লাইন ক্রস!
আজকে আমি এসেছি আপনাদের সকলের সাথে একটি জেনারেল রাইটিং পোস্ট শেয়ার করতে। আমার লেখার মাধ্যমে আমার চিন্তা ভাবনা গুলো আপনাদের কাছে পৌঁছানোর লক্ষ্যে এই লেখাগুলো শেয়ার করা।
আশা করছি যে আপনারা আপনাদের মূল্যবান মন্তব্যের মাধ্যমেই আমার এই লেখাটি সৌন্দর্য বৃদ্ধি করবেন এবং আপনাদের মতামত ব্যক্ত করবেন। আমি যদি কোনো কিছু ভুল বলে থাকি। তাহলে অবশ্যই আমাকে শুধরে দিতে ভুলবেন না।
আমি পার্সোনালি বিশ্বাস করি যে আসলে প্রত্যেকটা মায়েরা সবসময়ই তাদের বাচ্চাদের ভালো চান।মানে বাচ্চার কী হচ্ছে,কোথায় যাচ্ছে,কার সঙ্গে মিশছে,কী করছে,ভবিষ্যতে কী করবে এসব নিয়ে চিন্তা করা খুব স্বাভাবিক।আসলে একজন মা তার সন্তানকে নিয়ে চিন্তা করবেন,খোঁজ নেবেন,ভুল করলে বুঝিয়ে বলবেন এটা ভালোবাসারই একটা পার্ট।কিন্তু কিছু কিছু সময় আসলে মায়েরা বুঝতেই পারেন না যে কখন ওরা তাদের বাচ্চাদের লাইফের ব্যাপারে নাক গলানোর একটা সীমা পার করে ফেলছেন।ভালো চাওয়া আর সবকিছু নিজের মতো করে নিয়ন্ত্রণ করতে চাওয়ার মধ্যে কিন্তু অনেক পার্থক্য আছে।আসলে বাচ্চারা বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদের নিজের একটা জীবন তৈরি হয়।ওদের নিজের পছন্দ থাকে,অপছন্দ থাকে,সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা তৈরি হয়,নিজের মতো করে কিছু করার ইচ্ছা থাকে।ছোটবেলায় একজন মা হয়তো সন্তানের প্রায় সব সিদ্ধান্তই নিয়ে দিয়েছেন।কিন্তু সন্তান বড় হয়ে গেলে একইভাবে প্রতিটি বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে থাকলে একটা সময় সেই সন্তান নিজের জীবন নিয়েই অস্বস্তিতে পড়তে পারে।মানে কোথায় পড়বে,কী কাজ করবে,কার সাথে বন্ধুত্ব করবে,কখন বাইরে যাবে,কীভাবে সময় কাটাবে এমনকি ব্যক্তিগত অনেক বিষয়েও যদি সবসময় মায়ের মতামতই শেষ কথা হয়ে যায়।তাহলে নিজের সিদ্ধান্ত নেওয়ার অভ্যাসটা তৈরি হয় না।
অনেক সময় মায়েরা চিন্তা থেকেই বেশি প্রশ্ন করেন।মানে এই ধরেন কোথায় ছিলে,কার সাথে ছিলে,এতোক্ষণ কেনো লাগলো,এটা কেনো করলে ওটা কেনো করলে এমন অনেক প্রশ্ন হয়তো তাদের কাছে খুব স্বাভাবিক।কিন্তু একই প্রশ্ন বারবার করতে থাকলে বা প্রতিটি কাজের ব্যাখ্যা চাইতে থাকলে সন্তান একটা সময় মনে করতে পারে যে তাকে বিশ্বাস করা হচ্ছে না।তখন ভালোবাসার জায়গা থেকেও একটা চাপ তৈরি হয়।আবার অনেক মা সন্তানের জীবনে নিজের অপূর্ণ ইচ্ছাগুলোও পূরণ করতে চান। ছোটবেলায় নিজের যে সুযোগ ছিল না,সন্তান যেনো সেটা পায় এটা খুবই স্বাভাবিক চাওয়া।কিন্তু সন্তানকে নিজের ইচ্ছার একটা মাধ্যম বানিয়ে ফেলা ঠিক না। সন্তান কী চায় সেটাও শুনতে হবে।কারণ একজন সন্তান মায়ের খুব কাছের মানুষ হতে পারে।কিন্তু সে মায়ের নিজের আরেকটা নতুনত্ব না।তার নিজের জীবন আছে,নিজের স্বপ্ন আছে,নিজের ভুল করার অধিকারও আছে।
আসলে সন্তানকে ভালোবাসা আর সন্তানের জীবনের প্রতিটি জায়গায় উপস্থিত থাকা এক জিনিস না।কখনো কখনো একটু দূরে দাঁড়িয়ে দেখাটাও ভালোবাসা।সন্তান ভুল করলে সবসময় আগে থেকে গিয়ে তাকে বাঁচিয়ে দেওয়ার বদলে কিছু কিছু ভুল তাকে নিজেকেও বুঝতে দিতে হয়।কারণ নিজের ভুল থেকে শেখার অভিজ্ঞতা অন্য কেউ দিয়ে পুরোপুরি শেখানো যায় না।মানে মায়েদেরও বুঝতে হবে যে সন্তান যতো বড় হবে সম্পর্কের ধরনটাও ততো বদলাতে হবে।ছোটবেলায় যেখানে নির্দেশ দেওয়ার প্রয়োজন বেশি,বড় হওয়ার পর সেখানে পরামর্শ আর বোঝাপড়ার প্রয়োজন বেশি।সব বিষয়ে নিজের মত চাপিয়ে না দিয়ে সন্তানের কথা শোনাবতার সিদ্ধান্তকে সম্মান করা আর প্রয়োজনের সময় পাশে থাকা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।আর একজন সন্তান যেনো নিজের মায়ের কাছে নিজের কথা বলতে ভয় না পায় সেটাই হওয়া উচিত।যেনো কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে শুধু এই ভয় না থাকে যে মা কী বলবেন বরং এমন একটা সম্পর্ক থাকা উচিত যেখানে সন্তান জানে সে নিজের মতো করে সিদ্ধান্ত নিলেও মা তার কথা শুনবেন।ভুল করলে বকা দেওয়ার আগে বোঝার চেষ্টা করবেন।মায়েদের ভালোবাসা নিয়ে প্রশ্ন নেই।কিন্তু ভালোবাসার মধ্যেও সীমারেখা থাকা দরকার।কারণ অতিরিক্ত চিন্তা,অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ আর অতিরিক্ত হস্তক্ষেপ অনেক সময় সম্পর্ককেই দূরে সরিয়ে দিতে পারে।সন্তানকে নিজের মতো করে বড় হতে দেওয়া মানে তাকে ছেড়ে দেওয়ানা।বিশ্বাস করা,ব্যক্তিত্বকে সম্মান করা এবং প্রয়োজনের সময় পাশে থাকা।এই পার্থক্যটা বুঝতে পারা মা ও সন্তানের সম্পর্ককে আরও সুন্দর আর স্বস্তির করে তুলে।

