কষ্টের কাজ!
আজকে আমি এসেছি আপনাদের সকলের সাথে একটি জেনারেল রাইটিং পোস্ট শেয়ার করতে। আমার লেখার মাধ্যমে আমার চিন্তা ভাবনা গুলো আপনাদের কাছে পৌঁছানোর লক্ষ্যে এই লেখাগুলো শেয়ার করা।
আশা করছি যে আপনারা আপনাদের মূল্যবান মন্তব্যের মাধ্যমেই আমার এই লেখাটি সৌন্দর্য বৃদ্ধি করবেন এবং আপনাদের মতামত ব্যক্ত করবেন। আমি যদি কোনো কিছু ভুল বলে থাকি। তাহলে অবশ্যই আমাকে শুধরে দিতে ভুলবেন না।
মাঝেমধ্যে না আমার মনে হয় যে কথা চেপে রাখাটা আসলে অসম্ভব কষ্টের একটা কাজ হয়ে যাবে।কারণ।কথা চেপে রাখার মানে হচ্ছে নিজের একটা অংশকে আটকে রাখা।মনে যা আছে সেটা বলতে ইচ্ছা করছে কিন্তু পরিস্থিতির কারণে বলা যাচ্ছে না।তো তখন ভেতরে ভেতরে এমন একটা অস্বস্তি তৈরি হয় যে মনে হয় বাবারে পেট ফেটে যাবে, হাহাহা।আসলে আমি এমন না যে সব কথা সব জায়গায় বলে দিতে হবে।কোন জায়গায় কী বলা উচিত সেটাও বুঝি।কিন্তু সমস্যা হচ্ছে,কোনো একটা বিষয় নিয়ে আমার যদি অনেক কিছু বলার থাকে।তখন একদম চুপ করে থাকাটা আমার কাছে অনেক কঠিন লাগে।মাথার মধ্যে কথাগুলো ঘুরতে থাকে।আর এই কথাটা বললে ভালো হতো ওই জায়গায় এটা বলা উচিত ছিলো। তখন কেনো চুপ করে থাকলাম এসব ভাবতে থাকি।
কখনো আবার এমন হয় যে সামনে এমন একটা ঘটনা ঘটছে যেখানে আমার নিজের মতামত আছে।আমি জানি আমি কী বলতে চাই।কিন্তু বুঝতে পারছি এখন বললে হয়তো পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে।তাই চুপ করে থাকতে হচ্ছে।বাইরে থেকে দেখলে মনে হবে খুব শান্তভাবে বসে আছি।কিন্তু ভেতরে তখন একেবারে অন্য অবস্থা।মানে এতো কথা মাথার মধ্যে জমে আছে কিন্তু একটা কথাও বলা যাচ্ছে না।আর সবচেয়ে মজার বিষয় হচ্ছে কি কথা চেপে রাখার পরও কিন্তু মাথার মধ্যে সেই কথোপকথন চলতেই থাকে।আমি হয়তো বাস্তবে কিছু বলিনি।কিন্তু মনে মনে পুরো কথাটা কয়েকবার বলে ফেলেছি।মানে কে কী বলবে,আমি কী উত্তর দিবো তারপর আবার কী বলা উচিত সবকিছুর একটা কাল্পনিক আলোচনা মাথার মধ্যে হয়ে যায়।মানে মুখ বন্ধ থাকলেও মাথা কিন্তু মোটেও চুপ থাকে না।কিন্তু বাস্তব জীবনে সব কথা বলে ফেলাও সম্ভব না।এমন অনেক জায়গা আছে যেখানে নিজের কথা একটু সামলে বলতে হয়।কখনো সম্পর্কের কথা ভেবে,কখনো পরিস্থিতির কথা ভেবে আবার কখনো নিজের শান্তির কথা ভেবে কিছু কথা না বলাই ভালো।কিন্তু সেটা মেনে নেওয়া যে খুব সহজ, তা না।
আর আমার মনে হয় যে কথা চেপে রাখার সবচেয়ে কঠিন জায়গাটা হলো নিজের অনুভূতিকে নিয়ন্ত্রণ করা।রাগ হলে রাগ দেখানো যাচ্ছে না,কষ্ট পেলে সেটা বলা যাচ্ছে না,কোনো অন্যায় চোখে পড়লেও সঙ্গে সঙ্গে প্রতিবাদ করা যাচ্ছে না।তো তখন মনে হয় যে আমি কি নিজের কথাগুলোকে খুব বেশি আটকে রাখছি?আবার সব কথা চেপে রাখাও ভালো না।কারণ দীর্ঘদিন ধরে নিজের অনুভূতিগুলো প্রকাশ না করতে পারলে ভেতরে একটা চাপ তৈরি হতে পারে।তাই অন্তত এমন কিছু মানুষ থাকা দরকার যাদের কাছে নিজের কথা খোলাখুলি বলা যায়।যেখানে কোনো কথা বলার আগে দশবার ভাবতে হবে না।নিজের মনের কথা বলার মতো নিরাপদ জায়গা থাকাটাও অনেক বড় ব্যাপার।
আর যেসব কথা এখন বলা সম্ভব না সেগুলো লিখে রাখা যায়। নিজের সাথে কথা বলা যায়।কিছু সময় অপেক্ষা করা যায়।কারণ অনেক সময় মুহূর্তটা চলে গেলে যে কথাটা তখন খুব জরুরি মনে হচ্ছিলো পরে সেটা আর ততোটা মেইন মনে হয় না।আর তারপরও সত্যি বলতে কথা চেপে রাখা আমার কাছে কঠিন। মানে কথাগুলো যদি মুখ দিয়ে বের না হয়।তাহলে ভেতরেই জমতে থাকবে।হাহাহা আর একসময় সত্যিই মনে হবে বাবারে পেট ফেটে যাবে!কিন্তু ধীরে ধীরে এটাও বুঝতে হয়,সব কথা বলা যেমন দরকার নেই,তেমনি সব কথা চেপে রাখাও দরকার নেই।কোন কথাটা বলা উচিত আর কোন কথাটা নিজের মধ্যেই রেখে দেওয়া ভালো এই পার্থক্যটা বুঝে চলাটাই হয়তো সবচেয়ে জরুরি।

