের পোস্টটি আপনার খুব ভালো লেগেছে। আর ভালো লাগলে কমেন্ট করে অবশ্যই আমাকে জানাতে ভুলবেন না।