ভিক্টিম ও সুযোগ!
আজকে আমি এসেছি আপনাদের সকলের সাথে একটি জেনারেল রাইটিং পোস্ট শেয়ার করতে। আমার লেখার মাধ্যমে আমার চিন্তা ভাবনা গুলো আপনাদের কাছে পৌঁছানোর লক্ষ্যে এই লেখাগুলো শেয়ার করা।
আশা করছি যে আপনারা আপনাদের মূল্যবান মন্তব্যের মাধ্যমেই আমার এই লেখাটি সৌন্দর্য বৃদ্ধি করবেন এবং আপনাদের মতামত ব্যক্ত করবেন। আমি যদি কোনো কিছু ভুল বলে থাকি। তাহলে অবশ্যই আমাকে শুধরে দিতে ভুলবেন না।
একটা বিষয় কি আসলে সবসময় ই নিজেকে ভিক্টিম প্লে করার মানে হচ্ছে সবসময় নিজেকে দুর্বল করে রাখা।এটা মানেন তো আপনারা?আর এই দুর্বল করে রাখাটা আমাদের জন্য মোটেও ভালো কিছু না।কারণ আমরা যখন সবসময় নিজেকে অসহায় হিসেবে তুলে ধরতে থাকি।তখন অনেক মানুষ আমাদের সেই অবস্থাটাকেই স্বাভাবিকভাবে নিতে শুরু করে। তারা ভাবতে থাকে।আর এই মানুষটা হয়তো নিজের হয়ে কথা বলতে পারবে না,নিজের সিদ্ধান্ত নিজে নিতে পারবে না।তাই যা ইচ্ছা বলা যায় যা ইচ্ছা করা যায়।আর আমার কাছে মনে হয় যে এটাই সবচেয়ে বড় সমস্যা।আসলে জীবনে সবারই কমবেশি খারাপ সময় আসে।কেউ কোনো পরিস্থিতিতে কষ্ট পায়,কেউ অন্যের ব্যবহারে আঘাত পায় আবার কেউ নিজের ভুলের কারণেও সমস্যায় পরে।এসব বিষয় আসলে স্বীকার করাতে কোনো সমস্যা নেই বরং নিজের কষ্টের কথা বলতে পারা বা প্রয়োজনের সময় সাহায্য চাওয়াটা স্বাভাবিক।কিন্তু সবসময় নিজেকে এমনভাবে উপস্থাপন করা যেনো সবকিছুতেই আমি অসহায় আর আমার কোনো কিছু করার ক্ষমতা নেই।এটা নিজের জন্যই ক্ষতিকর।
আসলে কিছু মানুষ আছে যারা মনে করে নিজেকে যতো বেশি অসহায় দেখানো যাবে অন্যের কাছ থেকে ততো বেশি সুবিধা পাওয়া যাবে।মানে নিজের ভুল থাকলেও সেটা স্বীকার না করে সব দোষ পরিস্থিতি কিংবা অন্য মানুষের ওপর চাপিয়ে দেয়।কোনো সমস্যার মুখোমুখি হলে সমাধান খোঁজার বদলে নিজেকে ভুক্তভোগী হিসেবে তুলে ধরতেই বেশি আগ্রহী থাকে।হয়তো শুরুতে কিছু মানুষ তাদের প্রতি সহানুভূতি দেখায় সাহায্যও করে।কিন্তু সবসময় একইভাবে চলতে থাকলে একটা সময় মানুষ বিষয়টাকে অন্যভাবে দেখতে শুরু করে।আর আমার কাছে মনে হয় কি সিমপেথি আর সুযোগ নেওয়ার মধ্যে পার্থক্য আছে।কেউ সত্যিই সমস্যায় পড়লে তার পাশে দাঁড়ানো উচিত।কিন্তু কেউ যদি বারবার নিজের অসহায়ত্বকে ব্যবহার করে অন্যের কাছ থেকে সুবিধা নিতে চায়।তাহলে সেটা ভালো কোনো অভ্যাস নয়।কারণ এতে মানুষ নিজের সমস্যার সমাধান করার চেষ্টা কমিয়ে দিতে পারে।মানে সবসময় অন্য কেউ এসে পরিস্থিতি ঠিক করে দিবে এমন প্রত্যাশা তৈরি হয় আরকি।মানে নিজেকে দুর্বল দেখালেই যে মানুষ আমাদের বেশি ভালোবাসবে বা বেশি সম্মান করবে, এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই বরং কিছু মানুষ এই দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে নিজেদের সুবিধা আদায় করতে পারে।তাই নিজের কষ্টের কথা বলা আর নিজেকে সবসময় অসহায় হিসেবে ধরে রাখা এক বিষয় না।আমি কোনো সমস্যায় পরতে পারি,আমার সাহায্যের প্রয়োজন হতে পারে।কিন্তু তাই বলে আমি নিজের হয়ে কথা বলতে পারবো না এমনটা ভাবার কোনো কারণ নেই।মানেবআমাদের বুঝতে হবে যে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে বলা,নিজের ভুল স্বীকার করা আর প্রয়োজন হলে অন্যায়ের প্রতিবাদ করা খুবই ইম্পর্ট্যান্ট।মানে সবসময় শক্ত থাকার একটিং করাও ইম্পর্ট্যান্ট না।মানে খারাপ হলে সেটা প্রকাশ করা যায়,কষ্ট পেলে সেটা বলা যায়।কিন্তু সেই কষ্টকে নিজের পরিচয় বানিয়ে ফেলা ঠিক না।আসলে লাইফে আমাদের এমন চিন্তাভাবনা তৈরি করা দরকার যেখানে নিজের দুর্বলতাগুলোকে বুঝেও সেগুলো কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা থাকবে।কারণ মানুষ হিসেবে আমাদের সবারই সীমাবদ্ধতা আছে।কিন্তু সেই সীমাবদ্ধতার কারণে নিজেকে সবসময় অসহায় ভাবতে থাকলে সামনে এগিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পরে।
আসলে ভিক্টিম হওয়ার অভিজ্ঞতা আর সবসময় ভিক্টিমের ভূমিকায় নিজেকে আটকে রাখা এক জিনিস না।অন্যায়ের শিকার হলে নিজের কথা বলা উচিত প্রয়োজনে সাহায্যও নেওয়া উচিত।কিন্তু অন্যের সহানুভূতি পাওয়ার জন্য নিজেকে সবসময় দুর্বল করে রাখা কোনো সমাধান না বরং নিজের অধিকার বোঝা,নিজের সিদ্ধান্তের দায়িত্ব নেওয়া এবং পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করাটাই আমাদের জন্য বেশি ইম্পর্ট্যান্ট।


I can speak & write loudly