চেপে যাওয়া!

আজকে আমি এসেছি আপনাদের সকলের সাথে একটি জেনারেল রাইটিং পোস্ট শেয়ার করতে। আমার লেখার মাধ্যমে আমার চিন্তা ভাবনা গুলো আপনাদের কাছে পৌঁছানোর লক্ষ্যে এই লেখাগুলো শেয়ার করা।

IMG_0378.jpeg


আশা করছি যে আপনারা আপনাদের মূল্যবান মন্তব্যের মাধ্যমেই আমার এই লেখাটি সৌন্দর্য বৃদ্ধি করবেন এবং আপনাদের মতামত ব্যক্ত করবেন। আমি যদি কোনো কিছু ভুল বলে থাকি। তাহলে অবশ্যই আমাকে শুধরে দিতে ভুলবেন না।

একটা বিষয় হচ্ছে কি কিছু কিছু জায়গায় আসলে সবসময় নিজেকে সংযত রেখে কথা বলতে হয় ই হয়।মানে সব কথা মনে এলেই বলে দেওয়া যায় না।লাইফে এমন অনেক পরিস্থিতি তৈরি হয় যেখানে সত্য কথা বলা উচিত,নিজের অবস্থান পরিষ্কার করাও উচিত কিন্তু তারপরও সেটা বলা সম্ভব হয় না।কারণ সব জায়গায় নিজের কথা বলার ফল একরকম হয় না।কোথাও একটা কথা বললে বিষয়টা ঠিক হতে পারে আবার কোথাও একই কথা বললে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে যেতে পারে।আমরা অনেক সময় মনে করি যে অন্যায় দেখলে সাথে সাথে প্রতিবাদ করা উচিত।মানে অবশ্যই অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলা গুরুত্বপূর্ণ।কিন্তু বাস্তব জীবন সবসময় এত সহজ না। পরিস্থিতি,সময়,জায়গা আর সামনে থাকা মানুষটাকেও বুঝতে হয়।একটা কথা সঠিক হলেও সেটা কখন কোথায় আর কীভাবে বলা হচ্ছে সেটাও অনেক বেশিইইইই ইম্পর্ট্যান্ট।

আসলে কিছু জায়গায় এমন মানুষও থাকে যারা কোনো যুক্তি শুনতে চায় না।সেখানে যতো ভালোভাবেই নিজের কথা বলা হোক সেটাকে অন্যভাবে নেওয়ার সম্ভাবনা থাকে।উল্টো আমাদের ওপরই সমস্যা তৈরি হতে পারে।তখন মনে হয় যে কথাটা না আসলে না বললেই হয়তো ভালো ছিলো আরকি।কারণ সত্যি কথা বলার পর যদি পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে যায়।তাহলে সেই মুহূর্তে একটু চুপ থাকাটাও একটা ভালো সিদ্ধান্ত আমার মতে।আসলে আমরা চুপ থাকাকে দুর্বলতাই ভাবি।কিন্তু সবসময় চুপ থাকা দুর্বলতা না।কখন কথা বলতে হবে আর কখন কথা না বলাই ভালো সেটা বুঝতে পারাও এক ধরনের বুদ্ধিমত্তা।নিজের রাগের মুহূর্তে সব কথা বলে ফেলার চেয়ে একটু সময় নিয়ে পরিস্থিতি বোঝা অনেক বেশি কাজে দেয়।

অবশ্যই এর মানে এই না যে সব অন্যায় মেনে নিতে হবে।মানে নিজের অধিকার,সম্মান বা নিরাপত্তার বিষয় হলে প্রয়োজন অনুযায়ী কথা বলতেই হবে।কিন্তু প্রতিটি পরিস্থিতিতে একইভাবে প্রতিক্রিয়া দেখানোও ঠিক না।কিছু জায়গায় সরাসরি কথা বলা সম্ভব না হলে অন্য কোনো উপায়ে বিষয়টা সামলাতে হতে পারে।কখনো কখনো মনে হয় যে একটা কথা না বলাটা নিজের কাছেই অন্যায়।কারণ আমি জানি কী বলা উচিত।তারপরও পরিস্থিতির কারণে চুপ থাকতে হচ্ছে।আসলে এই জায়গাটা মানসিকভাবে কঠিন। কারণ নিজের বিবেক একটা কথা বলছে আর বাস্তব পরিস্থিতি অন্য কিছু করতে বাধ্য করছে।কিন্তু লাইফে সবসময় নিজের মনের প্রতিটি কথা প্রকাশ করা সম্ভব না।আমাদের নিরাপত্তা,মানসিক শান্তি,সম্পর্ক আর ভবিষ্যতের কথাও ভাবতে হয়।কিছু কথা নিজের মধ্যেই রেখে দিতে হয়।কিছু কথা সঠিক সময়ের জন্য রেখে দিতে হয় আবার কিছু কথা হয়তো কখনোই বলা হবে না।

আমার কাছে মনে হয় কি কথা বলারও একটা জায়গা এবং সময় আছে।যেখানে কথা বললে কোনো পরিবর্তন আসবে না বরং নিজের জন্য আরও সমস্যা তৈরি হবে সেখানে সাময়িকভাবে চুপ থাকা খারাপ সিদ্ধান্ত না।যদিও সবসময় এটা খুব নৈতিক বা আদর্শ মনে নাও হতে পারে বাস্তব জীবনে অনেক সময় পরিস্থিতি বুঝে চলতে হয়।মানে নিজের ভেতরের সত্যিটা অন্তত নিজের কাছে পরিষ্কার রাখা দরকার।বাইরে হয়তো সব কথা বলা সম্ভব হচ্ছে না।কিন্তু তাই বলে কোনটা ঠিক আর কোনটা ভুল সেটা ভুলে যাওয়া উচিত না।কখনো চুপ থাকা মানে অন্যায়কে সাপোর্ট করা না।কখনো চুপ থাকা মানে শুধু সঠিক সময়ের অপেক্ষা করা।আর কিছু পরিস্থিতিতে নিজের শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য একটু চেপে যাওয়াটাই হয়তো সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।

ABB.gif