বাচ্চাদের সাথে নেগেটিভিটি!
আজকে আমি এসেছি আপনাদের সকলের সাথে একটি জেনারেল রাইটিং পোস্ট শেয়ার করতে। আমার লেখার মাধ্যমে আমার চিন্তা ভাবনা গুলো আপনাদের কাছে পৌঁছানোর লক্ষ্যে এই লেখাগুলো শেয়ার করা।
আশা করছি যে আপনারা আপনাদের মূল্যবান মন্তব্যের মাধ্যমেই আমার এই লেখাটি সৌন্দর্য বৃদ্ধি করবেন এবং আপনাদের মতামত ব্যক্ত করবেন। আমি যদি কোনো কিছু ভুল বলে থাকি। তাহলে অবশ্যই আমাকে শুধরে দিতে ভুলবেন না।
কিছু কিছু মানুষ আছে যারা সবসময় বাচ্চাদের সঙ্গে নেগেটিভ কথা বলে।আমার কাছে মনে হয় যে এই বিষয়টা নিয়ে মানুষের আরও বেশি সচেতন হওয়া দরকার।কারণ একটা বাচ্চার মন খুব সহজেই কথার দ্বারা প্রভাবিত হয়।ছোটবেলায় বড়রা তাকে যেভাবে কথা বলে যেভাবে তার ভুলগুলো ধরিয়ে দেয় বা যেভাবে তার কাজের প্রশংসা করে সেগুলো তার চিন্তাভাবনা ও আত্মবিশ্বাসের ওপর অনেক প্রভাব ফেলে।তাই বাচ্চাদের সঙ্গে কথা বলার সময় আমাদের অবশ্যই একটু সচেতন হওয়া উচিত।আবার অনেক সময় ইই দেখা যায় যে বাচ্চারা কোনো একটা কাজ করতে গেলে বড়রা আগেই বলে দেয় যে আরেহহহ পারবে না বা হবে না বা কিছুই ঠিকমতো করতে পারো না।আবার কোনো বাচ্চা ভুল করলে তাকে এমনভাবে কথা শোনানো হয় যেনো সে খুব বড় কোনো অপরাধ করে ফেলেছে।অথচ বাচ্চারা তো ভুল করবেই।ওরা ভুলের মধ্য দিয়েই শিখবে,নতুন কিছু জানবে আর আস্তে আস্তে নিজেদের দক্ষতা বাড়াবে।কিন্তু সেই ভুলের জন্য যদি বারবার তাদের অপমান করা হয় বা তাদের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়।তাহলে একটা সময় ওরা নিজেরাই নিজেদের ওপর বিশ্বাস হারিয়ে ফেলতে পারে।
আর অনেক মানুষ হয়তো বুঝতেই পারে না যে তাদের কথাগুলো একটা বাচ্চার মনে কতটা প্রভাব ফেলতে পারে।ওরা মনে করে বাচ্চাদের একটু বকা দিলে বা খারাপ কথা বললে কোনো সমস্যা নেই।বড় হয়েছে তাই একটু শাসন করতেই পারে।কিন্তু শাসন করা আর কাউকে ছোট করে কথা বলা এক বিষয় না।একটা বাচ্চাকে ভুল বোঝানো যায় আর তার ভুল সংশোধন করতে সাহায্য করা যায়।কিন্তু তাই বলে তাকে এমন কিছু বলা উচিত না যেটা তার মনে দীর্ঘদিনের জন্য খারাপ প্রভাব ফেলে।আমার মনে হয় যে ছোটবেলায় নিজের সম্পর্কে একটা বাচ্চার যে ধারণা তৈরি হয় সেটা তার পরবর্তী জীবনেও প্রভাব ফেলতে পারে।যদি একটা বাচ্চা সবসময় শুনতে থাকে যে সে কিছু পারে না।তাকে দিয়ে কিছু হবে না।তাহলে সে নতুন কিছু করার আগেই ভয় পেতে শুরু করতে পারে।তার মনে হতে পারে চেষ্টা করে কী লাভ?আমি তো এমনিতেই পারবো না।অথচ একটু উৎসাহ পেলে হয়তো সেই বাচ্চাটাই অনেক ভালো কিছু করতে পারত।আবার সব বাচ্চার শেখার ক্ষমতা বা শেখার গতি একরকম হয় না।কেউ খুব দ্রুত কোনো বিষয় বুঝতে পারে আবার কারো একটু বেশি সময় লাগে।কেউ পড়াশোনায় ভালো কেউ অন্য কোনো কাজে দক্ষ।তাই একটা বাচ্চাকে অন্য বাচ্চার সঙ্গে তুলনা করে ছোট করা কখনোই উচিত না বরং তার নিজের দক্ষতা বুঝতে সাহায্য করা আর যে জায়গায় সমস্যা হচ্ছে সেখানে ধৈর্য ধরে সহযোগিতা করা দরকার।আসলে আমাদের বুঝতে হবে যে বাচ্চারা শুধু আমাদের কথা শোনে না,আমাদের আচরণ থেকেও শেখে।আমরা যদি সবসময় তাদের সঙ্গে নেতিবাচক আচরণ করি।তাহলে তাদের মধ্যেও ভয়,হতাশা বা নিজের প্রতি অনাস্থা তৈরি হতে পারে।তাই বাচ্চাদের সঙ্গে কথা বলার সময় এমনভাবে বলা উচিত যেনো ওরা নিজেদের ভুল বুঝতে পারে আবার নতুন করে চেষ্টা করার সাহসও পায়।আমার কাছে মনে হয় যে যারা বাচ্চাদের সঙ্গে সবসময় নেগেটিভ কথা বলে,তাদের বিষয়টা বুঝিয়ে বলা দরকার।কারণ একটা বাচ্চাকে বড় করার দায়িত্ব মানে শুধু তাকে শাসন করা না বরং তার মানসিক বিকাশের দিকেও খেয়াল রাখা।বড়দের বলা একটা ভালো কথা যেমন বাচ্চাকে সাহস দিতে পারে তেমনি একটা খারাপ কথাও তার মনে কষ্ট তৈরি করতে পারে।
বাচ্চারা আমাদের কাছ থেকেই অনেক কিছু শেখে।তাই তাদের ভুল হলে বুঝিয়ে বলা,ভালো কিছু করলে উৎসাহ দেওয়া আর তাদের কথা মন দিয়ে শোনার অভ্যাস আমাদের তৈরি করতে হবে।সবসময় খারাপ কথা বলে কাউকে ভালোভাবে গড়ে তোলা যায় না।ভালোবাসা,ধৈর্য আর সঠিক দিকনির্দেশনার মাধ্যমে একটা বাচ্চাকে আত্মবিশ্বাসী করে তোলা সম্ভব। এই বিষয়টা বড়দের যত দ্রুত বোঝা সম্ভব হবে বাচ্চাদের জন্য ততোই ভালো হবে।

