যত্নের অধিকার!
আজকে আমি এসেছি আপনাদের সকলের সাথে একটি জেনারেল রাইটিং পোস্ট শেয়ার করতে। আমার লেখার মাধ্যমে আমার চিন্তা ভাবনা গুলো আপনাদের কাছে পৌঁছানোর লক্ষ্যে এই লেখাগুলো শেয়ার করা।
আশা করছি যে আপনারা আপনাদের মূল্যবান মন্তব্যের মাধ্যমেই আমার এই লেখাটি সৌন্দর্য বৃদ্ধি করবেন এবং আপনাদের মতামত ব্যক্ত করবেন। আমি যদি কোনো কিছু ভুল বলে থাকি। তাহলে অবশ্যই আমাকে শুধরে দিতে ভুলবেন না।
আচ্ছা আমার কাছে না মনে হয় যে একটা মানুষ অন্য একটা মানুষকে ততোক্ষণই যত্ন করা উচিত যতোক্ষণ পর্যন্ত সেই মানুষটা সেই যত্নটা ডিজার্ভ করে।কারণ যত্ন আসলে কারো জন্মগত অধিকার না।কেউ আমার কাছের মানুষ বলেই তার প্রতি আমি সবসময় একই রকম যত্ন দেখাবো,এমন কোনো নিয়ম নেই।সম্পর্ক যতই কাছের হোক সেখানে একে অপরের আচরণ,সম্মান আর মূল্য দেওয়ার বিষয়টাও গুরুত্বপূর্ণ।আমরা অনেক সময় কারো কাছ থেকে পাওয়া যত্নকে খুব সহজেই আমাদের প্রাপ্য ধরে নিই।কেউ নিয়মিত খোঁজ নেয়,আমাদের কথা শোনে,আমাদের জন্য সময় বের করে,প্রয়োজনের সময় পাশে থাকে।তখন একটা সময় গিয়ে মনে হয় এগুলো বুঝি এমনিতেই পাওয়ার কথা।যার কারণে সেই মানুষটার করা কাজগুলোর মূল্য ধীরে ধীরে কমে যায়।অথচ শুরুতে হয়তো এই ছোট ছোট বিষয়গুলোই আমাদের কাছে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ছিলো।
আর সবচেয়ে খারাপ লাগে তখন যখন একটা মানুষ দিনের পর দিন অন্য একজনকে যত্ন করে যায়।কিন্তু বিনিময়ে সামান্য সম্মানটুকুও পায় না।তার দেওয়া সময়কে গুরুত্ব দেওয়া হয় না,তার অনুভূতিকে গুরুত্ব দেওয়া হয় না,তার কষ্টকে স্বাভাবিক ধরে নেওয়া হয়।তো সে যত্ন করতে করতে একসময় ক্লান্ত হয়ে গেলেও অন্য পাশের মানুষটা ভাবতে থাকে সে তো এমন করবেই।আর এই জায়গাটাই আসলে খুব কষ্টের।আর আমাদের বুঝতে হবে যে কেউ আমাকে যত্ন করছে মানেই সেটা আমার অধিকার হয়ে যায় না।উলটো সেই যত্ন ধরে রাখার জন্য আমাদেরও কিছু দায়িত্ব থাকে।মানুষকে সম্মান করা বা ধরেন তার অনুভূতিকে গুরুত্ব দেওয়া বা তার প্রয়োজনের সময় পাশে থাকা বা তার দেওয়া সময়ের মূল্য বোঝা এগুলোও সম্পর্কের অংশ।
আর একজন মানুষ যদি বারবার এমন আচরণ করে।যেখানে অন্যজনের যত্নকে সে দুর্বলতা মনে করে সেখানে একসময় সেই যত্ন কমে যেতেই পারে।কারণ ভালোবাসা বা যত্ন জোর করে ধরে রাখা যায় না। এগুলো তখনই সুন্দর থাকে যখন দুপাশ থেকেই একটা মূল্যায়ন থাকে।আমরা অনেক সময় ভাবি যে কাছের মানুষ হলে তার কাছ থেকে যত্ন পাওয়া আমাদের স্বাভাবিক ব্যাপার।কিন্তু কাছের মানুষ হওয়ার কারণেই আমাদের আরও বেশি সচেতন হওয়া উচিত।কারণ কাছের মানুষগুলোই আমাদের জন্য সবচেয়ে বেশি করে।এদের করা কাজগুলোকে স্বাভাবিক ধরে নেওয়ার বদলে কৃতজ্ঞ হওয়া দরকার।আবার এটাও ঠিক যে সম্পর্কের মধ্যে সবসময় হিসাব করে যত্ন করা সম্ভব না।কাউকে ভালোবাসলে অনেক কিছুই আমরা নিজের ইচ্ছায় করি,বিনিময়ে কিছু পাওয়ার আশায় না।কিন্তু তারপরও একটা সীমা থাকা দরকার।কারণ নিজের ভালোবাসা,সময় আর মানসিক শান্তিকে বারবার এমন জায়গায় দেওয়া উচিত না যেখানে তার কোনো মূল্যই নেই।আমার মনে হয় যত্ন পাওয়া যেমন সুন্দর তেমনি সেই যত্নের মূল্য দিতে পারাটাও একটা বড় গুণ।
মানে কেউ আমাকে গুরুত্ব দিলে আমাকেও তাকে গুরুত্ব দিতে হবে।কেউ আমার জন্য সময় রাখলে তার সময়ের মূল্য বুঝতে হবে।কেউ আমার খারাপ সময়ে পাশে থাকলে তার খারাপ সময়েও পাশে থাকার চেষ্টা করতে হবে।কারণ যত্ন আসলে কোনো অধিকার ন যত্ন একটা অর্জন।আমাদের আচরণ,সম্মান,ভালোবাসা আর কৃতজ্ঞতার মাধ্যমে আমরা সেই যত্ন পাওয়ার যোগ্যতা তৈরি করি আর যখন আমরা কোনো মানুষের যত্নকে প্রাপ্য ভেবে নিতে শুরু করি।তখনই হয়তো সেই যত্নের আসল মূল্যটা হারিয়ে ফেলি।

