নিজের বাউন্ডারি!
আজকে আমি এসেছি আপনাদের সকলের সাথে একটি জেনারেল রাইটিং পোস্ট শেয়ার করতে। আমার লেখার মাধ্যমে আমার চিন্তা ভাবনা গুলো আপনাদের কাছে পৌঁছানোর লক্ষ্যে এই লেখাগুলো শেয়ার করা।
আশা করছি যে আপনারা আপনাদের মূল্যবান মন্তব্যের মাধ্যমেই আমার এই লেখাটি সৌন্দর্য বৃদ্ধি করবেন এবং আপনাদের মতামত ব্যক্ত করবেন। আমি যদি কোনো কিছু ভুল বলে থাকি। তাহলে অবশ্যই আমাকে শুধরে দিতে ভুলবেন না।
একটা কষ্টের বিষয় হচ্ছে কি আমরা অনেক সময় নিজেদের লিমিটেশন বা বাউন্ডারি ঠিক করে রাখতে চাই না।মানে কারও মন খারাপ হবে,কেউ খারাপ ভাববে,সম্পর্ক নষ্ট হবে এসব চিন্তা করতে করতে আমরা অনেক কিছুই চুপচাপ মেনে নিই।আর এই জায়গাটাই পরে আমাদের জন্য বড় সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।কারণ আমরা যখন শুরুতেই নিজের সীমাটা পরিষ্কার করি না।তখন অন্য মানুষও বুঝতে পারে না যে কোনো জায়গা পর্যন্ত আসা ঠিক আর কোথায় থেমে যাওয়া উচিত।আসলে অন্য মানুষকে দোষ দেওয়ার আগে নিজের দিকটাও দেখা দরকার।কেউ যদি বারবার আমাদের ব্যক্তিগত বিষয়ে নাক গলায়,অপ্রয়োজনীয় প্রশ্ন করে,আমাদের সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করে বা এমন কিছু বলে যা আমাদের অস্বস্তিতে ফেলে।তাহলে শুরুতেই সেটা নিয়ে কথা বলা দরকার।কিন্তু আমরা অনেক সময় কিছু বলি না। মানে আমরাই এভাবে ভাবি যে আরেহ,থাক বিষয়টা নিয়ে আর কী বলবো।আর এভাবেই একটা ছোট বিষয় ধীরে ধীরে বড় হয়ে যায় আরকি!
আসলে আমরা নিজেরাই যখন কাউকে বারবার ছাড় দিতে থাকি।তখন অনেক মানুষ সেই ছাড়টাকেই স্বাভাবিক ধরে নেয়।প্রথমবার কেউ আমাদের এমন কিছু বললো যা ভালো লাগেনি আমরা চুপ থাকলাম।আবার দ্বিতীয়বার একই ঘটনা ঘটলো তাও কিছু বললাম না।একটা সময় সেই মানুষটা ধরে নিলো আমাদের সঙ্গে এভাবে কথা বললেও কোনো সমস্যা নেই।তখন সে আরও বেশি সীমা অতিক্রম করতে শুরু করে।আসলে বাউন্ডারি সেট করার মানে কিন্তু কারও সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করা না।নিজের জায়গাটা পরিষ্কার করে দেওয়া।কোন বিষয় নিয়ে কথা বলতে স্বস্তি লাগে না,কোন আচরণ মেনে নেওয়া সম্ভব না,কোন জায়গায় ব্যক্তিগত স্পেস দরকার এসব মানুষকে জানানো খুবই স্বাভাবিক।আর সবাই আমাদের সীমা বুঝে চলবে এমন না।তো তাই কিছু ক্ষেত্রে সেটা বুঝিয়ে দিতে হয়।অনেক সময় ই আমরা ভাবি যে নিজের জন্য কথা বললে হয়তো মানুষ আমাদের স্বার্থপর ভাববে।
কিন্তু নিজের স্বস্তির কথা বলা স্বার্থপরতা না।আমি কারও সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করছি না শুধু বলছি যে একটা নির্দিষ্ট আচরণ আমার ভালো লাগছে না।এই টুকু বলার অধিকার সবারই থাকা উচিত।আর সবাইকে খুশি করার চেষ্টা করতে গিয়ে আমরা নিজেরাই অস্বস্তিতে পড়ে যাই।কেউ কিছু চাইলে না বলতে পারি না।কেউ ব্যক্তিগত বিষয়ে প্রশ্ন করলে উত্তর দিয়ে দিই।কেউ নিজের মতামত চাপিয়ে দিলে চুপ করে থাকি।তো পরে নিজের মধ্যেই বিরক্তি তৈরি হয়।তখন মনে হয় যে মানুষ কেন আমাদের সঙ্গে এমন করছে।কিন্তু অনেক সময় মানুষকে সুযোগটা আমরাই দিয়ে ফেলি।তাই নিজের সীমা আগে থেকেই বুঝে রাখা দরকার।মানেবকোন জায়গায় হ্যাঁ বলবো,কোথায় না বলবো,কোন কথা শুনবো আর কোন কথা এড়িয়ে যাবো এই সব নিজের জন্য পরিষ্কার থাকা দরকার।সবাইকে নিজের ব্যক্তিগত জীবনের সবকিছু জানানোও প্রয়োজন নেই।নিজের কিছু বিষয় নিজের কাছেই রাখা যায়।
কিন্তু বাউন্ডারি মানে দেয়াল তুলে সবাইকে দূরে সরিয়ে দেওয়া না।মানে সম্পর্কের মধ্যে একটা সুস্থ দূরত্ব বজায় রাখা।যারা আমাদের সম্মান করে তারা আমাদের সীমারেখাকেও সম্মান করবে।আর যারা বারবার সেই সীমা ভাঙার চেষ্টা করে।তাদের থেকে দূরত্ব রাখার প্রয়োজনও হতে পারে।আসলে নিজের সম্মান আর স্বস্তির দায়িত্ব আমাদের নিজেদেরই নিতে হবে।অন্য কেউ এসে আমাদের জন্য বাউন্ডারি তৈরি করে দেবে না।আমরা যদি নিজের সীমা পরিষ্কার না করি।তাহলে অন্য মানুষ নিজের সুবিধামতো সেই জায়গা ব্যবহার করবেই।তাই কখন কোথায় থামাতে হবে,কখন না বলতে হবে আর কখন নিজেকে সরিয়ে নিতে হবে, সেটা শেখা খুব জরুরি।নিজের বাউন্ডারি ঠিক রাখা অন্যায় না বরং নিজের প্রতি দায়িত্ব ই।


High-Yield Curation by @steem-seven
Your content has been supported!
| Vote Witness @seven.wit | Meet Speak on Steem |
|---|---|---|
We are the hope!