অন্যের সুখে!
আজকে আমি এসেছি আপনাদের সকলের সাথে একটি জেনারেল রাইটিং পোস্ট শেয়ার করতে। আমার লেখার মাধ্যমে আমার চিন্তা ভাবনা গুলো আপনাদের কাছে পৌঁছানোর লক্ষ্যে এই লেখাগুলো শেয়ার করা।
আশা করছি যে আপনারা আপনাদের মূল্যবান মন্তব্যের মাধ্যমেই আমার এই লেখাটি সৌন্দর্য বৃদ্ধি করবেন এবং আপনাদের মতামত ব্যক্ত করবেন। আমি যদি কোনো কিছু ভুল বলে থাকি। তাহলে অবশ্যই আমাকে শুধরে দিতে ভুলবেন না।
আমি খুব গভীর ভাবে ফিল করেছি যে নিজের শরীরকে কষ্ট দিয়ে আসলে কোনো কিছুই করা উচিত না।আমরা অনেক সময় অন্যকে খুশি করতে গিয়ে নিজের ওপর প্রয়োজনের চেয়ে বেশি চাপ দিয়ে ফেলি।এমন অনেক কাজ করি যেগুলো না করলেও হয়তো তেমন কোনো সমস্যা হতো না।কিন্তু অন্য মানুষ কী ভাববে সে কষ্ট পাবে কি না বা আমাদের ওপর অসন্তুষ্ট হবে কি না এসব চিন্তা করতে গিয়ে নিজের শরীরের কথা ভুলে যাই।একটা সময় গিয়ে শরীর আর সেই চাপ নিতে পারে না।তখন নিজেরই অনেক বেশি কষ্ট হয়।আ আমার মনে হয় যে অন্যের জন্য কিছু করা অবশ্যই ভালো।কিন্তু সেটা করতে গিয়ে নিজের ক্ষতি করে ফেলা কখনোই ভালো কিছু হতে পারে না।আমরা অনেক সময় এমনভাবে দায়িত্ব পালন করি যেনো সবকিছু আমাদেরই করতে হবে।আর অন্য কেউ একটু কষ্ট পাবে ভেবে নিজের বিশ্রামটুকুও বাদ দিয়ে দিই।নিজের কাজের পাশাপাশি অন্যের কাজও করে দিই। এমনকি শরীর খারাপ লাগলেও কাজ থামাতে চাই না।অথচ যাদের জন্য এতো কিছু করছি তাদের অনেকেই হয়তো বুঝতেও পারে না যে আমরা নিজেদের কতোটা কষ্ট দিচ্ছি।
সবচেয়ে খারাপ লাগে তখন যখন নিজের এত পরিশ্রমের কোনো মূল্যই থাকে না।আমরা ভাবি যে এত কিছু করছি মানুষ হয়তো সেটা বুঝবে আমাদের পরিশ্রমের প্রশংসা করবে কিংবা অন্তত আমাদের কষ্টটা উপলব্ধি করবে।কিন্তু বাস্তবে অনেক সময় দেখা যায় মানুষ আমাদের এই অতিরিক্ত পরিশ্রমকে স্বাভাবিক হিসেবেই ধরে নেয়।আজ একটা কাজ করে দিলে পরের দিন আরও একটা কাজের দায়িত্ব দিয়ে দেয়।আমরা যে ক্লান্ত হয়ে পরছি আমাদেরও যে বিশ্রামের প্রয়োজন আছে সেটা আর কেউ ভাবতে চায় না।তাই বলে আমি মনে করি না যে অন্যের জন্য কিছু করা বন্ধ করে দেওয়া উচিত। বরং আমাদের বুঝতে হবে কোথায় গিয়ে থামতে হবে।মানে কাউকে সাহায্য করা আর নিজের সবটুকু শক্তি শেষ করে ফেলা এক বিষয় না।আমাদের শরীরেরও একটা সীমা আছে।
আর সেই সীমার বাইরে গিয়ে দিনের পর দিন কাজ করতে থাকলে একসময় নিজেরই ক্ষতি হবে। তখন অন্যকে সাহায্য করার মতো শক্তিটুকুও হয়তো থাকবে না।আমাদের একটা বিষয় মনে রাখা উচিত নিজের যত্ন নেওয়াটাও দায়িত্বের মধ্যে পরে।সবসময় অন্যের প্রয়োজনকে নিজের প্রয়োজনের আগে রাখতে হবে এমন কোনো নিয়ম নেই।কখনো ক্লান্ত লাগলে বিশ্রাম নেওয়া,শরীর ভালো না থাকলে কাজ কমিয়ে দেওয়া বা প্রয়োজন হলে কাউকে না বলা কোনো অপরাধ না।নিজের সীমাবদ্ধতা বুঝতে পারাটা অনেক বেশি জরুরি।জীবনে অন্যকে সুখী করতে গিয়ে নিজের শান্তি,সুস্থতা আর স্বাভাবিক জীবনযাপন নষ্ট করে ফেলার কোনো মানে নেই।কারণ শেষ পর্যন্ত নিজের শরীরের যত্ন নেওয়ার দায়িত্বটা আমাদেরই।তাই অন্যের জন্য যতটুকু করা সম্ভব ততটুকুই করা উচিত। তার বেশি করতে গিয়ে নিজেকে কষ্ট দেওয়ার প্রয়োজন নেই।সবাইকে খুশি রাখা আমাদের দায়িত্ব না।নিজের শরীর ভালো রাখা এবং নিজের শান্তির দিকে খেয়াল রাখাও সমান ইম্পর্ট্যান্ট।

