ভালো পরিবেশ!

আজকে আমি এসেছি আপনাদের সকলের সাথে একটি জেনারেল রাইটিং পোস্ট শেয়ার করতে। আমার লেখার মাধ্যমে আমার চিন্তা ভাবনা গুলো আপনাদের কাছে পৌঁছানোর লক্ষ্যে এই লেখাগুলো শেয়ার করা।

IMG_0378.jpeg


আশা করছি যে আপনারা আপনাদের মূল্যবান মন্তব্যের মাধ্যমেই আমার এই লেখাটি সৌন্দর্য বৃদ্ধি করবেন এবং আপনাদের মতামত ব্যক্ত করবেন। আমি যদি কোনো কিছু ভুল বলে থাকি। তাহলে অবশ্যই আমাকে শুধরে দিতে ভুলবেন না।

আসলে আমি ব্যাক্তিগত ভাবে মনে করি কি যে নিজেকে সুশিক্ষিত করতে হলে শুধু বই পড়লেই হবে না আমাদের চারপাশের পরিবেশটাও অনেক ইম্পর্ট্যান্ট।আর আমার মনে হয় কি একজন মানুষ কীভাবে চিন্তা করবে,কীভাবে কথা বলবে,অন্য মানুষের সঙ্গে কীভাবে আচরণ করবে,কোন বিষয়কে কীভাবে দেখবে এসবের ওপর তার পরিবেশের অনেক ইফেক্ট থাকে।তাই নিজেকে সুশিক্ষিত করতে হলে আমাদের এমন একটা পরিবেশও চুজ করতে হবে যেখানে ভালো কিছু শেখার সুযোগ থাকে এর আসলে কোনো বিকল্প ই নেই।আর শিক্ষা বলতে আমরা অনেক সময় শুধু পড়াশোনা বা পরীক্ষার ফলাফলকে বুঝি।কিন্তু আমার কাছে শিক্ষা তার চেয়ে অনেক বড় একটা বিষয়।অনেক ডিগ্রি থাকলেও যদি একজন মানুষ অন্যকে সম্মান করতে না জানে,নিজের ভুল স্বীকার করতে না পারে,ভিন্ন মতকে গ্রহণ করতে না পারে।তাহলে তাকে পুরোপুরি সুশিক্ষিত বলা কঠিন।

তো এই জায়গাটায় না পরিবেশ অনেক গুরুত্বপূর্ণ।আমরা যাদের সঙ্গে নিয়মিত থাকি তাদের কথা বলার ধরন বা চিন্তার ধরন বা আচরণ,প্রায়োরিটি এসব কোনো না কোনোভাবে আমাদের ওপর প্রভাব ফেলে।সবসময় হয়তো আমরা সেটা বুঝতে পারি না।কিন্তু আস্তে আস্তে আমাদের মধ্যেও সেই জিনিসগুলো চলে আসে।একটা পরিবেশ যদি সবসময় অন্যকে ছোট করা,গসিপ করা,হিংসা করা,অশান্তি তৈরি করা আর খারাপ কথা বলার মধ্যে থাকে।তাহলে সেখানে থেকে নিজের চিন্তাভাবনাকে সবসময় সুন্দর রাখা কঠিন।আবার এমন একটা পরিবেশে থাকলে যেখানে মানুষ বই পড়ে,নতুন কিছু শেখে,অন্যের মতামতকে সম্মান করে,নিজের ভুল থেকে শেখে এবং ভালোভাবে কথা বলে সেখান থেকেও অনেক কিছু শেখা যায়।আর সুশিক্ষিত হওয়ার জন্য শুধু কী পড়ছি সেটা না।সাথে কার সাথে মিশছি সেটাও কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ।কারণ একটা মানুষ অনেক ভালো বই পড়তে পারে।কিন্তু সারাদিন এমন মানুষদের সঙ্গে থাকলে যারা সবসময় নেতিবাচক চিন্তা করে,অন্যকে অসম্মান করে বা ভুল জিনিসকে স্বাভাবিক মনে করে।তাহলে তার নিজের ওপরও প্রভাব পড়তে পারে।তো তাই নিজের পরিবেশ বেছে নেওয়ার ব্যাপারে আমাদের সচেতন হওয়া দরকার।সব মানুষের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করতে হবে এমন না।কিন্তু কার সঙ্গে কতটা সময় কাটাব, কার কাছ থেকে কী শিখবো,কোন পরিবেশে নিজের মানসিকতা তৈরি করবো এগুলো নিয়ে ভাবা দরকার।

আবার ভালো পরিবেশ মানেই শুধু শিক্ষিত বা অনেক জ্ঞানী মানুষদের মধ্যে থাকা না।এমন মানুষও অনেক সময় আমাদের অনেক কিছু শেখাতে পারে যার হয়তো বড় কোনো ডিগ্রি নেই।তার ব্যবহার ভালো হতে পারে,মানুষের প্রতি সম্মান থাকতে পারে,লাইফের অভিজ্ঞতা থেকে অনেক কিছু জানা থাকতে পারে। তাই পরিবেশ বাছাই করার সময় শুধু মানুষের সামাজিক অবস্থান না তার মানসিকতা আর আচরণও দেখা দরকার।নিজেকে সুশিক্ষিত করা আসলে একটা রেগুলার সিস্টেম।বয়স বাড়লেই বা একটা ডিগ্রি পেলেই সেটা শেষ হয়ে যায় না।প্রতিদিন নতুন কিছু শেখা,নিজের ভুল বোঝা,ভালো মানুষের কাছ থেকে শেখা আর নিজের চিন্তাভাবনাকে আরও সুন্দর করার চেষ্টা করতে হয়।

আর এই পুরো প্রক্রিয়ায় পরিবেশের ভূমিকা অনেক বড়।আমরা চাইলে নিজের চিন্তা বদলাতে পারি।কিন্তু চারপাশের প্রভাবকে পুরোপুরি অস্বীকার করা যায় না।তাই এমন পরিবেশ বেছে নেওয়া দরকার যেখানে আমাদের ভালো হওয়ার সুযোগ থাকবে,নতুন কিছু শেখার সুযোগ থাকবে আর নিজের মানসিকতাকে আরও উন্নত করার সুযোগ থাকবে।আর নিজেকে সুশিক্ষিত করতে হলে ভালো শিক্ষা যেমন দরকার তেমনি ভালো পরিবেশও দরকার।কারণ আমরা শুধু বই থেকে শিক্ষা নিই না মানুষ থেকেও শিখি,পরিবেশ থেকেও শিখি বা প্রতিদিনের অভিজ্ঞতা থেকেও শিখি।তাই নিজেকে কীভাবে তৈরি করতে চাই সেটা যেমন গুরুত্বপূর্ণ তেমনি কোথায় থেকে সেই মানুষটা হয়ে উঠছি সেটাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

ABB.gif