পরিস্থিতি সামলানো!

আজকে আমি এসেছি আপনাদের সকলের সাথে একটি জেনারেল রাইটিং পোস্ট শেয়ার করতে। আমার লেখার মাধ্যমে আমার চিন্তা ভাবনা গুলো আপনাদের কাছে পৌঁছানোর লক্ষ্যে এই লেখাগুলো শেয়ার করা।

IMG_0378.jpeg


আশা করছি যে আপনারা আপনাদের মূল্যবান মন্তব্যের মাধ্যমেই আমার এই লেখাটি সৌন্দর্য বৃদ্ধি করবেন এবং আপনাদের মতামত ব্যক্ত করবেন। আমি যদি কোনো কিছু ভুল বলে থাকি। তাহলে অবশ্যই আমাকে শুধরে দিতে ভুলবেন না।

একটা বিষয় কি আসলে সব পরিস্থিতিতে আসলে নিজেকে সামলাতে পারাটাই আমার কাছে মনে হয় অনেক বড় একটা চ্যালেঞ্জের বিষয়।কারণ লাইফে সবসময় পরিস্থিতি আমাদের মনের মতো থাকবে না।আসলে কখনো খুব ভালো সময় যাবে আবার কখনো এমন কিছু পরিস্থিতি আসবে যেটা একদমই আশা করিনি।ভালো সময়ের মধ্যে নিজেকে স্বাভাবিক রাখা হয়তো তুলনামূলক সহজ।কিন্তু খারাপ সময়ের মধ্যে নিজের চিন্তা,রাগ,কষ্ট,ভয় সবকিছুই নিয়ন্ত্রণে রাখা অনেক বেশি কঠিন।আসলে আমার মনে হয় কি নিজেকে সামলানো বলতে শুধু চুপ করে থাকা বা নিজের অনুভূতিগুলো লুকিয়ে রাখা বোঝায় না।কোনো পরিস্থিতিতে কীভাবে রিয়েকশন দিবো।কখন কথা বলা দরকার আর কখন চুপ থাকা দরকার ব কখন সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত আর কখন একটু সময় নিয়ে ভাবা উচিত।এসব বুঝতে পারাটাও নিজেকে সামলানোর একটা পার্ট।অনেক সময় পরিস্থিতির চেয়ে আমাদের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়াই সমস্যাকে আরও বড় করে দেয়।

আসলে কোনো একটা বিষয় খারাপ লাগলে সঙ্গে সঙ্গে রেগে যাওয়া খুব সহজ।মানে কেউ কষ্ট দিলে সঙ্গে সঙ্গে কিছু বলে দেওয়া সহজ।কোনো কাজ পরিকল্পনা অনুযায়ী না হলে সবকিছু ছেড়ে দিতে ইচ্ছা করাও সহজ।কিন্তু সেই মুহূর্তে নিজেকে একটু থামিয়ে পরিস্থিতিটা বোঝার চেষ্টা করা অনেক কঠিন।কারণ তখন আবেগ অনেক বেশি কাজ করে।মাথা ঠান্ডা রেখে চিন্তা করার মতো মানসিক অবস্থায় থাকা যায় না।আবার সবসময় শুধু বড় সমস্যার সময়ই নিজেকে সামলাতে হয় এমনও না।ছোট ছোট বিষয়েও অনেক সময় মানসিকভাবে অস্থির হয়ে যেতে হয়।কোনো কাজ সময়মতো না হওয়া।হঠাৎ রিয়েকশন বদলে যাওয়া বা কারো আচরণ খারাপ লাগা বা নিজের কোনো ভুল হয়ে যাওয়া এসব বিষয়ও কখনো কখনো পুরো দিনের মেজাজ খারাপ করে দিতে পারে।তখন নিজের মনটাকে আবার স্বাভাবিক অবস্থায় নিয়ে আসাটাও একটা চ্যালেঞ্জ।আমার কাছে সবচেয়ে কঠিন বিষয় হচ্ছে কি নিজের মন খারাপ থাকলেও প্রয়োজনীয় কাজগুলো চালিয়ে যাওয়া।সবসময় তো মন ভালো থাকবে না।এমন দিনও আসবে যেদিন কোনো কাজ করতে ইচ্ছা করবে না বা কারো সাথেও কথা বলতে ইচ্ছা করবে না।মানে শুধু চুপচাপ থাকতে ইচ্ছা করবে।

কিন্তু লাইফের সব ডিসিশন তো থেমে থাকবে না।তাই নিজের খারাপ লাগাটাকে বুঝেও প্রয়োজনীয় কাজগুলো করার চেষ্টা করতে হয়।অনেক সময় আবার আমরা নিজের ওপরই বেশি চাপ দিয়ে ফেলি।মানে মনে হয় যে সবকিছু একসাথে ঠিক করতে হবে,সব পরিস্থিতিতে শক্ত থাকতে হবে,কোনোভাবেই ভেঙে পড়া যাবে না।কিন্তু মানুষ হিসেবে সবসময় শক্ত থাকা সম্ভব না।কখনো মন খারাপ হবে,কখনো ভয় লাগবে,কখনো কান্না আসবে,কখনো কোনো পরিস্থিতি সামলাতে কষ্ট হবে এগুলোই স্বাভাবিক।নিজেকে সামলানো মানে অনুভূতিগুলোকে অস্বীকার করা না বরং সেগুলোকে বুঝে ধীরে ধীরে আবার নিজের জায়গায় ফিরে আসা।আর কোনো পরিস্থিতিতে নিজের নিয়ন্ত্রণটা যেন পুরোপুরি হারিয়ে না ফেলি।কারণ একটা খারাপ মুহূর্তের সিদ্ধান্ত অনেক সময় পরে গিয়ে আফসোসের কারণ হতে পারে।তাই যত কঠিন পরিস্থিতিই হোক একটু সময় নিয়ে ভাবা দরকার।সব সমস্যার সমাধান সঙ্গে সঙ্গে করতে হবে এমন কোনো কথা নেই।কখনো কখনো কিছু সময় অপেক্ষা করাও প্রয়োজন।লাইফে হয়তো এমন অনেক পরিস্থিতি আসবে যেগুলো আমি চাইলেও পরিবর্তন করতে পারবো না।কিন্তু সেই পরিস্থিতিতে আমি কীভাবে নিজেকে সামলাবো সেটা অনেকটাই আমার হাতে।তাই আমার কাছে জীবনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটা হলো পরিস্থিতিকে সবসময় নিজের মতো করে নেওয়া না।মানে পরিস্থিতি যেমনই হোক তার মধ্যে নিজেকে ঠিক রাখা।

আর সবকিছু ভালো থাকলে ভালো থাকা খুব কঠিন কিছু না।কিন্তু চারপাশে অস্থিরতা থাকলেও নিজের ভেতরটাকে যতটা সম্ভব স্থির রাখতে পারা সত্যিকারের শক্তির বিষয়।হয়তো সবসময় সেটা সম্ভব হবে না কিন্তু তাও চেষ্টা করতে হবে।কারণ শেষ পর্যন্ত লাইফে অনেক পরিস্থিতিই আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকবে।কিন্তু সেই পরিস্থিতির মধ্যে নিজেকে কীভাবে ধরে রাখবো সেটাই আমাদের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।

ABB.gif