শান্তি!
আজকে আমি এসেছি আপনাদের সকলের সাথে একটি জেনারেল রাইটিং পোস্ট শেয়ার করতে। আমার লেখার মাধ্যমে আমার চিন্তা ভাবনা গুলো আপনাদের কাছে পৌঁছানোর লক্ষ্যে এই লেখাগুলো শেয়ার করা।
আশা করছি যে আপনারা আপনাদের মূল্যবান মন্তব্যের মাধ্যমেই আমার এই লেখাটি সৌন্দর্য বৃদ্ধি করবেন এবং আপনাদের মতামত ব্যক্ত করবেন। আমি যদি কোনো কিছু ভুল বলে থাকি। তাহলে অবশ্যই আমাকে শুধরে দিতে ভুলবেন না।
একটা বিষয় কি আসলে সবকিছুতেই আসলে ক্ল্যারিটি চাওয়াটা উচিত না।লাইফ্ব কিছু কিছু বিষয়ে পরিষ্কার উত্তর পাওয়া অবশ্যই দরকার।কিন্তু প্রতিটি বিষয়কে একদম পরিষ্কার করে বুঝতে হবে,সব কথার ব্যাখ্যা জানতে হবে,সব আচরণের কারণ খুঁজে বের করতে হবে, এমনটা সবসময় প্রয়োজন নেই।কিছু কিছু ব্যাপারে একটু ছাড় দেওয়াটাই আসল ব্যাপার।কারণ সবকিছু নিয়ে বেশি ভাবতে গেলে অনেক সময় যে বিষয়টা সহজভাবে ছেড়ে দেওয়া যেতো সেটাই আমাদের মাথার মধ্যে বড় হয়ে যায়।আমরা অনেক সময় মানুষের কথাবার্তা বা আচরণ নিয়ে অতিরিক্ত বিশ্লেষণ করি।কে কেনো এমন কথা বললো বা কেনো এমনভাবে তাকালো বা কেনো আগে মেসেজ দিলো না বা কেনো আগের মতো কথা বলছে না।মানে এর পেছনে আসলে কী কারণ আছে।এসব নিয়ে ভাবতে ভাবতেই অনেক সময় নিজের শান্তিটা নষ্ট হয়ে যায়।অথচ সব প্রশ্নের উত্তর আমাদের জানতেই হবে এমন কোনো কথা নেই।কিছু বিষয় সময়ের সঙ্গে নিজে থেকেই পরিষ্কার হয়ে যায়।
আবার কিছু সম্পর্কের ক্ষেত্রেও আমরা সবকিছু পরিষ্কার করে নিতে চাই।কে কী ভাবছে,সম্পর্কটা ঠিক কোন জায়গায় আছে,ভবিষ্যতে কী হবে,কেনো এমন হলো এসবের প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে সম্পর্কটাই অনেক সময় ভারী হয়ে যায়।আর সব সম্পর্কের প্রতিটি মুহূর্তকে ব্যাখ্যা করার দরকার নেই।মানে কিছু বিষয় যেমন আছে তেমনভাবেই মেনে নেওয়াও কখনো কখনো ভালো।আর এর মানে অবশ্যই এই না যে কেউ বারবার কষ্ট দিলেও কিছু না বলে সবকিছু মেনে নিতে হবে।যেখানে নিজের সম্মান,নিরাপত্তা বা গুরুত্বপূর্ণ কোনো বিষয় জড়িত সেখানে পরিষ্কারভাবে কথা বলা দরকার।নিজের সীমারেখা কোথায় সেটা বোঝাও জরুরি।
কিন্তু প্রতিটি ছোটখাটো বিষয় নিয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া বা উত্তর খুঁজে বেড়ানো আমাদের মানসিকভাবে ক্লান্ত করে দিতে পারে।আর অনেক সময় আমরা ভাবি কি যে সবকিছু বুঝে ফেলতে পারলেই হয়তো আমাদের মন শান্ত হবে।কিন্তু বাস্তবে উল্টোও হতে পারে।আর একটা প্রশ্নের উত্তর পাওয়ার পর আরও কয়েকটা প্রশ্ন তৈরি হয়।মানে একটা বিষয় পরিষ্কার করার পর নতুন কোনো বিষয় নিয়ে চিন্তা শুরু হয়।এভাবে চলতে থাকলে কোনো কিছুতেই মন শান্ত থাকে না।আর কিছু কিছু ব্যাপারে ছেড়ে দিতে শেখাও বড় একটা গুণ।কেউ হয়তো আমাদের কথা ভুল বুঝেছে।কিন্তু সবসময় তাকে বোঝানোর প্রয়োজন নেই।কেউ আমাদের সম্পর্কে ভুল ধারণা করেছে সেটাও সবসময় ঠিক করার দায়িত্ব আমাদের না।আর কেউ কেনো দূরে সরে গেলো তার সব কারণ জানাও সবসময় জরুরি না।কখনো কখনো শুধু বুঝতে হয় যে মানুষটা দূরে গেছে আর সেটাকে মেনে নিয়ে নিজের জীবনে এগিয়ে যেতে হয়।লাইফে কিছু প্রশ্নের উত্তর না থাকলেও জীবন থেমে থাকে না।সবকিছুর উত্তর খুঁজতে না গিয়ে কিছু বিষয়কে সময়ের হাতে ছেড়ে দিলে মন অনেক হালকা থাকে।আর সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব না মানে সবকিছু বোঝাও সম্ভব না।কিছু অনিশ্চয়তা জীবনের স্বাভাবিক অংশ।
তো তাই আমি মনে করি কি যে ক্ল্যারিটি চাইবো।ওকে কিন্তু সবকিছুর জন্য না।যেখানে সত্যিই প্রয়োজন সেখানে প্রশ্ন করবো বা কথা বলবো,নিজের অবস্থান পরিষ্কার করবো।আবার যেখানে বিষয়টা ছেড়ে দিলেই শান্তি পাওয়া যায় সেখানে ছেড়ে দেবো।কারণ সবকিছু জানতে পারাই শান্তি না।কিছু কিছু বিষয় না জেনেও শান্তিতে থাকা যায়।লাইফে সব প্রশ্নের উত্তর দরকার নেই।কিছু প্রশ্নের উত্তর সময় দেবে কিছু প্রশ্নের উত্তর হয়তো কখনোই পাওয়া যাবে না।আর কিছু বিষয় নিয়ে উত্তর খোঁজার চেয়ে চুপচাপ ছেড়ে দিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়াটাই হয়তো বেশি ভালো। মানে মেইন হচ্ছে কি নিজের শান্তিটাই তো গুরুত্বপূর্ণ।

