ভয়ানক আত্বীয়স্বজন!
আজকে আমি এসেছি আপনাদের সকলের সাথে একটি জেনারেল রাইটিং পোস্ট শেয়ার করতে। আমার লেখার মাধ্যমে আমার চিন্তা ভাবনা গুলো আপনাদের কাছে পৌঁছানোর লক্ষ্যে এই লেখাগুলো শেয়ার করা।
আশা করছি যে আপনারা আপনাদের মূল্যবান মন্তব্যের মাধ্যমেই আমার এই লেখাটি সৌন্দর্য বৃদ্ধি করবেন এবং আপনাদের মতামত ব্যক্ত করবেন। আমি যদি কোনো কিছু ভুল বলে থাকি। তাহলে অবশ্যই আমাকে শুধরে দিতে ভুলবেন না।
কিছু কিছু আত্মীয়স্বজন বিষের চেয়েও বেশি ভয়ানক হয়।মানে এরা যেখানেই যায় সেখানেই কোনো না কোনো ভেজাল তৈরি করে আসে।একটা সুন্দর পরিবেশ কীভাবে নষ্ট করতে হয় একটা ভালো সম্পর্কের মধ্যে কীভাবে সমস্যা তৈরি করতে হয় সেটা যেনো এদের খুব ভালোভাবে জানা থাকে।আর সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হচ্ছে এরা অনেক সময় নিজেদের এমনভাবে উপস্থাপন করে যেনো সবার ভালো চাওয়ার দায়িত্বটা শুধু তাদেরই।অথচ এদের কথাবার্তা আর কাজের কারণে অন্য মানুষ কতোটা অশান্তিতে থাকে সেটা নিয়ে তাদের কোনো চিন্তাই থাকে না।আমাদের লাইফে আত্মীয়স্বজনের একটা আলাদা জায়গা আছে।মানে সুখে দুঃখে পাশে থাকা,বিপদে সাহায্য করা বা পরিবারের মানুষের সঙ্গে সুন্দর সম্পর্ক বজায় রাখা এগুলোই তো আত্মীয়তার সৌন্দর্য।কিন্তু কিছু মানুষ এই সম্পর্কগুলোকেই নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করে।কারও ব্যক্তিগত বিষয়ে নাক গলানো,একজনের কথা আরেকজনের কাছে অন্যভাবে বলা,অকারণে তুলনা করা বা পরিবারের মানুষের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি তৈরি করা এসব যেনো তাদের নিয়মিত কাজ।
এদের কারণে অনেক সময় এমন সম্পর্কেও দূরত্ব তৈরি হয় যেগুলো বছরের পর বছর ধরে সুন্দরভাবে চলে আসছিলো।আর সবচেয়ে বিরক্তিকর লাগে তখন যখন এরা অন্যের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে সিদ্ধান্ত দিতে শুরু করে।কে কী করবে,কীভাবে চলবে,কার সঙ্গে সম্পর্ক রাখবে, কোন সিদ্ধান্ত নেবে, সবকিছুতেই তাদের মতামত দিতে হবে।অথচ সেই সিদ্ধান্তের কারণে অন্য মানুষকে কী পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে সেটা নিয়ে তারা ভাবে না।নিজের জীবনে হয়তো এতটা দায়িত্ব নেয় না।কিন্তু অন্যের জীবনে কী হচ্ছে সেটা নিয়ে তাদের আগ্রহের কোনো শেষ নেই।আরেক ধরনের আত্মীয় আছে যারা সামনে খুব ভালো ব্যবহার করে।কিন্তু আড়ালে গিয়ে এমন কথা বলে বেড়ায় যা থেকে নতুন নতুন সমস্যা তৈরি হয়।একজনের কাছে আরেকজনের নামে কথা বলে আবার দুই পক্ষের সামনেই ভালো থাকার চেষ্টা করে।যার কারণে অন্য মানুষ বুঝতেই পারে না কোথা থেকে সমস্যাটা শুরু হচ্ছে।এদের কারণে পরিবারের মধ্যে অশান্তি তৈরি হয়,মানুষ একে অপরকে সন্দেহ করতে শুরু করে আর আস্তে আস্তে বিশ্বাসের জায়গাটাও নষ্ট হয়ে যায়।
আসলে আত্মীয় হলেই যে সবাইকে নিজের জীবনের সব বিষয়ে জায়গা দিতে হবে এমন কোনো কথা নেই।মানে সম্পর্কের সম্মান বজায় রাখা যেমন জরুরি তেমনি নিজের মানসিক শান্তি রক্ষা করাও জরুরি। কেউ যদি বারবার অশান্তি তৈরি করে,ব্যক্তিগত বিষয়ে হস্তক্ষেপ করে বা অন্যের ক্ষতি করার চেষ্টা করে।তাহলে তার সঙ্গে কিছুটা দূরত্ব বজায় রাখাই ভালো।কারণ শুধু আত্মীয়তার পরিচয় দিয়ে কারও খারাপ আচরণকে সবসময় মেনে নেওয়া যায় না।মানে দিনশেষে সম্পর্ক সুন্দর থাকে ভালো ব্যবহার,বিশ্বাস আর পারস্পরিক সম্মানের মাধ্যমে।শুধু রক্তের সম্পর্ক থাকলেই কেউ আমাদের আপন হয়ে যায় না।যে মানুষগুলো আমাদের জীবনে শান্তির বদলে অশান্তি নিয়ে আসে তাদের ব্যাপারে সতর্ক থাকা উচিত।আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখার জন্য নিজের শান্তি নষ্ট করে ফেলতে হবেন এমন কোনো নিয়ম নেই।কে সত্যিকার অর্থে আমাদের ভালো চায় আর কে শুধু সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে সমস্যা তৈরি করে সেটা বুঝতে শেখাই সবচেয়ে বেশি ইম্পর্ট্যান্ট।