কনফিডেন্স!

আজকে আমি এসেছি আপনাদের সকলের সাথে একটি জেনারেল রাইটিং পোস্ট শেয়ার করতে। আমার লেখার মাধ্যমে আমার চিন্তা ভাবনা গুলো আপনাদের কাছে পৌঁছানোর লক্ষ্যে এই লেখাগুলো শেয়ার করা।

IMG_0378.jpeg


আশা করছি যে আপনারা আপনাদের মূল্যবান মন্তব্যের মাধ্যমেই আমার এই লেখাটি সৌন্দর্য বৃদ্ধি করবেন এবং আপনাদের মতামত ব্যক্ত করবেন। আমি যদি কোনো কিছু ভুল বলে থাকি। তাহলে অবশ্যই আমাকে শুধরে দিতে ভুলবেন না।

নিজেকে কনফিডেন্ট রাখতে পারলেই অনেক কাজ আসলে সহজ হয়ে যায়।একই কাজ একজন মানুষ খুব সহজভাবে করতে পারে আবার আরেকজন মানুষ সেই কাজটাকেই অনেক কঠিন মনে করতে পারে।অনেক সময় কাজটা কঠিন হওয়ার কারণে এমন হয় না বরং নিজের ওপর বিশ্বাস কম থাকার কারণেই কাজটা বেশি কঠিন মনে হয়।শুরু করার আগেই যদি মনে হয় যে আমি পারবো না৷তাহলে স্বাভাবিকভাবেই ভয়,চিন্তা আর অস্থিরতা কাজ করবে।কিন্তু নিজের ওপর একটু বিশ্বাস রাখতে পারলে সেই একই কাজ অনেক সহজ মনে হয়।আসলে আমাদের লাইফে এমন অনেক পরিস্থিতি আসে যেখানে আগে থেকেই ভয় তৈরি হয়ে যায়।মানে কোনো পরীক্ষা,প্রেজেন্টেশন,ইন্টারভিউ,নতুন কাজ বা গুরুত্বপূর্ণ কোনো সিদ্ধান্তের আগে মনে হতে পারে যে সবকিছু ভুল হয়ে যাবে।তখন আমরা কাজটার চেয়ে কাজ নিয়ে চিন্তাই বেশি করি।কী হবে বা যদি না পারি,যদি ভুল হয়,যদি সবাই খারাপ ভাবে এমন অনেক চিন্তা মাথায় ঘুরতে থাকে।এতে কাজ শুরু করার আগেই মানসিকভাবে ক্লান্ত হয়ে যেতে হয়।

আসলে আত্মবিশ্বাস মানে এই না যে আমি সবকিছু পারব বা আমার কোনো ভুল হবে না।আত্মবিশ্বাস মানে হচ্ছে ভুল হলেও আমি সেটা সামলাতে পারব।কোনো জায়গায় আটকে গেলেও আবার চেষ্টা করতে পারবো।কোনো প্রশ্নের উত্তর না জানলেও সেটা স্বীকার করে পরের বিষয়টা সামলাতে পারবো।আর এই মানসিকতাটা থাকলে অনেক কঠিন পরিস্থিতিও তুলনামূলক সহজ লাগে।নিজেকে কনফিডেন্ট রাখার জন্য নিজের প্রস্তুতিটাও গুরুত্বপূর্ণ।শুধু মুখে বললেই হবে না যে আমি পারবো।মানে যে কাজটা সামনে আছে সেটার জন্য যতটুকু প্রস্তুতি নেওয়া দরকার, সেটা নিতে হবে।কারণ প্রস্তুতি থাকলে আত্মবিশ্বাসও বাড়ে।যেমন কোনো পরীক্ষা সামনে থাকলে কিছুই না পড়ে শুধু আত্মবিশ্বাসী হওয়ার চেষ্টা করলে লাভ হবে না।কিন্তু যতোটুকু পড়া দরকার সেটা যদি ভালোভাবে করা হয়।তাহলে পরীক্ষার আগের ভয় অনেকটাই কমে যায়।আবার সবসময় নিজের সঙ্গে অন্যদের তুলনা করাও আত্মবিশ্বাস কমিয়ে দেয়।অন্য কেউ হয়তো অনেক ভালো করছে,দ্রুত কাজ শেষ করছে বা কোনো বিষয়ে বেশি দক্ষ।তাই বলে আমার সক্ষমতা কম এমনটা না।

প্রত্যেক মানুষের শেখার গতি,অভিজ্ঞতা আর পরিস্থিতি আলাদা।নিজের গতিতে এগিয়ে যাওয়াটাও গুরুত্বপূর্ণ।অন্যের সঙ্গে তুলনা না করে গতকালের নিজের সঙ্গে আজকের নিজেকে তুলনা করলে অনেক বেশি ভালো লাগে।কিছু সময় এমনও আসে যখন নিজের করা ভালো কাজগুলোও মনে থাকে না শুধু ভুলগুলোই মনে পরে।তখন মনে হয় আমি কিছুই ঠিকভাবে করতে পারি না।আর এই চিন্তাটাও আত্মবিশ্বাস কমিয়ে দেয়।তাই নিজের আগের কাজগুলোর কথাও মনে রাখা দরকার।লাইফে কতো কঠিন পরিস্থিতি পার হয়ে এসেছি কতো কাজ ভয় থাকা সত্ত্বেও শেষ করেছি সেগুলো মনে করলে নিজের ওপর বিশ্বাসটা আবার ফিরে আসে।

আর বিশেষ করে কোনো গুরুত্বপূর্ণ কাজের আগে নিজেকে ভয় দেখানোর বদলে নিজেকে প্রস্তুত করা দরকার।কী হতে পারে সেটা নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তা না করে এখন কী করা যায় সেটার দিকে মন দেওয়া ভালো।কারণ ভবিষ্যতে কী হবে সেটা পুরোপুরি আমাদের হাতে থাকে না।কিন্তু প্রস্তুতি নেওয়াটা আমাদের হাতে থাকে।আসলে আমার মনে হয় যে আত্মবিশ্বাস অনেক সময় কাজের অর্ধেক সহজ করে দেয়।কারণ আত্মবিশ্বাস থাকলে সমস্যা দেখেই থেমে যেতে হয় না।মানে কীভাবে সমস্যাটা সামলানো যায় সেটা ভাবা যায়।ভয় থাকলেও কাজ করা যায়,নার্ভাস হলেও সামনে এগিয়ে যাওয়া যায়।তাই সবসময় নিজেকে পারফেক্ট ভাবার দরকার নেই।শুধু নিজের ওপর এতটুকু বিশ্বাস রাখা দরকার যে কোনো পরিস্থিতি এলে আমি চেষ্টা করবো এবং প্রয়োজন হলে আবার চেষ্টা করবো।মানে সবকিছু নিজের মতো না হলেও আমি সেটা সামলানোর চেষ্টা করতে পারবো।আর এই বিশ্বাসটুকু থাকলেই অনেক কঠিন কাজও ধীরে ধীরে সহজ হয়ে যায়।

ABB.gif