নিজেকে তৈরি রাখা!
আজকে আমি এসেছি আপনাদের সকলের সাথে একটি জেনারেল রাইটিং পোস্ট শেয়ার করতে। আমার লেখার মাধ্যমে আমার চিন্তা ভাবনা গুলো আপনাদের কাছে পৌঁছানোর লক্ষ্যে এই লেখাগুলো শেয়ার করা।
আশা করছি যে আপনারা আপনাদের মূল্যবান মন্তব্যের মাধ্যমেই আমার এই লেখাটি সৌন্দর্য বৃদ্ধি করবেন এবং আপনাদের মতামত ব্যক্ত করবেন। আমি যদি কোনো কিছু ভুল বলে থাকি। তাহলে অবশ্যই আমাকে শুধরে দিতে ভুলবেন না।
আমি ব্যাক্তিগত ভাবে খুব বিশ্বাস করার চেষ্টা করি যে সবসময় নিজেকে সবকিছুর জন্য প্রস্তুত রাখাটাই আমাদের জন্য বেস্ট।কারণ জীবনে কখন কোন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে সেটা আমরা আগে থেকে জানি না।আমরা হয়তো একটা বিষয় নিয়ে অনেক সুন্দরভাবে পরিকল্পনা করে রাখলাম।কিন্তু শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি এমন হয়ে গেল যে আমাদের সব পরিকল্পনাই বদলে ফেলতে হলো।আর তখনই আসলে আমাদের ধৈর্য,বুদ্ধি আর সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতার পরীক্ষা হয়।আর আমার কাছে মনে হয় কি আমরা বেশিরভাগ সময় ভালো পরিস্থিতির জন্য নিজেদের প্রস্তুত করি।কিন্তু খারাপ পরিস্থিতির কথা তেমনভাবে চিন্তা করি না।মানে সবকিছু ঠিকঠাক চলবে বা সবাই আমাদের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করবে বা কাজগুলো আমাদের মনের মতো হবে এমন অনেক কিছু আশা করি।কিন্তু বাস্তবতা সবসময় আমাদের প্রত্যাশা অনুযায়ী চলে না।কখনো এমন পরিস্থিতি তৈরি হয় যেখানে খুব অল্প সময়ের মধ্যে অনেক বড় সিদ্ধান্ত নিতে হয়।তখন মাথা ঠান্ডা রেখে চিন্তা করাটাও কঠিন হয়ে পরে।আর সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে কি আমরা যখন কোনো পরিস্থিতির শিকার হই।তখন অনেক সময় আবেগের বশে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলি।হয়তো হঠাৎ রাগ হয়ে গেলো বা কারো কথায় অনেক কষ্ট পেলাম বা কোনো সমস্যা দেখে ভয় পেয়ে গেলাম।তখন মনে হয় যে যেভাবেই হোক এই পরিস্থিতি থেকে বের হতে হবে।আর তাড়াহুড়ো করে এমন কিছু সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলি যেগুলোর প্রভাব পরবর্তী সময়ে আমাদেরই ভোগ করতে হয়।তখন আফসোস করেও আর আগের অবস্থায় ফিরে যাওয়া সম্ভব হয় না।
আসলে আমার মনে হয় যে লাইফে কোনো পরিস্থিতি খারাপ হলেই সঙ্গে সঙ্গে সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রয়োজন নেই।কিছু সময় নিজেকে দেওয়া উচিত।বা কী হয়েছে,কেনো হয়েছে এখন কী করা সম্ভব আর কোন সিদ্ধান্তের ফলাফল কী হতে পারে এসব নিয়ে একটু চিন্তা করা দরকার।কারণ একটা কঠিন পরিস্থিতিতে পড়ে আমরা যদি আরো একটা ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলি।তাহলে সমস্যাটা কমার বদলে আরো বেড়ে যেতে পারে।আসলে এখানে নিজেকে প্রস্তুত রাখার বিষয়টা অনেক গুরুত্বপূর্ণ।প্রস্তুত থাকা মানে এই নয় যে সবসময় খারাপ কিছু ঘটবে ভেবে চিন্তা করতে হবে বরং বুঝতে হবে যে লাইফে ভালো ও খারাপ দুই ধরনের পরিস্থিতিই আসতে পারে।মানে সবকিছু আমাদের পক্ষে থাকবে না,সবাই আমাদের বুঝবে না আবার সব সমস্যার সমাধানও সাথে সাথে পাওয়া যাবে না।এসব বাস্তবতা মেনে নিতে পারলে হঠাৎ কোনো সমস্যা সামনে এলেও নিজেকে সামলানো কিছুটা সহজ হয়।আমরা অনেক সময় পরিস্থিতির চাপে এমন কিছু করে বসি যেটা স্বাভাবিক অবস্থায় হয়তো কখনোই করতাম না।কারো ওপর রাগ করে সম্পর্ক নষ্ট করে ফেলি,ভয় পেয়ে ভালো কোনো সুযোগ ছেড়ে দিই আবার কখনো কাউকে বিশ্বাস করে এমন সিদ্ধান্ত নিই যার জন্য পরে কষ্ট পেতে হয়।তাই কোনো পরিস্থিতিতে নিজেকে অসহায় মনে হলেও নিজের চিন্তাভাবনাকে একেবারে বন্ধ করে দেওয়া উচিত না।আর অবশ্যই সব পরিস্থিতি আগে থেকে বুঝে ওঠা সম্ভব না।মানে কিছু ঘটনা হঠাৎ করেই ঘটে যায়।তারপরও নিজের মধ্যে ধৈর্য তৈরি করা,আবেগ নিয়ন্ত্রণ করা আর সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে একটু সময় নেওয়ার অভ্যাস আমাদের অনেক ভুল থেকে বাঁচাতে পারে।
আর আমার মনে হয় কি পরিস্থিতি সবসময় আমাদের নিয়ন্ত্রণে থাকবে না।কিন্তু পরিস্থিতির মধ্যে আমরা কীভাবে নিজেদের সামলাবো সেই চেষ্টা আমাদের করতে হবে।কারণ একটা খারাপ পরিস্থিতির শিকার হওয়া সবসময় আমাদের হাতে থাকে না।কিন্তু সেই পরিস্থিতিতে নেওয়া ভুল সিদ্ধান্ত অনেক সময় আমাদের কষ্ট আরো বাড়িয়ে দেয়।তাই লাইফে যেকোনো পরিস্থিতির জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকা এবং তাড়াহুড়ো না করে ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নেওয়াটাই আমাদের জন্য সবচেয়ে ভালো।এতে অন্তত নিজের ভুলের কারণে নতুন করে ভুক্তভোগী হওয়ার পসিবিলিটিসটা অনেকটা কমানো সম্ভব আরকি।

